এনএসসিএন-কে (ইয়ুং আং)-র স্বঘোষিত কমান্ডার লেফটেন্যান্ট ন্যামলাঙের নেতৃত্বে এই অ্যামবুশ সংগঠিত হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
আসাম রাইফেলস-এর ওপর হামলা করেছে ন্যাশনালিস্ট সোশালিস্ট কাউন্সিল অব নাগালিম-খাপলাং (ইয়ুং আং)। প্রাপ্ত খবরে প্রকাশ, রবিবার ভোররাতে নাগাল্যান্ডের মন জেলায় এ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। হামলায় এক জওয়ান এবং মহিলা-সহ দুই নাগরিক আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
এক সূত্রের খবর, রবিবার ভোররাত প্রায় তিনটে নাগাদ নাগাল্যান্ডের মন জেলার অন্তর্গত ভারত-মায়ানমার সীমান্তবর্তী শেনলইশো বস্তিতে এনএসসিএন-খাপলাং (ইয়ুং আং) গোষ্ঠীর ১০ জনের এক দল ৪০ নম্বর আসাম রাইফেলস-এর ডেল্টা কোম্পানির শিবিরে গুলি হামলা করে। গুলি হামলার জবাব দেয় আসাম রাইফেলসও। প্রায় আধঘণ্টা চলে উভয় পক্ষের গুলি বিনিময়। এতে জনৈক জওয়ান সামান্য জখম হয়েছেন বলে জানিয়েছে সূত্রটি। অন্যদিকে সেনা-উগ্রপন্থীর গোলাগুলিতে গ্রামের এক মহিলা-সহ দুজন আহত হয়েছেন। তাদের আসাম রাইফেলস-এর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করা হচ্ছে।

এদিকে আসাম রাইফেলস-এর প্রচণ্ড আক্রমণে বেশিক্ষণ টিঁকে থাকতে পারেনি জঙ্গিরা। অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে তারা। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রের ৭৫টি গুলির খালি খোল এবং ৪০ এমএম গ্রেনেডের কার্তুজ। সূত্রের আরও খবর, এনএসসিএন-কে (ইয়ুং আং)-র স্বঘোষিত কমান্ডার লেফটেন্যান্ট ন্যামলাঙের নেতৃত্বে এই অ্যামবুশ সংগঠিত হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, নাগা শান্তিচুক্তি নিয়ে চলমান চৰ্চার সময় সন্দেহজনক এনএসসিএন-কে (ইয়ুং আং) জঙ্গিদের এই হামলাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে সরকার। নাগা শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতাকারী নগাল্যান্ডের রাজ্যপাল আরএন রবি শুক্রবার ঘোষণা করেছিলেন, আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যেই শান্তিচুক্তি প্ৰক্ৰিয়া শেষ করবে কেন্দ্রীয় সরকার। সূত্রটি বলেছে, সম্প্রতি এনএসসিএন-কে (ইয়ুং আং)-এর দুই শীৰ্ষ নেতা স্বঘোষিত মেজর জেনারেল ইয়াংথাং ওরফে মপা এবং মন্ত্ৰী ইমতি আওকে আসাম রাইফলস আটক করে গ্ৰেফতার করেছিল। তাই ধারণা করা হচ্ছে, আজকের এই হামলা এর প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা।
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, গত মে মাসের শেষের দিকে মন জেলায় এনএসসিএন (কে) উগ্রপন্থীদের গুলিতে আসাম রাইফেলস-এর দুই জওয়ান শহিদ হওয়ার পাশাপাশি চারজন জখম হয়েছিলেন।


