জট কাটাতে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন কলকাতা প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের চেয়ারম্যান। আগামীকাল থেকে অস্থায়ী ৫ শিক্ষক নিয়োগের আশ্বাস পেয়ে অবরোধ তোলেন অভিভাবকরা
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
চাপের মুখে হেয়ার স্কুলে আজই নিয়োগ করা হল ৫ শিক্ষককে। পাঁচ ঘন্টা পর কলেজ স্ট্রিটে উঠল হেয়ার স্কুলের অভিভাবকদের বিক্ষোভ। শিক্ষক নিয়োগের আশ্বাসে অবরোধ ওঠে । হাতেগোনা শিক্ষককে শিকেয় পঠনপাঠন। অভিযোগ, নিয়মিত ক্লাস হয়না স্কুলে। শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে বুধবার সকাল ৭টা থেকে হেয়ার স্কুলের সামনে অবরোধ শুরু করেন অভিভাবকরা। অভিভাবকদের অবরোধে সামিল হয় পড়ুয়ারাও। অবরোধের জেরে যানচলাচল ব্যহত হয়। পুলিশ অনুরোধ করে অবরোধ তোলার জন্য। তবে কাজ হয়না তাতে। অবশেষে জট কাটাতে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন কলকাতা প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের চেয়ারম্যান। আগামীকাল থেকে অস্থায়ী ৫ শিক্ষক নিয়োগের আশ্বাস পেয়ে অবরোধ তোলেন অভিভাবকরা।
ব্যানার নিয়ে রাস্তাতেই গণ অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন অভিভাবকরা। অবিলম্বে শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। সেই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের উপস্থিতিরও দাবি জানাতে থাকেন তাঁরা। শিক্ষামন্ত্রী ঘটনাস্থলে উপস্থিত না হলে অবরোধ তুলবেন না বলেও জানান অভিভাবকেরা।
এর আগে ১৭ জুলাই এই একই দাবি নিয়ে স্কুলের সামনে রাস্তা অবরোধ করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু সেদিনের সেই বিক্ষোভে ফল হয়নি। এখনও পর্যন্ত পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই হেয়ার স্কুলে। তাই আজ ফের স্কুলের সামনে কলেজ স্ট্রিটে বিক্ষোভে বসেন অভিভাবকরা। স্কুল ছুটি হওয়ার পর পড়ুয়ারাও এই বিক্ষোভে শামিল হয়। বর্তমানে ৫০০ জন ছাত্রের জন্য মাত্র ৮ জন শিক্ষক রয়েছেন হেয়ার স্কুলে। এর ফলে পড়াশোনা প্রায় হচ্ছে না বলে অভিযোগ। ছাত্রদের কথা ভেবেই বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন বলে জানান অভিভাবকরা। অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষকের অভাবে স্কুলে ক্লাস প্রায় হয় না বললেই চলে। আগে তবু দু’টো পিরিয়ড হত । এখন একটা পিরিয়ডের পরই স্কুল ছুটি হয়ে যায় । একাধিকবার স্কুল কর্তৃপক্ষকে শিক্ষক নিয়োগের কথা বলেছেন তাঁরা। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি। এখনও শিক্ষক সংকটে ভুগছে হেয়ার স্কুল।
এদিন সকাল থেকে ওই অবরোধের জেরে কার্যত বন্ধ হয়ে যায় কলেজ স্ট্রিট। খবর পেয়ে লালবাজার থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তবে নিজেদের দাবিতে অনড় থাকেন অভিভাবকেরা । ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবরোধ চলতেই থাকে । সকালের ব্যস্ত সময়ে অবরোধের জেরে ওই এলাকায় ব্যাপক যানজট দেখা দেয়। নাকাল হতে হয় নিত্যযাত্রীদের । কারণ, এখানেই রয়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় । এছাড়া মহাত্মা গান্ধী রোড দিয়েও অনেক অফিস যাত্রী যাতায়াত করেন । তার চেয়েও বড় কথা, কাছেই রয়েছে মেডিক্যাল কলেজ । সেখানে রোগীদের যাতায়াত নিয়েও সমস্যা হয় । তাই পরিস্থিতি যাতে তাড়াতাড়ি আয়ত্ত্বে আসে, সেই চেষ্টা করে পুলিশ । কিন্তু অভিভাবকেরা নিজেদের দাবিতে অনড়। অভিভাবকদের দাবি, অবিলম্বে এই ঘটনায় শিক্ষা দফতরকে হস্তক্ষেপ করতে হবে । গত মাসে একজন শিক্ষক অবসর নিয়েছেন ।
প্রাথমিক বিভাগে যেখানে কম করেও ১১ জন শিক্ষক থাকার কথা, সেখানে টিচার ইন-চার্জকে নিয়ে রয়েছেন মাত্র ৯ জন । এরই মধ্যে গত মাসে একজন শিক্ষক অবসর নিয়েছেন। ফলে শিক্ষক এখন ৮। সেপ্টেম্বরের প্রথমে অবসর নেবেন টিচার ইন-চার্জ তনুশ্রী নাগও। ফলে শিক্ষকের সংখ্যা কমে দাঁড়াবে সাত জনে। অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুলে এখন ক্লাস অনিয়মিত হয়ে গেছে। আগে দু’পিরিয়ডের পরেই ছুটি হয়ে যেত। এখন একটা ক্লাস হয় । তাঁরা চান, স্কুলে পরবর্তী যিনি টিচার-ইন-চার্জ হবেন, তিনি যেন প্রথম থেকেই বিষয়টি জেনে কাজ শুরু করতে পারেন। নাহ লে ছাত্রদের ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে পড়ে যাবে। শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাস সত্ত্বেও মেলেনি সুরাহা। শিক্ষামন্ত্রী ঘটনাস্থলে না পৌঁছলে অবরোধ তোলা হবে না বলে জানিয়েও দেন অভিভাবকরা।
অবস্থান তুলতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন এসি,সেন্ট্রাল, নাসিম আলি। অভিভাবকদের সঙ্গে কথাও বলেন। তবে নিজেদের অবস্থানে অনড় ছিলেন বিক্ষোভকারীরা। বেলা বাড়তে অভিভাবকদের সঙ্গে বিক্ষোভে যোগ দেয় প্রাথমিক বিভাগের পড়ুয়ারাও। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে স্কুলে পৌঁছন প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান কার্তিক মান্না। তিনি বলেন, ‘স্কুলে পাঁচ জন শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁরা আগামীকাল থেকেই স্কুলে যোগ দেবেন। পরে এই বিষয়ে নির্দেশিকা দেওয়া হবে’। শিক্ষক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি পেয়ে অবরোধ উঠে যায়।


