সাম্প্রতিক বন্যায় বিধ্বস্ত কাজিরঙার পরিস্থিতি ক্রমশ উন্নত হয়েছে
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
হাতির পিঠে চড়ে কাজিরঙার নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগ করেছেন সপত্নীক রাজ্যপাল অধ্যাপক জগদীশ মুখি। পত্নী প্রেম (গ্রোভার) মুখিকে সঙ্গে নিয়ে রবিবার দুদিবসীয় ব্যক্তিগত সফরে কাজিরঙায় এসেছেন রাজ্যপাল অধ্যাপক মুখি। সোমবার সকালে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে কাজিরঙা জাতীয় উদ্যানে হাতি সাফারি করেন তিনি৷ উদ্যানের কহঁরা বনাঞ্চলের মিহিমুখে হাতি সাফারি করে আপ্লুত রাজ্যপাল আপেক্ষমান সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করেন তিনি।

রাজ্যপাল বলেন, অসমের সার্বিক পরিবেশ এখন শান্ত ৷ তাই দেশি বিদেশি পৰ্যটকরা এখন আর অসমে আসতে পারেন। তবু এই পরিবেশকে আরও সাবলীল করতে হবে। হাতির পিঠে চড়ে তাঁর দারুণ সুখানুভূতি হয়েছে বলে জানান। রাজ্যপাল বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় বিধ্বস্ত কাজিরঙার পরিস্থিতি ক্রমশ উন্নত হয়েছে। সরকার ক্ষিপ্রগতিতে বিধ্বস্ত এলাকাগুলোকে সারিয়ে তোলায় পর্যটকদের সুবিধা হবে। তিনি বলেন, কাজিরঙায় নতুন করে ৩৩টি হাইল্যান্ড তৈরি করায় তুলনামূলকভাবে অন্য বছরের চেয়ে এবারের বন্যায় জীবজন্তুর মৃত্যু কম হয়েছে। প্রাসঙ্গিক বক্তব্যে রাজ্যপাল বলেন, তাঁর কাছে যে তথ্য এসেছে, তাতে কাজিরঙায় এবার এই মরশুমে অন্য বছরের চেয়ে বেশি দেশি বিদেশি পৰ্যটকরা এসেছেন। এটা ভালো লক্ষণ। বিশেষ করে চীন থেকে পৰ্যটকের দল আসছে দেখে তিনি সন্তোষ ব্যক্ত করেছেন। তাঁর বক্তব্য, অস্ট্রিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, আমেরিকা প্রভৃতি দেশ থেকেও কয়েকজন পৰ্যটকের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছে কাজিরঙায়৷
এদিকে রাজ্যপালের সফরসঙ্গী কাজিরঙা জাতীয় উদ্যানের অধিকর্তা পি শিবকুমার জানান, উদ্যানের প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়ার দিন থেকে আজ পর্যন্ত প্ৰায় ১,৪০০ বিদেশি পৰ্যটক এসেছেন কাজিরঙায়৷ আজ কহঁরা বনাঞ্চলে হাতির সওয়ার হয়েছেন ৩৮ জন বিদেশি পর্যটক৷
প্রসঙ্গত, রবিবার দু-দিনের সফরে কাজিরঙা জাতীয় উদ্যানে এসেছিলেন রাজ্যপাল অধ্যাপক জগদীশ মুখি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পত্নী প্রেম (গ্রোভার) মুখি। গতকাল বিকেলের দিকে একান্ত ব্যক্তিগত সফরে সপত্নীক রাজ্যপাল প্রথমে আসেন অগরাতলি বনাঞ্চলে। সেখানে ঘুরে ঘুরে বনাঞ্চলের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করেছেন তাঁরা। আজ তাঁরা এখানে হাতি সাফারি করেছেন। এর পর যান বাগরি বনাঞ্চলে।
দুদিনের ব্যক্তিগত সফরসূচিতে পত্নীকে সঙ্গে নিয়ে বোকাখাতের বিহরা চা বাগানে যান রাজ্যপাল অধ্যাপক জগদীশ মুখি৷ বিহরা চা বাগানে অতিথিশালায় মধ্যাহ্ন ভোজন করে বিকেলে আসেন কাজিরঙার অগরাতলি বনাঞ্চলে৷ অগরাতলি বনাঞ্চলে একশৃঙ্গের গণ্ডার, হাতি, ভিন্ন প্রজাতির মহিষ, হরিণ ইত্যাদি জীবজন্ত ও নানা প্রজাতির পাখি দেখে আপ্লুত হয়ে যান রাজ্যপাল৷
গতকাল রাতে বিহরা চা বাগানের অতিথিশালায় কাটিয়ে আজ সকালে কাজিরঙা জাতীয় উদ্যানের কহঁরায় মিহিমুখে হাতি সাফারি ছাড়াও বাগরি বনাঞ্চলের পরিবেশ উপভোগ করেছেন সপত্নীক রাজ্যপাল৷ কাজিরঙা দৰ্শনের পর বিহরা চা বাগানের অতিথিশালায় ভোজন করে ফের গুয়াহাটির উদ্দেশে রওয়ানা হয়েন অধ্যাপক জগদীশ মুখি।


