পুজোর আগেই বিসর্জনের ঘাটগুলির উপর নজরদারি চালাবে পুরসভা কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে সম্প্রতি জাজেস ঘাট সংস্কারকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিতর্ক শুরু হয়েছিল কলকাতা পুরসভার। এর জেরে সংস্কারের কাজ থেমে যায়
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
শেষ পর্যন্ত জট কাটল জাজেস ঘাট অর্থাৎ গোয়ালিয়র ঘাটের। আগামী ১০ সেপ্টম্বরের মধ্যে বিসর্জন এর জন্য আপাতভাবে এই ঘাটকে প্রস্তুত করে তোলা হবে। সোমবার কলকাতা পুরসভায় সেনা, বন্দর কর্তৃপক্ষকে নিয়ে এক বৈঠকে কাটল জটিলতা।
কলকাতা পুরসভার তরফ থেকে জানানো হয়েছিল, পুজোর আগেই বিসর্জনের ঘাটগুলির উপর নজরদারি চালাবে পুরসভা কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে সম্প্রতি জাজেস ঘাট সংস্কারকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিতর্ক শুরু হয়েছিল কলকাতা পুরসভার। এর জেরে সংস্কারের কাজ থেমে যায়। সেনাবাহিনীর তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল, তাদের অনুমতি না নিয়েই এই সংস্কার করা হচ্ছে। সেই কারণেই তারা গিয়ে ওই সংস্কারের কাজ ভেঙে দেয়। বন্দর কর্তৃপক্ষের ওই এলাকায় ঘাট নির্মাণ ভেঙে দেওয়ায় তাঁরা অভিযোগ করে কলকাতা পুরসভার কাছে| এরপর নড়েচড়ে বসে কলকাতা পুরসভা। সোমবার মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমারের পৌরহিত্যে ও পুরসভার কমিশনার খলিল আহমেদ এর উপস্থিতিতে সেনাবাহিনী ভারতীয় রেল সহ বিশিষ্ট আধিকারিকদের নিয়ে পৌরসভায় এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এদিনের বৈঠকের পর দেবাশীষবাবু জানান, “যেকোনওভাবেই যাতে গোয়ালিয়র ঘটে বিসর্জন করা যায় তার জন্য যে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার তা নিতে হবে| আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে গোয়ালিয়র ঘাট বিসর্জন উপযোগী করে তুলতে হবে| তারপর আমরা গিয়ে ঘাটের অবস্থা খতিয়ে দেখব|” তিনি অবশ্য জানান, “এই ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ঘাটকে বিসর্জন উপযোগী করে তোলা স্বল্প মেয়াদী কাজ| কিন্তু সৌন্দর্যায়ন দীর্ঘমেয়াদী| সেটা ধীরে ধীরে করা হবে|”
এই পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও এদিন জানান দেবাশিসবাবু| বিশেষ পুর কমিশনার তাপস চৌধুরীর নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়েছে| সেখানে পুর প্রতিনিধিরা ছাড়াও, বন্দর, সেনা, কলকাতা পুলিশের প্রতিনিধিরা থাকবেন|
২৮ সেপ্টেম্বর যেহেতু মহালয়া তাই ওই সময় তর্পণ করতে বহু লোক এই ঘাটে আসেন| তাই তার আগেই আপাতভাবে গোয়ালিয়র ঘাটকে সংস্কার করতে উদ্যোগী হয়েছে কলকাতা পুরসভা| তবে সংস্কারের এই টাকা বন্দর বিভাগ দেবে নাকি পুরসভা দেবে সেই নিয়ে রয়েছে সংশয়| দেবাশীষ কুমার অবশ্য জানিয়েছেন, বন্দর বিভাগ যদি টাকা না দেয় তবে পুরসভা তার তহবিল থেকেই টাকা দেবে|


