ভারতীয় জনতা পার্টির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক রাম মাধবের অসম সফরের পর মঙ্গলবার সকালে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও উদ্যোগমন্ত্রী সোম প্রকাশ গুয়াহাটি এসেছেন।
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
গোটা দেশের সঙ্গে সংগতি রেখে অসমেও ‘সম্পর্ক অভিযান’এর ব্যাপক কর্মসূচি রূপায়িত করছে বিজেপি। গত কয়েকদিন ধরে অসম সফরে বেশ কয়েকজন দলের কেন্দ্রীয় নেতা থেকে শুরু করে মন্ত্রীদের আনাগোনা চলছে। ভারতীয় জনতা পার্টির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক রাম মাধবের অসম সফরের পর মঙ্গলবার সকালে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও উদ্যোগমন্ত্রী সোম প্রকাশ গুয়াহাটি এসেছেন।
গুয়াহাটি এসে তিনি যান নীলাচল পাহাড়ে অবস্থিত শক্তিপীঠ দেবী কামাখ্যা দর্শন করে আশীর্বাদ নিয়েছেন। সেখানে তিনি মায়ের পুজো দিয়ে মন্দির প্রদক্ষিণ করেন। মন্দির চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলে মন্ত্রী সোম প্রকাশ বলেন, মা কামাখ্যাকে দর্শন করে তাঁর আশীর্বাদ নিতে পেরে তিনি নিজেকে খুব সৌভাগ্যবান মনে করছেন।
সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রতিই কেবল কেন্দ্রীয় সরকার নজর দিয়েছে তা-নয়, সমগ্র দেশের পার্বত্য প্রদেশগুলির প্রতিও মোদিজি বিশেষ দৃষ্টি রেখেছেন। তিনি আরও বলেন, অসম সফরে এসে তিনি রাজ্যের উদ্যোগপতিদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যাতে বেশি করে বেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে তার ওপর বিশেষভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কাশ্মীর প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সোম প্রকাশ বলেন, কাশ্মীরের অবস্থা এখন অনেক ভালো। যে কেউ সেখানে গিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুরে আসতে পারেন। কাশ্মীর এখন ভারতের সাথে একীভূত হয়ে গেছে। অসমের সমস্যা নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সাথে আলোচনায় বসবেন বলেও জানান মন্ত্রী।
কামাখ্যাধাম থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মালিগাঁওয়ের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে মুখ্য কার্যালয়ের সামনে অবস্থিত নেপালি সাহিত্য সভার সভাপতি দুর্গা খটিবাড়ার বাড়ি যান। সেখানে তিনি দুর্গা খটিবাড়ার সঙ্গে কাশ্মীর ও এনআরসি সংক্রান্ত নানা বিষয়ে আলোচনা করেন। কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা ও ৩৫-এ প্রসঙ্গেও বিস্তৃতভাবে আলোচনা করেন মন্ত্রী। খটিবাড়াকে তিনি জানান, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৫-এ ৩৭০ ধারার একটা অংশ। এই ধারার বলে অন্য কোনও রাজ্যের নাগরিক কাশ্মীরে কোনও জমি-সম্পত্তি কিনতে কিংবা স্থায়ী নাগরিক হয়ে থাকতে পারবেন না। কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু-কাশ্মীরকে বিশেষ ক্ষমতা প্রদত্ত ৩৭০ ধারা বাতিল করে কাশ্মীরকে ভারতের সাথে জুড়ে দিয়েছে।
এদিকে দুর্গা খটিবাড়া বলেন, তিনি আজ খুবই খুশি। কারণ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আজ তাঁর বাড়িতে এসেছেন। তিনি আরও বলেন, আমরা ভারতীয় আর কাশ্মীর নিয়ে সরকার যে ফায়সালা নিয়েছে তা আরও আগে নিলেই ভালো হত । এছাড়া তিনি মন্ত্রীর সাথে এনআরসি এবং নেপালি সাহিত্য ও নেপালি ভাষায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের যে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় সে বিষয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেন।
দুর্গাবাবুর বাড়ি থেকে বেরিয়ে কেন্দ্রীয়মন্ত্রী সোম প্রকাশ রেডিসন ব্লু সংলগ্ন তাইবুননিসার বাড়ি যান। সেখান থেকে তিনি গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. প্রতাপজ্যোতি সন্দিকৈর সঙ্গে দেখা করে একই বিষয়ে এবং উচ্চশিক্ষাক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের গৃহীত নানা সিদ্ধান্ত সম্পর্কে মতবিনিময় করেন।


