বিএএএস (BaaS) মডেলে আকর্ষণীয় মূল্য, বিএসএনসিএপি ৫-স্টার নিরাপত্তা রেটিং
বিশ্বদীপ গুপ্ত
শিলচর : পরিবেশবান্ধব পরিবহণ ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে শিলচরের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করল সুজুকির প্রথম ব্যাটারিচালিত ইলেকট্রিক ভেহিকেল ‘ই-ভিটারা’। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিলচরের রংপুরস্থিত জৈন উদ্যোগ পরিচালিত ‘নেক্সা’ শোরুমে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অত্যাধুনিক এই সাব-কম্প্যাক্ট ক্রসওভার এসইউভি-টির আবরণ উন্মোচন করা হয়।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুই রাজ্যসভা সাংসদ কণাাদ পুরকায়স্থ ও সুস্মিতা দেব। এছাড়াও শহরের বহু বিশিষ্ট নাগরিক ও অটোমোবাইল উৎসাহীরা এই মাহেন্দ্রক্ষণের সাক্ষী হতে উপস্থিত ছিলেন। জৈন উদ্যোগের ব্রাঞ্চ হেড বিপ্লব দে অতিথিদের স্বাগত জানান এবং গাড়ির বিভিন্ন কারিগরি দিক ও বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন।
মারুতি সুজুকি তাদের এই প্রথম ইভি-র ক্ষেত্রে এক বিশেষ বিপণন কৌশল গ্রহণ করেছে। ‘ব্যাটারি-অ্যাজ-এ-সার্ভিস’ (BaaS) অফারে গাড়িটির এক্স-শোরুম প্রারম্ভিক মূল্য রাখা হয়েছে ১০.৯৯ লক্ষ টাকা (সঙ্গে প্রতি কিলোমিটারে ব্যাটারি রেন্টাল ৩.৯৯ টাকা)। তবে ব্যাটারি সহ সরাসরি ক্রয়ের ক্ষেত্রে ভ্যারিয়েন্ট ভেদে এর দাম ১৫.৯৯ লক্ষ থেকে ২০.০১ লক্ষ টাকার মধ্যে।

ই-ভিটারা প্রধানত তিনটি ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাচ্ছে— ডেল্টা (৪৯ কিলোওয়াট ঘণ্টা), জিটা এবং আলফা (৬১ কিলোওয়াট ঘণ্টা)। নিরাপত্তার দিক থেকে এতে রয়েছে লেভেল-২ এডাস (ADAS), ৩৬০-ডিগ্রি ক্যামেরা এবং ইলেকট্রিক সানরুফ।
উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহারের ফলে এটি মাইনাস ৩০ ডিগ্রি থেকে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেও নির্বিঘ্নে চলতে সক্ষম।
উল্লেখ্য, বিএসএনসিএপি (BNCAP) ক্র্যাশ টেস্টে ই-ভিটারা ৫-স্টার রেটিং অর্জন করে নিজের নিরাপত্তা ও স্থায়িত্বের প্রমাণ দিয়েছে।
কোম্পানির পক্ষ থেকে ব্যাটারির ওপর ৮ বছর বা ১ লক্ষ ৬০ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত ওয়ারেন্টি দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যালোচনায় গাড়িটির অফ-রোড সক্ষমতা (AWD ভ্যারিয়েন্ট) এবং শান্ত ও মসৃণ ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা বিশেষ প্রশংসা কুড়িয়েছে।
বর্তমানে গাড়িটির জন্য ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হতে পারে। তবে চলতি বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত জোগান কিছুটা সীমিত থাকলেও ইতিমধ্যে গাড়িটির হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।
প্রসঙ্গত, বরাক উপত্যকায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ গাড়ির শোরুম চালুর কৃতিত্ব অর্জনকারী সংস্থা ‘জৈন উদ্যোগ’ বর্তমানে ত্রিপুরা ও বরাক উপত্যকা মিলিয়ে প্রায় ৮০০ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। ই-ভিটারার আগমনে উপত্যকায় বৈদ্যুতিক যানের জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।





