রাঙ্গিরখাল থেকে দশ দিনের মধ্যে অবৈধ দখল সরাতে কড়া নির্দেশ, অন্যথায় কঠোর ব্যবস্থা

2 - মিনিট |

প্রশাসন জানিয়েছে, জননিরাপত্তা, শহরের পরিকাঠামো রক্ষা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো

শিলচর : আসন্ন বর্ষায় শহরবাসীকে কৃত্রিম বন্যা ও জল জমার মারাত্মক ঝুঁকি থেকে বাঁচাতে দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছে কাছাড় জেলা প্রশাসন। শিলচরের গুরুত্বপূর্ণ নিকাশি খাল, রাঙ্গিরখালের স্বাভাবিক জলপ্রবাহে বাধা সৃষ্টিকারী সমস্ত অবৈধ ও অননুমোদিত নির্মাণ অবিলম্বে অপসারণের জন্য কড়া নির্দেশ জারি করা হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, জননিরাপত্তা, শহরের পরিকাঠামো রক্ষা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই কঠোর পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে শিলচরের জলসম্পদ বিভাগের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের দাখিল করা একটি বিস্তারিত ক্ষেত্রসমীক্ষা ও প্রতিবেদন। ওই প্রতিবেদনে মহিষাবিল পয়েন্ট থেকে সানলিট হাসপাতাল পর্যন্ত রাঙ্গিরখালের একাধিক অংশে গড়ে ওঠা অননুমোদিত কংক্রিট ও বাঁশের সেতু, অস্থায়ী পারাপার ব্যবস্থা এবং অন্যান্য নির্মাণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলি খালের স্বাভাবিক জলপ্রবাহে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

ওই প্রতিবেদন স্পষ্ট জানিয়েছে, এইসব অবৈধ নির্মাণ খালের মধ্যে কৃত্রিম বাধা তৈরি করে জলপ্রবাহকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করছে। এর ফলে খালের নিয়মিত পলি অপসারণ ও নিকাশি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রত্যক্ষ ফল ভুগতে হচ্ছে পার্শ্ববর্তী আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকার বাসিন্দাদের, যেখানে বর্ষায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। মানবজীবন, সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ নগর পরিকাঠামোর উপর সম্ভাব্য এই বিপদকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে জেলা প্রশাসন দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগী হয়েছে।

২০০৫ সালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনের প্রাসঙ্গিক ধারা প্রয়োগ করে জেলা আয়ুক্ত এবং জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের চেয়ারপার্সন মৃদুল যাদব এক কড়া নির্দেশ জারি করেছেন। এতে সংশ্লিষ্ট সকল নাগরিক, প্রতিষ্ঠান ও দোকানদারকে রাঙ্গিরখালের উপর বা এর সংলগ্ন এলাকায় নির্মিত সকল অননুমোদিত অস্থায়ী বা স্থায়ী স্থাপনা আদেশ জারির তারিখ থেকে দশ দিনের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসন অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, এই নির্দেশ অমান্য করা হলে কর্তৃপক্ষ নিজেই উচ্ছেদ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সমস্ত খরচ ও ঝুঁকির দায়ভার নির্দেশ অমান্যকারীদেরই বহন করতে হবে।

অবৈধ দখল ও নির্মাণ অপসারণের পর, জলসম্পদ বিভাগ শিলচর পুরনিগমসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দফতরের সাথে সমন্বয় করে রাঙ্গিরখালের ওই অংশে পলি অপসারণ ও পুনরুদ্ধার কাজ শুরু করবে। এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য হলো খালের স্বাভাবিক জলপ্রবাহ পুনরায় নিশ্চিত করা, ভারি বৃষ্টিপাতের সময় নিরবচ্ছিন্ন নিকাশি বজায় রাখা এবং শহরের নিচু এলাকাগুলিতে বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা।

আদেশে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে: ভবিষ্যতে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া রাঙ্গিরখাল বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক নিকাশি ব্যবস্থার উপর কোনো অস্থায়ী বা স্থায়ী নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই বিধান আরোপ করা হয়েছে প্রাকৃতিক জলপথ সংরক্ষণ, বেআইনি দখল রোধ এবং জলবায়ুজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় শহরের সক্ষমতা বাড়াতে। জেলা প্রশাসন আশাবাদী, এই পদক্ষেপের ফলে শিলচরের নিকাশি ব্যবস্থাপনা এবং বর্ষা মোকাবিলার প্রস্তুতি আরও মজবুত হবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related news