৯ বছরেও গেজেট হয়নি, ‘ভাষা শহিদ স্টেশন শিলচর’ নামকরণের দাবিতে জোরালো আন্দোলনের সিদ্ধান্ত
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
শিলচর : আজ ‘ভাষা শহিদ স্টেশন শহিদ স্মরণ সমিতি, শিলচর’ আহুত ‘ভাষা শহিদ স্টেশন, শিলচর’ এর দ্রুত কেন্দ্রের প্রস্তাবিত গেজেট নোটিফিকেশন করার জন্য, ‘নাগরিক সভা’কে সফল করবার জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কুৰ্নিশ৷শিলচর রেল স্টেশনের নাম পরিবৰ্তন করে ‘ভাষা শহিদ স্টেশন শিলচর’ করার দাবি ২০০৫ সাল থেকে৷
২০১৬ এর ১০ ফেব্রুয়ারি আসাম সরকার এবং এবং একই সালের ৭ নভেম্বর কেন্দ্রীয় সরকার এতে সবুজ সংকেত দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকার তাদের চিঠিতে রাজ্য সরকারকে বলেছিলেন, শিলচর রেলস্টেশনের নতুন নামের বানান কি হবে সেটা হিন্দি ইংলিশ এবং আঞ্চলিক ভাষায় লিখে একটা গেজেট নোটিফিকেশন করবার জন্য। ৯ বছর অতিক্রান্ত হবার পরেও রাজ্য সরকার এখনও তাতে কোনও পদক্ষেপ নেননি৷
বরাক উপত্যকার মানুষের দীৰ্ঘদিনের সেই গণদাবিকে বাস্তব রূপ দিতে রবিবার শিলচর গান্ধীভবনে এই নাগরিক সভায় শামিল হয়েছেন উপত্যকার বিভিন্ন পেশার মানুষ৷ সৰ্বমোট ২৬ জন বক্তা এ দিন সভায় বক্তব্য রেখেছেন৷‘ভাষা শহিদ স্টেশন শিলচর’ নামকরণের জন্য গেজেট নোটিফিকেশনের দাবিতে নিজস্ব মতামত তুলে ধরেছেন বক্তারা৷ বিভিন্ন বক্তার পরামৰ্শ ও বক্তব্যের নিৰ্যাস টেনে সভায় তিনটি প্ৰস্তাব গ্ৰহণ করা হয়েছে৷
সৰ্বসত সিদ্ধান্ত :
১) খুব কম সময়ের মধ্যে বরাক উপত্যকার জনপ্ৰতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে বহুভাষিক মানুষ সহ দিসপুর গিয়ে রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্ৰীর সাথে সাক্ষাতে ‘ভাষা শহিদ স্টেশন, শিলচর’ এর নামকরণের প্ৰ েঅবিলম্বে রাজ্য সরকারের প্ৰয়োজনীয় গেজেট নোটিফিকেশন করার দাবি জানানো৷
২) এই বিষয়ে যাবতীয় তথ্য জন মানুষকে জানাতে একটি মিডিয়া সেল তৈরি করা৷
৩) ভাষা শহিদ স্টেশন, শিলচর নিয়ে রাজ্য সরকারের অবস্থান জানতে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে আরটিআই করা৷
এ দিন নাগরিক সভার শুরুতে রূপম সাংস্কৃতিক সংস্থার ১৯ জন শিপ্লীর নেতৃত্বে সবাই উদাত্ত কণ্ঠে পরিবেশন করেন গান ‘ডাকে ওই একাদশ শহীদের ভাই…’৷
নীহার রঞ্জন পাল, সাধন পুরকায়স্থ, বাবুল হোড় ও সীমান্ত ভট্টাচাৰ্যের প্ৰিসেডিয়াম এ দিন পুরো সভা পরিচালনা করে৷ এছাড়াও মঞ্চে ছিলেন নিখিল পাল, শতদল আচাৰ্য, দীপঙ্কর ঘোষ, সন্দিপন ধর, মানিক দাস, বিমল রায়, সৌমিত্র দত্তরায়, অমিতাভ দে, নবেন্দু পাল, ঝংকার পাল, সান্তনু রায়, কমল চক্রবর্তী, সুমন দেব, মিন্টু গুপ্ত প্ৰমুখ৷
প্রথমেই ভাষা শহিদ স্টেশন শহিদ স্মরণ সমিতির সম্পাদক রাজীব কর ২০০৫ সাল থেকে এ পৰ্যন্ত এই আন্দোলনের প্ৰেক্ষাপট সম্পৰ্কে সভাকে অবহিত করেন।
এরপর একে একে বিভিন্ন বক্তা নিজেদের সুচিন্তিত মতামত তুলে ধরেন৷ অনুষ্ঠানের শেষে সুরমন্দির-এর শিপ্লীরা পরিবেশনায় ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্ৰাণে…’ পরিবেশন করেন৷ এ দিন নাগরিক সভায় বিভিন্ন ট্রাফিক গোষ্ঠীর মানুষসহ উপস্থিতির খাতায় স্বাক্ষর করেছেন মোট ২৩৮ জন৷ তবে স্বাক্ষর বহিৰ্ভূত অনেকেই ছিলেন৷ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সামগ্ৰিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেবে ভাষা শহিদ স্টেশন শহিদ স্মরণ সমিতি, শিলচর৷
Promotional | North East Integration Rally




