সরকারি প্রকল্পের সফল রূপায়ণে জোর
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
শিলচর : সরকারি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোকে প্রান্তিক কৃষকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং নবনিযুক্ত কর্মীদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করল কাছাড় জেলা কৃষি বিভাগ। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে সোমবার থেকে শিলচরের মেহেরপুরস্থিত কৃষি প্রশিক্ষণ ভবনের প্রেক্ষাগৃহে শুরু হয়েছে নবনিযুক্ত কৃষি সম্প্রসারণ সহায়কদের ছয় দিনব্যাপী এক বিশেষ পরিচিতি পর্ব ও নিবিড় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কাছাড়ের জেলা কৃষি আধিকারিক ড. রাহুল চক্রবর্তী।
উদ্বোধনী ভাষণে জেলা কৃষি আধিকারিক নবনিযুক্ত কৃষি সম্প্রসারণ সহায়কদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, সহায়করা ইতিমধ্যে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে কাজে যোগদান করলেও তাঁদের পেশাদারিত্বের মান উন্নয়ন এবং সরকারি প্রকল্পগুলো সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ড. চক্রবর্তী বলেন, ‘কৃষি বিভাগ ও কৃষকদের মধ্যে প্রধান সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেন এই সহায়করা। তৃণমূল স্তরে প্রকল্পের সফল রূপায়ণে এই প্রশিক্ষণ তাঁদের বিশেষভাবে ঋদ্ধ করবে।’ কৃষকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সহায়কদের আরও তৎপর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ছয় দিনের এই বিস্তারিত কর্মসূচিতে কৃষি বিভাগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প নিয়ে আলোকপাত করা হচ্ছে। বিশেষ করে ‘প্রধানমন্ত্রী কৃষি সিচাই যোজনা’, ‘রাষ্ট্রীয় ভোজ্য তেল মিশন’, ‘প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা’ এবং ‘প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি’র মতো বৃহৎ প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে সহায়কদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া কৃষক পঞ্জীয়ন, শস্য জরিপ এবং মৃত্তিকা পরীক্ষার মতো প্রযুক্তিগত বিষয়গুলোতে হাতে-কলমে শিক্ষার পাশাপাশি ক্ষেত্র পরিদর্শনের (Field Visit) ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মসূচিতে উপস্থিত রয়েছেন মহকুমা কৃষি আধিকারিক হিতেশ ডেকা, ড. নিখিল চন্দ্র দাস, জয়নাল আবেদিন সহ কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের অভিজ্ঞ বিজ্ঞানী, কৃষি উন্নয়ন আধিকারিক ও কৃষি পরিদর্শকগণ। প্রশিক্ষণে স্থানীয় জলবায়ু ও মাটির গুণাগুণ বিচার করে উন্নত বীজ নির্বাচন এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই ধরনের প্রশিক্ষণের ফলে জেলায় কৃষকদের পরিষেবা প্রদানের গতি আরও ত্বরান্বিত হবে।



