আনুমানিক ১৮০০ সালে রাজীব গোস্বামীর হাত ধরেই তৈরি হয় এই বাড়ির বিশাল ও সুসজ্জিত ঠাকুর দালান
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
সালটা ১৫৯৫, শ্রীরামপুরের গোস্বামী বাড়ির পারিবারিক দুর্গাপুজোর সুচনা করেন রাম গোবিন্দ গোস্বামী। সেই থেকে বংশ পরম্পরায় হয়ে আসছে এই পুজো। হুগলি জেলায় প্রাচীনতম কয়েকটি পুুজোর মধ্যে অন্যতম শ্রীরামপুরের এই গোস্বামী বড়ির পুজো। এই পরিবারের দুর্গাপুজো এবছর ৪১৪ বছরে পড়ল।
হুগলি জেলার শেওড়াফুলি অঞ্চলের জমিদার শ্রী মনোহর রায় নিজের জমিদারি থেকে এক বিশালায়তন জমি দান করেছিলেন। বংশানুক্রমে শ্রী রাম গোবিন্দ গোস্বামীর পৌত্র শ্রী হরিনারায়ণ গোস্বামী শ্রীরামপুর অঞ্চলে প্রাপ্ত জমিটির ওপর এক সুবিশাল অট্টালিকা স্থাপন করেন। যা বর্তমানে গোস্বামী বাড়ি নামে পরিচিত। একটা সময় এই গোস্বামী বাড়ির পদবী ছিল চক্রবর্তী, কিন্তু মহাপ্রভু চৈতন্যদেব রাম গোবিন্দকে বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত করার পর গোস্বামী পদবীতে পরিবর্তন হয়ে যায় এই পরিবার।
তাই গোস্বামী পরিবারের দুর্গাপুজো হয় বৈষ্ণব মতে। গোস্বামী বাড়ির ঠাকুর দালানে রথের দিনই কাঠামো পুজোর মাধ্যমে শুরু হয় মায়ের মূর্তি তৈরির কাজ। কুলোর আকারের একচালা কাঠামোয় মায়ের মূর্তির সঙ্গে লক্ষী, গণেশ, কার্তিক ও সরস্বতীও অবস্থান করেন। যদিও একটা সময়ে এখানে কোনও ঠাকুর দালান ছিল না, ফাঁকা জায়গায় চাঁদোয়া খাটিয়ে করা হত মায়ের আরাধনা। আনুমানিক ১৮০০ সালে রাজীব গোস্বামীর হাত ধরেই তৈরি হয় এই বাড়ির বিশাল ও সুসজ্জিত ঠাকুর দালান।
মহালয়াতেই একপ্রকার শুরু হয়ে যায় পুজো, চলে আসেন বাইরে থাকা আত্বীয়রা ও প্রতিবেশীরা। ষষ্ঠীতে হয় দেবীর বোধন, সপ্তমীতে কলা বৌ স্নান, এই বাড়িতে কলা বৌ স্নানের একটা রীতি রয়েছে, সেটা হলে শ্রীরামপুরের এই গোস্বামী বাড়িটি একেবারে গঙ্গার কাছে থাকলেও কলা বৌ-কে গঙ্গায় নিয়ে যাওয়া হয় না। বাড়িতেই কলা বৌ-কে স্নান করানো হয়।
অষ্টমীর সন্ধিপুজো ও কুমারী পুজো দেখতে এই বাড়িতে বহু মানুষ ভিড় করেন, নবমীতে ধুনো পোড়ানোর রীতি রয়েছে। দশমীতে নিয়ম একটু অভিনব, এই পরিবারের এয়ো স্ত্রী-রা মাছ ভাত খেয়ে উমা’কে বরণ করেন। দশমীতে এই বাড়ির সিঁদুর খেলা দেখার মতো। শ্রীরামপুরে গঙ্গায় সবার আগে এই বাড়ির উমাকে বিসর্জন দেওয়া হয়। এরপর শহরের বাকি পুজোগুলির প্রতিমাকে বিসর্জন দেওয়া হয়।


