সোমবার সকাল থেকে লিলুয়ার জেনিংস রোডের ছোট গেট রেল কলোনির একটি শিব মন্দিরে ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ে শিবের অনুচরের দুধ খাওয়া দেখতে
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
স্বর্গে হয়তো দুধের অভাব ঘটিয়াছে। তাই ভগবানের আগমণ ঘটিয়াছে মর্ত্যে। এর আগেও একবার ভগবান গনেশ নাকি দুধ খাইতে মর্ত্যে আসিয়াছিলেন। ভক্তরা এই লইয়া গোটা ভারত জুড়িয়া মাতামাতি শুরু করিয়া দিয়াছিল। ভগবানেক সফেদ ফেনিল দুগ্ধ খাওয়াইতে দেশের গরুকূলকে সেইদিন অবিশ্রান্ত প্রাণপাত করিয়া দুগ্ধ উৎপাদন করিতে হইয়াছিল। কিন্তু কিছু বিজ্ঞানমস্ক বিশ্বনিন্দুক পাতকেরা ইহার পিছনে বিজ্ঞান রহিয়াছে বলিয়া সোড়গোল ফেলিয়া দিয়া ভক্তগণের রোষে পড়িয়াছিলেন। যদিও অবশ্য বেশির ভাগ ভক্তজনই আসল সত্যটি (পাথরের পৃষ্ঠটান)পরে বুঝিতে পারিয়া আফশোস করিয়াছিলেন। কারণ উহাদের নাকি দুধ কিনিতে ও গজাননের পূজার উপাচার জোগাড় করিতে পকেট বেশ খানিকটা হালকা হইয়াছিল!
এবারও সেই ভগবানের দুধ খাওয়ার ঘটনা ঘটল। অবশ্য গতবারের মতো গোটা দেশজুড়ে নয়, হাওড়ার লিলুয়ায়। ফের ভগবান দুধ খেলেন বেশ কয়েক বছর পরে। অবশ্য গতবারের মতো হাই-প্রোফাইল দেবতা (গনেশ) নন, দুধ খেয়েছেন শিবের অনুচর নন্দী ঠাকুর।
এবার ঘটনার সূত্রপাত হাওড়ার লিলুয়ার একটি মন্দিরে। সোমবার সকাল থেকে লিলুয়ার জেনিংস রোডের ছোট গেট রেল কলোনির ভিতর একটি শিব মন্দিরে এলাকার বাসিন্দাদের ভিড় উপচে পড়ে। গুজব রটে যায় শিবের সামনে নন্দী ঠাকুর নাকি দুধ খাচ্ছে। গতবারের মতোই ওই ঠাকুরের পাথরের মুর্তির সামনে এক চামচ দিয়ে দুধ নিয়ে গেলেই তা নাকি নিমেষের মধ্যেই সেই দুধ উধাও হয়ে যাচ্ছে। মাটিতে না পড়ে পাথরের মুর্তির গায়ে না লেগে সেই দুধ কোথায় উধাও হয়ে যাচ্ছে তা দেখতে মন্দিরে আসা ভক্ত
ভগবান দুধ পান করছেন। তাই দুধ খাওয়াতে দলে দলে সেই মন্দিরে আসছেন ভক্তরা। এই মন্দিরটির মালিক তথা ওই কলোনির বাসিন্দা অশোক কুমার জানিয়েছেন, ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর মন্দিরটি উদ্ঘাটন হয়। নন্দীর দুধপানের প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, “এটা অন্য কোনও ব্যাপার নয়। এখানে ঈশ্বরই দুধ খাচ্ছেন।” নন্দীকে দুধ পান করাতে ভিড় জমিয়েছেন আট থেক আশি। দুধের ঘটি হাতে রীতিমতো লাইন দিতে হয়েছে। স্থানীয় ছাত্রী পূজা আগরওয়াল খবর পেয়েই বই-পত্তর লাটে উঠিয়ে চলে এসেছেন মন্দিরে। বলেলন, “সকালে উঠেই দুধ খাওয়ার কথা শুনলাম। খবর পেয়েই আমিও এসেছি দুধ খাওয়াতে। আমার মনে হয় ভগবানই দুধ খাচ্ছেন”।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছোন হাওড়া পুরনিগমের ৬২ নং ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার কৈলাশ মিশ্র। তিনি বলেন, “সকাল থেকেই এই মন্দিরে ভগবানকে দুধ পান করাতে প্রচুর ভক্ত ভিড় জমাচ্ছেন। এটা ঐশ্বরিক নাকি বৈজ্ঞানিক ঘটনা তা জানিনা! এই ঘটনা জানতে পেরে এখানে এসেছি। মানুষের বিশ্বাস থেকে এমন করছে।” তবে তিনি জানালেন, এই ঘটনা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
এবিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ হাওড়া জেলার সহ সম্পাদক পঞ্চানন ঘোষাল বলেন, “যার প্রাণ নেই সে দুধ পান করতে পারে না। অতীতেও গণেশের দুধ খাওয়া নিয়ে গুজব উঠেছিল। পরে জানা গিয়েছ পৃষ্ঠ টান(সারফেস টেনসন)এর জন্য এই ঘটনা।” তাঁর বক্তব্য, ধর্ম নিয়ে থাকা ভাল, কিন্তু অন্ধ বিশ্বাস ভাল নয়।


