নিউটাউনের ৫ একর জমিতেই তৈরি হবে জ্যোতি বসুর স্মারক । তার নাম হবে জ্যোতি বসু সেন্টার ফর সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার । সেখানে গবেষণার পাশাপাশি সংগ্রহশালা তৈরির কাজও চলবে
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
‘জ্যোতি বসু সেন্টার ফর সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ’-এর জন্য জমি বরাদ্দ করল রাজ্য সরকার । রাজারহাটের ওই ৫ একর জমি হস্তান্তরের অনুমোদন দিয়ে বৃহস্পতিবার চিঠি পাঠিয়েছে হিডকো । এতদিন পর জমিটি হাতে পাওয়ায় খুশি সিপিএম নেতৃত্ব ।
২০১০ সালে হিডকো তথা নগরোন্নয়ন দফতর জ্যোতি বসু রিসার্চ ফাউন্ডেশনকে ওই জমি বরাদ্দ করেছিল ।
প্রথমে কথা ছিল, সেখানে গবেষণা কেন্দ্র তৈরি হবে । জমির দাম মিটিয়ে দেওয়া হয়েছিল সেসময়ই । পরবর্তীকালে তা প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর নামে একটি সংগ্রহশালা তৈরির সিদ্ধান্ত হয় । সেবছরই রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ওই জমি হস্তান্তরে রাজ্য সরকার উদ্যোগ নেয়নি বলে লাগাতার অভিযোগ করে আসছিল সিপিএম নেতৃত্ব । এর আগে বেশ কয়েকবার জমিটি হস্তান্তরের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন সিপিএম নেতারা । এমনকী বাম পরিষদীয় নেতা হিসেবে সুজন চক্রবর্তী নিজে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এনিয়ে কথা বলেছিলেন । আলোচনা হয়েছিল হিডকো চেয়ারম্যান এবং পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গেও ।
কিন্তু ২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন হলে জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া আটকে যায় । হিডকোর কাছে বার বার আর্জি জানিয়েও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ সিপিএম নেতৃত্বের । এরপর লোকসভা ভোটের পরে পরিস্থিতি পালটে গেলে বিষয়টি ঘিরে অনিশ্চয়তা দানা বাঁধে ।
গত বিধানসভার অধিবেশনে এই জমি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে দরবার করেন অশোক ভট্টাচার্য ও রবীন দেবের মতো সিপিএম নেতারা । মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বাম নেতারা । তখনই পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে রিসার্চ সেন্টার-এর জমি হস্তান্তর সংক্রান্ত বিষয়ে হস্তক্ষেপের নির্দেশ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । তাঁর নির্দেশে এরপর দ্রুত গতিতে হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয় ।
রাজ্যের পুরমন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, নিউটাউনের ৫ একর জমিতেই তৈরি হবে জ্যোতি বসুর স্মারক । তার নাম হবে জ্যোতি বসু সেন্টার ফর সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার । সেখানে গবেষণার পাশাপাশি সংগ্রহশালা তৈরির কাজও চলবে । জমি হস্থান্তর প্রক্রিয়াও শেষ । এবার দ্রুতই শুরু হবে কাজ । এত বছর পর জমিটিকে হাতে পেয়ে স্বভাবতই খুশি সিপিএম নেতৃত্ব । তবে তাঁদের মতে, আরও আগেই জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া সেরে ফেলতে পারত রাজ্য সরকার । তাদের গাফিলতির জন্যই এত দেরি । বৃহস্পতিবার হিডকোর তরফে জমি হস্তান্তর বিষয়ক কাগজপত্র সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রবীন দেবের হাতে তুলে দেওয়া হয় ।


