পুরনিগমের দায়সারা কাজে ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা, স্থায়ী সমাধানের দাবি
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
শিলচর। শিলচর শহরের দীর্ঘদিনের অভিশাপ ‘জমাজল’ থেকে মুক্তি দিতে রাজ্য সরকারের নগরায়ন ও পরিকল্পনা বিভাগের উদ্যোগে শহরজুড়ে ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণ করা হয়েছে। আধুনিক এই পরিকাঠামোয় শহরবাসীর ভোগান্তি কমবে—এমনটাই ছিল প্রত্যাশা। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। বর্ষা আসার আগেই ফের সেই পুরনো আশঙ্কায় প্রমাদ গুনছেন শিলচরবাসী।
শহরের জমা জল নিষ্কাশনের অন্যতম প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত সুভাষনগর এলাকার দুটি নালা বর্তমানে প্রশাসনিক অবহেলায় কার্যত অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। এর একটি হলো সুভাষনগর অগ্রণী ক্লাবের পেছনের নালা এবং অন্যটি নিরঞ্জন পাল ইনস্টিটিউট (জুবিলি স্কুল) সংলগ্ন নালাটি। দীর্ঘদিন সংস্কার ও পরিচর্যার অভাবে নালা দুটি নাব্যতা হারিয়েছে। পলি ও আবর্জনা জমে এগুলোর জলধারণ ক্ষমতা এখন তলানিতে। বিশেষ করে জুবিলি স্কুলের সামনের নালাটির অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
উল্লেখ্য, আসন্ন বর্ষায় শিলংপট্টি, চার্চ রোড, অম্বিকাপট্টি ও শ্মশান রোড এলাকার জলবন্দি দশা কাটাতে সম্প্রতি সুভাষনগর এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তী। পরিদর্শনকালে তিনি শীতের মরশুম শেষ হওয়ার আগেই অগ্রণী ক্লাবের পেছনের নালাটি সংস্কার করতে পুর নিগমকে কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন। বিধায়কের পরিকল্পনা ছিল, অম্বিকাপট্টি থেকে কলেজ রোড পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হলে এই খালের মাধ্যমেই জল সরাসরি রাঙ্গির খালে গিয়ে পড়বে। এতে শহরের একটি বড় অংশের জলমগ্ন হওয়ার সমস্যা দূর হতো।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, বিধায়কের নির্দেশের পর দুই মাস অতিবাহিত হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। একদিন ড্রেন থেকে সামান্য আবর্জনা পরিষ্কার করেই নিজেদের দায় সেরেছে পুর নিগম কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, নালার গভীরতা ফিরিয়ে আনা এবং জল চলাচলের সঠিক ব্যবস্থাপনা না হলে পরিস্থিতির বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হবে না।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, মান্ধাতা আমলের পুরোনো স্লুইস গেটগুলো দ্রুত সংস্কার না করলে শুধু পাম্পের ওপর ভরসা করে শিলচরের মতো শহরের জল নিষ্কাশন সম্ভব নয়। ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার পর পাম্প বসিয়ে সাময়িক স্বস্তি দেওয়া হলেও, স্থায়ী সমাধানের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক তৎপরতা এখন সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। এই উদাসীনতা বজায় থাকলে আসন্ন বর্ষায় শহরবাসীকে যে চরম মূল্য দিতে হবে, তা বলাই বাহুল্য। আর এর জন্য সরাসরি পুর নিগম কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করছেন ভুক্তভোগী জনতা।



