ভাবনাকে রূপ দিতে যিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন, তিনি শিল্পী রাজু সরকার
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
জীবজগতের উদ্ভিদ শ্রেণি খাদ্যের জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণ। কিন্তু প্রাণীজগতকে তাকিয়ে থাকতে হয় প্রকৃতির দিকে। জীবজগতের সবচেয়ে উন্নত প্রজাতি হিসাবে যাদের ধরা হয়, সেই মানুষও ব্যতিক্রম নয়। সভ্যতার আদিকাল থেকে মানুষের জীবনযাত্রা যে তিনটি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে তা হল অন্ন, বস্ত্র এবং বাসস্থান। কিন্তু সুজলা-সুফলা পৃথিবীর খাদ্যভাণ্ডার আজ ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বিপুল চাপে ন্যুব্জ।
এই সরল সত্যকেই এবার থিম করেছে দমদম সার্বজনীন। সৃষ্টির আদিকাল থেকে সমগ্র জীবজগৎ জীবনধারণের জন্য যে গুরুত্বপূর্ণ বস্তুটির অন্বেষণে নিরন্তর নিজেদের অস্তিত্বের সংগ্রাম করে চলেছে, তা হল ‘খাদ্য’। তাই আগামী দিনের ক্রমবর্ধমান খাদ্য সঙ্কটের ভয়াবহতাকে মাথায় রেখে দমদম সার্বজনীনের এবারের প্রার্থনা, “ভবিষ্যতের দুর্দিন থেকে মুক্তির জন্য ‘মা’ সকলের মধ্যে চেতনার উন্মেষ ঘটাক, যাতে জাত-পাত ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় সুষম খাদ্যের সংস্থান করতে পারে।
যাতে পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলা যায় ক্ষুধার যন্ত্রণা।”সেই ভাবনাকে পাথেয় করেই এবারে দমদম পার্ক সার্বজনীনের ভাবনা ‘অমৃতের সন্ধানে’। ভাবনাকে রূপ দিতে যিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন, তিনি শিল্পী রাজু সরকার। শিল্পীর কথায়, “অনাহারে অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। পিতা মাতার ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে’-এই আপ্তবাক্যটি পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে খাদ্যাভাবের জ্বলন্ত অঙ্গারে।
সেই বিষয়টিই আমি মণ্ডপে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছি।”উন্নত এনং ধনী দেশগুলিতে ভোক্তারা খাদ্যের অপচয়ের জন্য দায়ী হলেও দরিদ্র এবং অনুন্নত দেশে খাদ্য বিনষ্ট হয় মূলত উন্নত প্রযুক্তি এবং সঠিক পরিকাঠামোর অভাবে। এই সবই তুলে ধরা হবে দমদম সার্বজনীনের মণ্ডপে। প্রতিবছরই নতুন নতুন কাজ করে মানুষের নজর কাড়ে এই পুজো। এবারে তাঁদের মণ্ডপ দর্শকের সামনে কী তুলে ধরে এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।


