আটক স্ত্রী সহ প্রেমিক
অজিত দাস
ধলাই : গত ১০ আগস্ট কাছাড় জেলার ধলাইয়ের খুলিছড়া রাজনগর গ্রামের পঞ্চায়েত সভাপতি ইমরান হুসেইনের মৃত্যু হয়। পরিবারসহ স্থানীয়রা প্রথমে ঘটনাটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে ধরে নিয়েছিলেন। কিন্তু মৃত্যুর দশ দিন পর প্রকাশ্যে আসে চাঞ্চল্যকর সত্য—ইমরানের স্বাভাবিকভাবে মৃত্যু হয়নি, তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। আর এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তাঁরই স্ত্রী ও স্ত্রীর অবৈধ প্রেমিক। গতরাতে ইমরানের কিছু ঘনিষ্ঠ বন্ধু এই ঘটনার আসল রহস্য উদঘাটন করেন।
সূত্রে জানা যায়, ইমরানের স্ত্রী রীনা বেগমের সঙ্গে ইমরানের ব্যক্তিগত গাড়ির চালক বিজু আহমেদের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। একবার ইমরান এ সম্পর্কের খবর পেয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তীব্র ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়েন এবং এরপর বিজুকে চাকরি থেকে বের করে দেন। ইমরানের আকস্মিক মৃত্যুর পর থেকেই তাঁর কিছু আত্মীয় ও বন্ধুদের মনে সন্দেহ দেখা দেয়। গতরাতে ইমরানের কয়েকজন বন্ধু বিজু আহমেদকে আটক করে তাঁর মোবাইল ফোন পরীক্ষা করেন। তাতে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তারা নিশ্চিত হন যে ইমরানকে হত্যা করা হয়েছে।
বন্ধুদের চাপের মুখে বিজু শেষমেশ স্বীকার করে যে, রীনা বেগমের সঙ্গে তাঁর অবৈধ সম্পর্ক ছিল এবং সেই কারণেই তারা দু’জনে মিলে ইমরানকে হত্যা করেছে। বিজুর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, সে বাজার থেকে বিষ কিনে এনে রীনাকে দিয়েছিল। রীনা সেই বিষ খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে স্বামী ইমরানকে খাইয়ে দেয়। হত্যার কথা স্বীকার করার পর ইমরানের বন্ধুরা বিজুকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
অন্যদিকে, স্ত্রী রীনা বেগম প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীকে হত্যা করেছে—এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চাঞ্চল্য দেখা দেয়। শত শত মানুষ ভিড় জমায় ইমরানের বাড়িতে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ বিপুল বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় এবং প্রধান অভিযুক্ত রীনা বেগমকে গ্রেপ্তার করে। একই সঙ্গে রীনার ভাইবোন ও বাবাকেও পুলিশ হেফাজতে নেয়।এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে ধলাই জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
Promotional | North East Integration Rally


