সংখ্যালঘু নির্যাতন: বরাকের আওয়াজের বিক্ষোভে শামিল বহু ধর্মীয় সংগঠন

2 - মিনিট |

বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি

কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো

শিলচর : বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর ধারাবাহিক হামলা, লুটপাট, ভীতি প্রদর্শন ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোমবার এক বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করে সামাজিক সংগঠন ‘বরাকের আওয়াজ’। এই প্রতিবাদী কর্মসূচিতে ভারত সেবাশ্রম সংঘ, শঙ্কর মঠ ও মিশন, ইসকন-সহ একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, সমাজকর্মী, আইনজীবী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারত সেবাশ্রম সংঘের গুণসিন্ধু মহারাজ বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর চলমান বর্বরতা ও নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে হিন্দু সম্প্রদায়কে সংগঠিত হওয়ার। প্রতিবেশী রাষ্ট্রে হিন্দুদের উপর যে নৃশংস অত্যাচার চলছে, তা কেবল মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়, সমগ্র সভ্য সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনার প্রেক্ষিতে ভারত সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং বরাক উপত্যকার সর্বস্তরের হিন্দু সমাজের পক্ষ থেকে ঐক্যের বার্তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরামর্শ দেন।

ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ভারতের সহায়তাতেই বাংলাদেশের জন্ম হলেও আজ সেই দেশেই হিন্দু সম্প্রদায় ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন—যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপেরও দাবি জানান তিনি।

শিলচর শঙ্কর মঠ ও মিশনের কর্মাধ্যক্ষ শ্রীমৎ বিজ্ঞানানন্দ ব্রহ্মচারী বাংলাদেশের বর্বর মৌলবাদী শক্তির ধারাবাহিক আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, সে দেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি আজ বিশ্ববাসীকে আতঙ্কিত ও স্তম্ভিত করে তুলেছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকেই বাংলাদেশে মৌলবাদী শক্তির প্রভাব ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রত্যক্ষ ফল ভোগ করছে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়। বারবার তারা নির্যাতন, লুটপাট ও সহিংসতার শিকার হচ্ছে।

বলেন,আমাদের দেশেই এমন কিছু মানুষ রয়েছেন যারা এ দেশের অন্নে প্রতিপালিত হয়েও পাকিস্তান ও বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলেন, অথচ ওই দেশগুলোর করুণ বাস্তবতা আজ সবার সামনে স্পষ্ট। ঐতিহাসিক তথ্য তুলে ধরে বলেন, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও কাশ্মীর থেকে গত কয়েক দশকে বিপুল সংখ্যক হিন্দু পরিবার প্রাণভয়ে দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতেতিনি সকল হিন্দুকে সচেতন, সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের অস্তিত্ব, নিরাপত্তা ও সংস্কৃতি রক্ষার আহ্বান জানান।
সমাজকর্মী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রূপম নন্দী পুরকায়স্থ বলেন, বাংলাদেশ যে ভাষায় কথা বললে বোঝে, সেই ভাষাতেই জবাব দেওয়া প্রয়োজন।

তাঁর কথায়, এই বিষয়ে ভারত সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। বলেন, সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর ধারাবাহিক হামলা, ভীতি প্রদর্শন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় কেবল কূটনৈতিক উদ্বেগ যথেষ্ট নয়। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে সকল ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি তোলেন। একই সঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ভারতের সেনাবাহিনীর আত্মত্যাগের ফলেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক স্তরে চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানান।

ইসকনের শিরোমণি বলদেব দাস বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের জীবন, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোরালো দাবি জানান। আইনজীবী তুহিনা শর্মা বলেন, বাংলাদেশে ইতিমধ্যে হাজারেরও বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং সেখানে আইনের শাসন কার্যত অনুপস্থিত। যারা মানবাধিকারের মূল্য বোঝে না, সেই দেশের নাগরিকদের প্রতিচিকিৎসা ও শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেওয়া উচিত নয়। এ বিষয়ে ভারত সরকারের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিজেপির এসসি মোর্চার জেলা সভাপতি স্বপন শুক্লবৈদ্য। তিনি বলেন, ভারতবর্ষ একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হলেও প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর যেভাবে নির্যাতন চলছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়। বাংলাদেশ ইস্যুতে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এছাড়াও প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন রাজীব কর, দিলীপ সিং, হৃষিকেষ চক্রবর্তী, পীযূষ চক্রবর্তী ও কৃষাণু ভট্টাচার্য।বরাকের আওয়াজের তরফে উপস্থিত ছিলেন আহ্বায়ক সৌমিত্র দত্তরায়, জয়দীপ দত্ত, প্রথমা দত্তরায়, অর্পণ পাল, মনোজ কান্তি দাস, শান্তনু রায়, অনুপ দেব, দিলু দাস, ঝঙ্কার পাল, শতদল আচার্য প্রমুখ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related news