পিতামহ ভীষ্মের প্রয়াণে গভীর শোকস্তব্ধ রাজনৈতিক মহল
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
শিলচর। উত্তরপূর্বাঞ্চলের রাজনীতিতে এক বিশাল মহীরুহের পতন ঘটল। ভারতীয় জনতা পার্টির অন্যতম প্রধান স্থপতি, প্রবীণ রাজনীতিক তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কবীন্দ্র পুরকায়স্থ আর নেই। জীবনযুদ্ধের দীর্ঘ লড়াই শেষে ৯৪ বছর বয়সে তিনি চিরবিদায় নিলেন। অসম বিজেপির ‘পিতামহ ভীষ্ম’-এর প্রয়াণে কেবল বরাক উপত্যকা নয়, সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি যুগের অবসান হলো।
বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপসহ একাধিক শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এই প্রবীণ জননেতা। গত ২৩ ডিসেম্বর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে শিলচর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ-তে ভর্তি করা হয়। পরবর্তী সময়ে অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় তাঁকে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। চিকিৎসকদের সমস্ত প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে বুধবার বিকেল ৫টা ৬ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। যদিও এর আগেই তাঁর মৃত্যুর খবর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল, তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণাটি করেন।
পিতামহ ভীষ্মের প্রয়াণে গভীর শোকস্তব্ধ রাজনৈতিক মহল। তাঁর সম্মানে বুধবার ও বৃহস্পতিবার অসম বিজেপির সমস্ত দলীয় কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছে। লক্ষ্মীপুরে আয়োজিত কাছার জেলা বিজেপির কার্যনির্বাহক সভার বিকেলের সমস্ত পর্ব বাতিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর মরদেহ হাসপাতাল থেকে বাসভবনে নেওয়া হবে।
সকাল ৯টায় দলীয় কার্যালয়ে এবং ১০টা থেকে শিলচর জেলা ক্রীড়া সংস্থার (ডিএসএ) মাঠে তাঁর নশ্বর দেহ শায়িত রাখা হবে সাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। এরপর পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শিলচর শ্মশানঘাটে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
কবীন্দ্র পুরকায়স্থের জন্ম ১৯৩১ সালে তৎকালীন শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার কামারখাইল গ্রামে। শিক্ষাজীবনে গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি করিমগঞ্জের রামকৃষ্ণ বিদ্যাপীঠের অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। কিন্তু আদর্শের টানে ১৯৫১ সালে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘে (আরএসএস) যোগ দেন এবং পরে শিক্ষকতার পেশা ত্যাগ করে নিজেকে সংগঠনের জন্য পূর্ণকালীন কর্মী হিসেবে উৎসর্গ করেন। ১৯৮০ সালে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দলের আদর্শ প্রসারে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
শিলচর লোকসভা কেন্দ্র থেকে তিনি ১৯৯১, ১৯৯৮ এবং ২০০৯ সালে তিনবার সাংসদ নির্বাচিত হন। বিশেষত ২০০৯ সালে হেভিওয়েট প্রতিদ্বন্দ্বী সন্তোষ মোহন দেব এবং বদরুদ্দিন আজমলকে পরাজিত করে তাঁর সংসদে প্রত্যাবর্তন ছিল এক ঐতিহাসিক ঘটনা। অটল বিহারী বাজপেয়ীর মন্ত্রিসভায় তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জনজীবনে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অসম বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ‘ডক্টরেট’ ডিগ্রি প্রদান করে। কবীন্দ্র পুরকায়স্থের মৃত্যুতে অসমের রাজনীতিতে যে শূন্যতার সৃষ্টি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তাঁর লড়াকু মানসিকতা এবং আদর্শনিষ্ঠ জীবন আগামী প্রজন্মের রাজনীতিকদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
Promotional | North East Integration Rally




