ধূপগুড়িতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
কাটেনি ২৪ ঘণ্টাও। ফের ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির শিকরা হলেন এক মূক মহিলা। ঘটনাস্থল সেই ধূপগুড়ি। এমনকি উন্মত্ত জনতার হাত থেকে ঐ মহিলাকে বাঁচাতে গিয়ে গনপিটুনির ফলে আহত হলেন দুই এএসআই।
ঘটনাটি ঘটেছে নাগরাকাটা ব্লকের জিতি চা বাগান এলাকায়। ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার বিকেলে এক অঞ্জাত পরিচয় মহিলাকে ঐ এলাকায় ঘুরে বেড়াতে দেখার পর।তাঁকে স্থানীয় লোকজন আটক করে ছেলেধরা সন্দেহে। বাকশক্তি রহিত ঐ মহিলা কোনও কথার উত্তর দিতে না পারায় তাঁকে মারধর করা শুরু হয়। ঐ মহিলাকে কাদায় ফেলে রীতিমতো মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দুই এএসআই সহ পুলিশ।তাঁরা উত্তেজিত জনতার হাত থেকে মহিলাকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গেলে তাঁদের ওপরও আক্রমণ করা হয়। শেষপর্যন্ত পুলিশ মহিলাকে উদ্ধার করলেও উন্মত্ত জনতা ঐ মহিলাকে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নাগরাকাটা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী।তারাই ঐ মহিলাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে মাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে।ঐ মহিলা বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন।ঘটনায় আহত হয়েছেন দুই অফিসার সঞ্জয় ঘোষ এবং শুভজিৎ চক্রবর্তী।
২৪ ঘন্টার মধ্যে একই ঘটনার পুনুরাবৃত্তিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে নাগরাকাটা এলাকায়।পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে কোনও এলাকাতেই বাচ্চা চুরি বা ছেলে ধরার কোনো ঘটনা ঘটেনি।মানুষ গুজবে কান দিচ্ছে বলেই বারবার একই ঘটনা ঘটছে।তবে এই গুজব বা রটনোর মূলে কারা রয়েছে সে বিষয়ে তদন্তে শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে মালবাজার মহকুমা পুলিশ।
মাল মহকুমার পুলিশ আধিকারিক দেবাশিস চক্রবর্তীর বলেছেন, ‘পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা এই কাজে জড়িত বা যারা ইন্ধন যোগাচ্ছে কাউকে ছাড়া হবে না। তবে মানুষকেও আরও সচেতন হতে হবে।’


