কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ অক্টোবর থেকে মণিপুরের অধিকাংশ এলাকায় আরও ছয় মাস AFSPA কার্যকর থাকবে। তবে ১৩টি নির্দিষ্ট থানার আওতাধীন এলাকা এই ঘোষণার বাইরে রাখা হয়েছে।
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
ইম্ফল: মণিপুরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে কেন্দ্রের AFSPA-নির্ভর ব্যবস্থা। রাজ্যের অধিকাংশ এলাকায় আরও ছয় মাসের জন্য সশস্ত্র বাহিনী (বিশেষ ক্ষমতা) আইন বা AFSPA-এর মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তের মধ্যেই মায়ানমার সীমান্তের কাছে কামজং জেলায় সশস্ত্র হামলায় চার টাঙ্গখুল নাগা গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে সীমান্তবর্তী এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ অক্টোবর থেকে মণিপুরের অধিকাংশ এলাকায় আরও ছয় মাস AFSPA কার্যকর থাকবে। তবে ১৩টি নির্দিষ্ট থানার আওতাধীন এলাকা এই ঘোষণার বাইরে রাখা হয়েছে। ২০২৩ সালে রাজ্যে জাতিগত হিংসা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে AFSPA-এর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের মধ্যেই বৃহস্পতিবার মায়ানমার সীমান্তের কাছে কামজং জেলার পিলং গ্রামে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাঁচ গ্রামবাসীর একটি দলের উপর হামলা চালানো হয়। তাঁদের মধ্যে একজন পালিয়ে গিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। পরে পুলিশ ও অসম রাইফেলসের সদস্যরা এলাকায় গিয়ে তল্লাশি চালিয়ে চারজনের দেহ উদ্ধার করেন।
নিহতরা হলেন ফামি জাজো (৪৩), নিংথেম কাশাক (৩৫), বেটারসন জাজো (৫০) এবং ভারেশিম জাজো (৬৭)। চারজনই টাঙ্গখুল নাগা সম্প্রদায়ের। পিলং গ্রামটি কামজং জেলা সদর থেকে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দূরে ভারত-মায়ানমার সীমান্তের কাছে অবস্থিত।
এই হামলার দায় এখনও কোনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর উপর নিশ্চিতভাবে চাপানো হয়নি। নাগা সংগঠনগুলির অভিযোগ, মায়ানমারভিত্তিক কুকি ন্যাশনাল আর্মি-বার্মা এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী এই হামলার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। পুলিশ এখনও হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করেনি এবং অভিযোগগুলিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পর টাঙ্গখুল নাগা লং ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার বন্ধের ডাক দিয়েছে। চিকিৎসা পরিষেবা, বিদ্যুৎ, দমকল এবং শেষকৃত্যের প্রয়োজনীয় যাতায়াতকে বন্ধের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
চার নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই কেমচাঁদ সিং শোকপ্রকাশ করে হামলার নিন্দা করেছেন। ভারত-মায়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বিধায়ক এল কেইশিং।
AFSPA নিয়ে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে মণিপুরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও ফের আলোচনা শুরু হয়েছে। আইনের ৩ নম্বর ধারায় সরকার কোনও এলাকাকে ‘অশান্ত এলাকা’ ঘোষণা করতে পারে, যদি সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করা হয়। সেই ঘোষণার ফলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনীকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়।
টাঙ্গখুল নাগা যুব সংগঠন খানুইথট-খোনও নাগা অধ্যুষিত এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আরও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির কার্যকলাপের ক্ষেত্রে জবাবদিহির দাবিও তুলেছে।
কামজংয়ের এই হামলা এবং তার পরপরই AFSPA-এর মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত—দুটি ঘটনাই মণিপুরের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে ফের আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। দীর্ঘস্থায়ী জাতিগত সংঘাতের আবহে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নও নতুন করে সামনে এসেছে।


