এই প্রথম, ব্রহ্মপুত্র নদে এ ধরনের দুঃসাহসিক অভিযানের আয়োজন করেছিল এনসিসি।
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
ব্রহ্মপুত্র নদে দশ দিনব্যাপী এনসিসি-র পাল তোলা নৌকা অভিযান শুক্রবার সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। অভিযানের শেষ দিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল। ২২০ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীপথে অভিযান ১৬ অক্টোবর বিশ্বনাথ চারআলি থেকে শুরু করেছিল এনসিসি কর্তৃপক্ষ। এর সমাপ্তি আজ গুয়াহাটির পাণ্ডুপোর্টে এসে শেষ হয়েছে দীর্ঘ অভিযানে অংশগ্রহণ করেছিলেন ৬০ জন ক্যাডার। এঁদের মধ্যেও ছয়জন কলেজ ও স্কুলের ছাত্রী ছিলেন।
এই প্রথম, ব্রহ্মপুত্র নদে এ ধরনের দুঃসাহসিক অভিযানের আয়োজন করেছিল এনসিসি। এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল বলেন, নতুন প্রজন্মকে একজন ভালো নাগরিক হিসেবে তৈরি করার পাশাপাশি তাঁদের একেকজন দক্ষ সৈনিক হিসেবে গড়ার জন্য অনুপ্রাণিত করবে এ ধরনের অভিযান। কারণ দেশের অখণ্ডতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, ঐক্য রক্ষা করার জন্য একজন ভালো নাগরিক এবং একজন ভালো সৈনিকের মহত্বপূর্ণ যোগদান থাকে।

দশদিনের এই অভিযানে ক্যাডারদের একজন ভালো নৌসেনা হিসেবে তৈরি করার জন্য বিভিন্ন রীতি, নীতি, দক্ষতা এবং চ্যালেঞ্জিং স্থিতিতে কীভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করা যায় সে সব বিষয়ে বিস্তৃতভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ব্রহ্মপুত্র নদে অনুষ্ঠিত এই অভিযান খুবই দুঃসাহসিক ছিল। শরাইঘাটে যুদ্ধ এবং বীর লাচিতের কথা স্মরণ করে এই অভিযানের নাম রাখা হয়েছে লাচিত ১।
ব্রহ্মপুত্র বিখ্যাত এবং খুব বিপদসংকুল নদ। এই নদবক্ষে ক্যাডারদের সমস্ত ধরনের কঠিন প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করার প্রচেষ্টা হয়েছে। তাঁরা যাতে কোনও ধরনের সমস্যার সম্মুখিন হলে তার মোকাবিলা সহজেই করতে পারে। ভবিষ্যতে তারা যেন জীবনে এগিয়ে যেতে পারে। জীবনের সমস্যা তো আছেই। কিন্তু সমস্যার সমাধান কীভাবে করতে হবে এবং এর মোকাবিলা কীভাবে করতে হবে, তার সঙ্গে একজন ভালো নাগরিক হিসেবে তৈরি করার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এই অভিযানে টিম স্পিরিটের উপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে যাতে তাঁরা ভবিষ্যতে সমস্ত ধরনের সমস্যার জন্য তৈরি থাকতে পারেন। এই অভিযান বিশ্বনাথ থেকে আরম্ভ করে তেজপুর, শিলঘাট, সিরঙ্গি, কঁঠালি, পালগুড়ি, কুড়ুয়া, তিতিমারা, আমিনগাঁওকে ছুঁয়ে পাণ্ডুঘাটে পৌঁছেছে।


