স্মৃতিচারণে ‘কার্গিল বিজয় দিবস’

2 - মিনিট |

১৯৯৯ -র মে মাস থেকে শুরু হয়েছিল কার্গিলের যুদ্ধ। চলেছিল ২৬ জুলাই পর্যন্ত। এই দিনই পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে ভারতের জয় ঘোষিত হওয়ায় এই দিনটি ‘কার্গিল বিজয় দিবস’ নামেই পরিচিত

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

২৬শে জুলাই ভারতীয় ইতিহাসে এক বিশেষ দিন। বীর যোদ্ধাদের রক্তের বিনিময়ে এসেছিল সেই জয়। প্রায় দু দশক আগে এই বিশেষ দিনটিতে পাক হানাদার ফৌজকে পরাজয় স্বীকার করতে বাধ্য করেছিল ভারতীয় জওয়ানরা। প্রায় টানা আড়াই মাসের যুদ্ধে বহু রক্তক্ষরণ ও ত্যাগ স্বীকারের মধ্য দিয়েই কার্গিল পুনরুদ্ধার করে ভারতীয় সেনাবাহিনী। সেই সঙ্গে অপরিবর্তিত থাকে ভারতীয় মানচিত্রের রূপরেখা। ১৯৯৯ -র মে মাস থেকে শুরু হয়েছিল কার্গিলের যুদ্ধ। চলেছিল ২৬ জুলাই পর্যন্ত। এই দিনই পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে ভারতের জয় ঘোষিত হওয়ায় এই দিনটি ‘কার্গিল বিজয় দিবস’ নামেই পরিচিত।
আজ দেশজুড়ে সেই শহিদদের স্মৃতিতে পালিত হচ্ছে ‘কারগিল বিজয় দিবস’। এদিন দ্রাস মেমোরিয়ালে উপস্থিত থাকার কথা ছিল রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের| কিন্তু, খারাপ আবহাওয়ার কারণে দ্রাসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি তিনি | তবে কার্গিল বিজয় দিবস উদযাপন করেন তিন বাহিনীর প্রধান, যথাক্রমে নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল করমবীর সিং, নৌবাহিনীর প্রধান বি এস ধানোয়া এবং সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত |
এছাড়াও ফোর্ট উইলিয়ামে একটি কুস্তি প্রতিযোগিতা আয়োজিত হয়। বৃষ্টি এবং মেঘের ঘনঘটাকে উপেক্ষা করেও চলছে এই দিবস উৎযাপন। শহিদ জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে এদিন চিন-সহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ের কথাও তুলে ধরেন জেনারেল নারাভান। প্রতিবেশী চিনের সঙ্গে বর্তমান সম্পর্ক নিয়ে তিনি জানান, “এপর্যন্ত চিনের সঙ্গে প্রায় ২৩-২৪ রাউন্ড আলোচনা হয়েছে। দু’দেশই একাধিক বিষয়ে মতপার্থক্য কমিয়ে এনেছে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি ঘটেছে। দেশে যুদ্ধের বাতাবরণ সৃষ্টি হলে সব থেকে বেশি ভোগান্তির স্বীকার হতে হয় সীমান্তবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দাদের। আমরা সবসময়ই শান্তির পক্ষে।” তবে এদিন পরোক্ষে পাকিস্তান ও চিনকে কিছুটা কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন জিওসি-ইন-সি। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, যাঁরা অতীতের ভুল থেকে সবক নিতে চায় না, তাঁদের কীভাবে শিক্ষা দিতে তা ভারতীয় সেনাদের অজানা নয়।কোনও পরিস্থিতিতেই দেশের সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত সহ্য করা হবে না।
শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ | পাশাপাশি ২০ বছর আগের যুদ্ধক্ষেত্রে পরিদর্শনের ছবি পোস্ট করে কার্গিল বিজয় দিবস-এর স্মৃতিচারণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি | ‘কার্গিল বিজয় দিবস’-এ সেনাবাহিনীকে স্যালুট জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেছেন। সকালে মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটারে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ‘কার্গিল বিজয় দিবসে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে স্যালুট জানাই। দেশের জন্য যারা প্রাণ দিয়েছেন, সেই বীর শহীদদের সশ্রদ্ধ প্রণাম। ভারতীয় সেনার গরিমা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাক, এই কামনা করি। জয় হিন্দ।’ এছাড়াও শহিদ স্মরণে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পন করেছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিশ প্রমুখ |

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *