শিশুর কল্পনাশক্তি বিকাশে চিত্রশিল্পের ভূমিকা অপরিসীম, অভিমত
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
শিলচর : চিত্রশিল্প মানুষকে সৃজনশীলতার পথে পরিচালিত করে এবং বিশেষ করে কোমলমতি শিশুদের কল্পনাশক্তি বিকাশে এর ভূমিকা অনন্য। গত রবিবার শিলচরের গান্ধী ভবনে ‘পুষ্প আর্ট ইউনিট-এর ১৯তম বার্ষিক উৎসব ও আর্ট ফেস্টিভ্যালে প্রধান অতিথির ভাষণে এই অভিমত ব্যক্ত করেন সংস্থার সভাপতি তথা বিশিষ্ট শিল্পপতি ঈশ্বরভাই উবাদিয়া।
প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা করে ঈশ্বরভাই উবাদিয়া বলেন, শিশুদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ এবং তাদের মননশীলতাকে আরও বিস্তৃত করতে চিত্রচর্চা এক বলিষ্ঠ মাধ্যম। এদিনের অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী ড. স্বপন সিনহা।
তিনি তাঁর বক্তব্যে চিত্রশিল্পের সুদীর্ঘ ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “পৃথিবীর প্রাচীনতম শিল্প হলো চিত্রশিল্প। আদিম মানুষ যখন ভাষার ব্যবহার জানত না, তখন গুহার দেওয়ালে আঁকিবুঁকি করেই মনের ভাব আদান-প্রদান করত।” বর্তমান সময়ে পেশা বা ক্যারিয়ার হিসেবেও চিত্রশিল্পের যে উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে, তা উল্লেখ করে তিনি অভিভাবকদের প্রতি সন্তানদের এই সৃজনশীল কাজে আরও বেশি উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট উদ্যোক্তা ও সমাজকর্মী স্বর্ণালী চৌধুরীকে ‘পুষ্প সাহা স্মৃতি স্মারক সম্মান’-এ ভূষিত করা হয়। সম্মাননা গ্রহণ করে তিনি শিশুদের সৃজনশীলতায় নিরন্তর প্রেরণা দেওয়ার জন্য সংস্থার কর্ণধার শ্যামল সাহা ও পুষ্প আর্ট ইউনিটের ভূয়সী প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট চিকিৎসক দীপঙ্কর দাস তাঁর বক্তব্যে বলেন, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই শিল্পের ছোঁয়া রয়েছে; শিল্পহীন জীবন কখনও আনন্দময় হতে পারে না।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শান্তি ভট্টাচার্য ও তাঁর সহযোগীরা উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন। সংস্থার সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের মধুর স্মৃতির কথা তুলে ধরেন বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী শিবানী দাস। এ ছাড়াও প্রাসঙ্গিক বক্তব্য রাখেন মানসী হালদার। পুষ্প আর্ট ইউনিটের সম্পাদক ও বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী শ্যামল সাহা সংস্থার দীর্ঘ পথচলার এক সংক্ষিপ্ত খতিয়ান তুলে ধরেন। এদিন সমাজ ও শিল্পকলার ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ১০ জন কৃতী শিল্পী-শিক্ষককে বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য, এই উৎসবের অঙ্গ হিসেবে গত শনিবার আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন ভাস্কর স্বপন সিনহা এবং অধ্যাপক গণেশ নন্দী। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সুচারুভাবে পরিচালনা করেন শ্যামল সাহা ও বিবেক আচার্য।



