দুই দিনের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে ঐক্য, শান্তি ও সমন্বয়ের বার্তা
অজিত দাস
শিলচর : ঐক্য, শান্তি ও সমন্বয়ের সংকল্পকে সামনে রেখে আজ থেকে শিলচরের বঙ্গভবনে শুরু হলো অসম সাহিত্য সভার ২০২৫-২০২৭ কার্যবর্ষের তৃতীয় পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী অধিবেশন। দুদিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের সূচনা হয় আজ সকালে কাছাড় জেলা সাহিত্য সভার সভাপতি ড. যোগেশ্বর বর্মনের হাতে পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে। পরে অনুষ্ঠিত হয় স্মৃতিতর্পণ পর্ব।
এরপর আসাম রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত সভার বিষয়বস্তু ও কার্যনির্বাহী সদস্যদের নাম নিবন্ধনের পর অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অসম সরকারের মন্ত্রী ও আদরণী সমিতির কার্যনির্বাহী সভাপতি কৌশিক রায়। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় অসমের হৃদয়ের স্পন্দন জুবিন গার্গের কালজয়ী গান ‘মায়াবিনী’-এর সুরে। এই উপলক্ষে অতিথিবৃন্দ ভারতরত্ন ড. ভূপেন হাজারিকা, লোকসঙ্গীত শিল্পী কালিকা প্রসাদ ভট্টাচার্য ও সংগীতশিল্পী জুবিন গার্গকে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন।
অসম সাহিত্য সভার সভাপতি ড. বসন্তকুমার গোস্বামীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কার্যনির্বাহী সভায় ‘বরাক বৈভব’ স্মারকগ্রন্থ, অসম সাহিত্য সভার পত্রিকা ও বার্তার আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করেন যথাক্রমে অসম সাহিত্য সভার সভাপতি ড. বসন্তকুমার গোস্বামী,
কাছাড়ের পুলিশ সুপার নোমাল মাহাত্তা, শিলচরের বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তী, অসম সাহিত্য সভার উপসভাপতি পদুম রাজখোয়া, আউনীআটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মাধুর্যমণ্ডিত বৰুৱা এবং লোকসংস্কৃতি গবেষক ও মরাণ মহাবিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ড. অনিল শইকীয়া।
আদরণী ভাষণে মন্ত্রী কৌশিক রায় বলেন, “বরাক ও ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার মধ্যে সম্পর্ক ও ঐক্য আরও দৃঢ় করতে এই শিলচর অধিবেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।” তিনি জানান, লাচিত বরফুকনের মতো কাছাড় জেলাতেও ভূপেন হাজারিকার একটি মূর্তি নির্মাণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, অসম সাহিত্য সভার নেতৃত্বে রাজ্যের প্রতিটি জেলাতে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী পালনের উদ্যোগের কথাও তিনি ঘোষণা করেন।
মন্ত্রী আরও আশা প্রকাশ করেন যে ‘বরাক বৈভব’ নামের এই গ্রন্থ দুই উপত্যকার মধ্যে বিদ্যমান মানসিক দূরত্ব দূর করে এক সেতুবন্ধন তৈরি করবে।
Promotional | North East Integration Rally



