বিহারের শ্রীকৃষ্ণ সায়েন্স সেন্টারের বিজ্ঞানীদের মত, পাথরটির গায়ে থাকা খাঁজ যুক্ত অংশ কেবলমাত্র কোনও উল্কাপিণ্ডেই থাকা সম্ভব
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
গত বুধবার দুপুর দুটো বেজে তিরিশ। অন্যান্য দিনের মতোই ধান খেতে চাষের কাজে ব্যস্ত ছিলেন কৃষকরা। সারাদিন পরিশ্রমের পর কাজ প্রায় শেষের দিকে। তাড়াতাড়ি কাজ গুছিয়ে বাড়ি ফেরার ব্যস্ততা তখন চাষিদের মধ্যে। পড়ন্ত বেলায হঠাৎ করেই বিকট শব্দে চমকে উঠলেন সকলে। প্রচণ্ড এক শব্দে বুক কেঁপে উঠল। শব্দের উৎসের দিকে চোখ যেতেই নজরে এল খেতের মাঝেই তৈরি হয়েছে বিশাল একটা গর্ত। আর তার মধ্যেই পড়ে রয়েছে একটা গোল বল। দেখতে কতকটা ফুটবলের মতো হলেও, ঠিক মসৃণ গোলাকার নয়। রুক্ষ পাথুরে হালকা বাদামি রঙয়ের ওই গোলাকার জিনিসটার গা থেকে তখনও বেরোচ্ছে ধোঁয়া। ভয়ের চোটে সকলে মাঠ ছেড়ে পালায়। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর বিহারের মধুবনি জেলায়।
প্রথমে বিষয়টিতে আঁতকে উঠেছিলেন মাঠে উপস্থিত বেশির ভাগ মানুষই। তবে প্রাথমিক ধাক্কা সামলে তাঁদের মধ্যেই কেউ কেউ সাহস করে পাথুরে জিনিসটার কাছে গিয়ে বুঝতে পারেন বস্তুটির আশেপাশে লোহার জিনিস নিয়ে গেলেই আটকে যাচ্ছে। এটা স্পষ্ট যে শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে ওই বস্তুটির চারপাশে। অমসৃণ গোলাকার ওই পাথুরে জিনিসটার গায়ে আবার রয়েছে অসংখ্য খাঁজ। চার ফুট গভীর গর্তের ভিতর থেকে পাথরটি উদ্ধার করে উল্কাপিণ্ড মনে করে জমা করে দেন স্থানীয় প্রশাসনের কাছে। তারপর তাদের তরফেই পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এই জিনিসটা মিউজিয়ামে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা এএফপিকে মধুবনির জেলাশাসক শীর্ষত কপিল অশোক জানিয়েছেন, ‘‘লাউকাহি থানার অন্তর্গত মহাদেবা গ্রামে কৃষকরা ধানখেতে কাজ করার সময় অস্বাভাবিক জোরালো শব্দ শুনতে পায়। শব্দের উৎস খুঁজতে গিয়ে কৃষকরা দেখেন, খেতের মধ্যে প্রায চার ফুট গর্ত হয়ে রয়েছে আর তার মধ্যে পড়ে রয়েছে প্রায় ১৪-১৫ কেজি ওজনের একটি পাথরের টুকরো।”
বিহারের শ্রীকৃষ্ণ সায়েন্স সেন্টারের বিজ্ঞানীরা আপাতত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন এই পাথরটিকে নিয়ে। তাঁদেরও অনুমান, এটি উল্কাপিণ্ডই। কারণ হিসাবে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা বলেছেন, পাথরটির গায়ে থাকা খাঁজ যুক্ত অংশ কেবলমাত্র কোনও উল্কাপিণ্ডেই থাকা সম্ভব। পাশাপাশি তাঁরা জানিয়েছেন, উল্কাপিণ্ডে এই খাঁজ তৈরি হয় পৃথিবীর বায়ুস্তর ভেদ করার সময়। তবে বিজ্ঞানীরা এটাও জানিয়েছেন, পুরো পরীক্ষার পরেই সঠিক ভাবে বলা সম্ভব হবে যে এটা উল্কাপিণ্ড, না কি অন্যকিছু। এদিকে, মধুবনির জেলাশাসকেরও সন্দেহ পাথরটি সম্ভবত উল্কাপিণ্ডই হবে। তিনি বলেছেন, ‘‘আমরা দেখলাম এটার খুবই শক্তিশালী চৌম্বক ধর্ম রয়েছে। ওজন পনেরো কিলোগ্রামের মতো হবে।” ইতিমধ্যে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার মিউিজয়ামে গিয পরিদর্শন করে এসেছেন।
উল্লখ্য, উল্কায় থাকে পাথর ও ধুলো। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করলে যার অধিকাংশই পুড়ে যায়। তবে কোনও কোনও টুকরো পৃথিবীর বুকে আছড়েও পড়ে।


