গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম অরুণ কুমার চন্দ স্মারক বক্তৃতা
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
শিলচর : শিক্ষা কি কেবল সঠিক উত্তরের নিরন্তর অনুশীলন, নাকি প্রশ্ন করার সাহস অর্জন? সংখ্যা কি কেবলই গাণিতিক হিসেব, নাকি তার অন্তরালে লুকিয়ে থাকে গভীর জীবনদর্শন ও কল্পনা? এই মৌলিক ও চিন্তাশীল প্রশ্নগুলোকে পাথেয় করে গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল প্রথম ‘অরুণ কুমার চন্দ স্মারক বক্তৃতা’। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইন্টারনাল কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স সেল’ (IQAC)-এর উদ্যোগে ভাষা শহিদ স্মৃতি মঞ্চে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মূল বিষয় ছিল— “হিসেবের সহজপাঠ: অনুমানের বিজ্ঞানকাব্য”।
প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন বরেণ্য বিজ্ঞানী ও প্রাবন্ধিক ড. বিমান বিহারী নাথ। উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত জননেতা অরুণ কুমার চন্দের পুত্র অমাজিৎ কুমার চন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডঃ নিরঞ্জন রায়, আইকিউএসি-এর অধিকর্তা ড. কৃষ্ণ চন্দ্র দাস এবং বিশিষ্ট অতিথি জয়দীপ পালসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা।

স্মারক বক্তৃতায় মূল বক্তা ড. বিমান বিহারী নাথ নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। গুরুচরণ কলেজের প্রাক্তনী হিসেবে গর্ব প্রকাশ করে তিনি বলেন, তাঁর জীবনের সাফল্যের বুনিয়াদ এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই গড়ে দিয়েছিল। বর্তমান সময়ের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ইন্টারনেট-নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিনি ক্লাসরুমের পঠনপাঠন পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তনের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “যে তথ্য শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেটে এক নিমেষে পেয়ে যায়, শ্রেণিকক্ষে কেবল তারই পুনরাবৃত্তি হলে পাঠদানের সার্থকতা থাকে না। শ্রেণিকক্ষকে হতে হবে কৌতূহল উদ্দীপক ও অংশগ্রহণমূলক।” বিজ্ঞানের তত্ত্বে ‘অনুমান’ -এর গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, সব হিসেবই নিখুঁত হতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। অনেক সময় সঠিক অনুমানের ওপর ভিত্তি করেই বিজ্ঞানের বড় বড় আবিষ্কার সম্ভব হয়েছে। তাঁর মতে, অনুমান ভুল নয়, বরং এটি সত্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার এক সৃজনশীল পদক্ষেপ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অমাজিৎ কুমার চন্দ গুরুচরণ কলেজ প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে থাকা সংগ্রামের অজানা ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি তাঁর পিতা অরুণ কুমার চন্দ এবং মাতা জ্যোৎস্না চন্দের আদর্শের কথা সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করেন। ১৯৩০-এর দশকে অবিভক্ত কাছাড় জেলায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত।
সেই কঠিন সময়ে কিরণ শশী নাথের ১০ হাজার টাকার অনুদান এবং অরুণ কুমার চন্দের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এই কলেজ গড়ে ওঠে। পারিবারিক সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অমাজিৎ বাবু বলেন, তাঁর বাবার কারাবাসকালীন সময়ে মা জ্যোৎস্না চন্দ যে অসীম ধৈর্যের সঙ্গে সংসার ও আদর্শকে ধরে রেখেছিলেন, তা অতুলনীয়। তিনি আরও বলেন, “প্রত্যেক সফল পুরুষের অন্তরালে একজন শক্তিশালী নারীর অবদান থাকে।” তাঁর বক্তব্যে পিতার সংগীতানুরাগ ও বহুমাত্রিক প্রতিভার দিকটিও ফুটে ওঠে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অনামিকা চক্রবর্তী অরুণ কুমার চন্দের সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করেন এবং ড. কৃষ্ণ চন্দ্র দাস স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন। আলোচনার শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশিত একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই তাৎপর্যপূর্ণ আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
Promotional | North East Integration Rally



