নিয়ম মেনে, পরিমাপ করে ১০০ দিনের কাজ হয়। মাটি কাটা থেকে শুরু করে বৃক্ষ রোপন সবই হয়। বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের ভারী কাজ দেওয়া হয় না। তাদের কাজ শ্রমিকদের পানীয় জল জোগান, গরমে সরবত , গ্লুকোজ, ওআরএস দেওয়া। আবার অনেক মা’য়ের সন্তানকে আগলে রাখা
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
‘কাজের কিসের লাজ । যতই হোক, ১০০ দিনের কাজ।’ কাজ করেই মজুরি পায়। বিনা হাজিরায় মজুরিকে প্রশ্রয় না দিয়ে বৃদ্ধারাও ১০০ দিনের কাজে সামিল। রাজ্যজুড়ে ১০০ দিনের কাজে অনিয়মের মাঝে কর্মসংস্কৃতির এক নজির সৃষ্টি করেছে পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডালের কাজোড়া পঞ্চায়েত। জুটেছে স্বীকৃতিও।
লোকসভা নির্বাচনের পর রাজ্যজুড়ে ১০০ দিনের কাজের অনিয়মের অভিযোগে সরগরম। কোথাও কাজ না করে মজুরি তোলার অভিযোগ। সম্প্রতি ঝাঁপি থেকে দুর্নীতির বেড়াল বেরোতেই বেশীরভাগ এলাকায় মুখ থুবড়ে পড়েছে ১০০ দিনের কাজ। শুরু হয়েছে কাটমানি ফেরতের দাবীতে শাসকদলের নেতাকর্মীদের বাড়ী ঘেরাও অভিযান। এসবের মাঝে কর্ম সংস্কৃতির নজির সৃষ্টি করল অন্ডালের কাজোড়া পঞ্চায়েত। ‘বিনা হাজিরা’র মজুরীকে প্রশয় না দিয়ে নিয়ম মেনেই চলছে ১০০ দিনের কাজ। এমনকি ওই কাজে সামিল বৃদ্ধ- বৃদ্ধারা। কিন্তু তাদের কাজটা কি?
কাজোড়া পঞ্চায়েতের জব সুপারভাইজার বাবলু রুইদাস জানান,” নিয়ম মেনে, পরিমাপ করে ১০০ দিনের কাজ হয়। মাটি কাটা থেকে শুরু করে বৃক্ষ রোপন সবই হয়। বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের ভারী কাজ দেওয়া হয় না। তাদের কাজ শ্রমিকদের পানীয় জল জোগান, গরমে সরবত , গ্লুকোজ, ওআরএস দেওয়া। আবার অনেক মা’য়ের সন্তানকে আগলে রাখা।” কাজোড়া পঞ্চায়েত সুত্রে জানা গেছে, সেখানে ১২০০ সক্রিয় জবকর্মী রয়েছে। যার মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ মহিলা। চলতি অর্থ বছরে এখনও পর্যন্ত প্রায় ২৪ শতাংশ অর্থাৎ ১৫৪৭৪ শ্রম দিবস কাজ হয়েছে। বৃদ্ধা জবকর্মী আন্না বাদ্যকর, অশোকা বাউরী প্রমুখ জানান,” কাজ করে মজুরী নেওয়ার আনন্দ আলাদা। তাছাড়া ভারী কাজ তো নয়। হালকা কাজ দেয় আমাদের। কাজের জায়গাটা একটা পরিবার মনে হয়।” কাজোড়া পঞ্চায়েতের প্রধান রামকৃষ্ণ নুনিয়া জানান,” কেনরকম অনিয়ম, দুর্নীতিকে প্রশয় দেওয়া হয় না। মানুষের মধ্যে শ্রম দিয়ে কাজ করার সচেতনতা তৈরী করতে হবে। গত কয়েক বছরে কাজের নিরিখে দিল্লীর এমজিএনআরজিএস প্রকল্পের আধিকারিকরা পরিদর্শন করে প্রশংসা করেছেন। জেলাতেও স্বীকৃতি জুটেছে।


