নদী খেয়েছে রাস্তা, নিরুত্তাপ প্রশাসন

2 - মিনিট |

নদীর গ্রাসে গিয়েছে রাস্তা,বেকায়দায় পড়ে নিজেদের টাকায় নিজেরাই রাস্তা তৈরিতে নামলেন চুইয়া বস্তিবাসী

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

নদীর গ্রাসে ছন্দপতন ঘটেছে গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থার। বেকায়দায় পড়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে বারবার জানিয়েও ফল না মেলায় অবশেষে নিজেদের টাকায় নিজেরাই রাস্তা তৈরিতে নামলেন চুইয়া বস্তিবাসী। বর্ষা শুরু হতে না হতেই অকেজো হয়ে পড়ে গ্রামের রাস্তা। বৃষ্টিতে নদীর ভয়াবহ গ্রাসে রাস্তা ধুয়ে সাফ হয়ে যায়। এবারের বর্ষাতেও ঘটেছে ঠিক একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ।


এই মুহুর্তেও প্রায় এক হাঁটু সমান জল পেরিয়েই বাধ্য হয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে তাঁদের । ব্যাড যায়নি স্কুল পড়ুয়ারাও। ব্যাগ ও জুতো মাথায় নিয়েই স্কুলে যেতে হচ্ছে তাদের । এই সমস্যার মুখে মালবাজার মহকুমার ওদলাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের চুইয়াবস্তি এলাকার প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবারের মানুষ। গ্রামবাসী সূত্রের খবর, প্রতি বছর বর্ষার সময় গ্রামের ঢোকার রাস্তা বন্ধ হয়ে যায় । নদীর ভয়াবহ বন্যার কবলে তলিয়ে যায় রাস্তা। প্রায় ধুয়ে মুছে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় রাস্তার অস্তিত্ব । বারবার জানালেও পঞ্চায়েত বা পঞ্চায়েত প্রধান কেউ ভ্রুক্ষেপ করেনি। তাই নিজেরাই নিজেদের সমস্যা সমাধানে নেমেছি। মঙ্গলবার সকাল থেকে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসিরা নিজেরাই রাস্তা তৈরির কাজ শুরু করলেন নিজেদের খরচায়। সকাল থেকে গ্রামের ছোট বড়, পুরুষ – মহিলারা রাস্তা তৈরির কাজে হাত লাগিয়েছেন।


গ্রামের মানুষ রফিক আলম, মহম্মদ রাজু, সাইরা বানুদের অভিযোগ, প্রতিবছর গ্রামের ঢোকার রাস্তার ওপর দিয়ে লিস নদীর একটি জলের ধারা প্রবাহিত হয়। বহুবার গ্রাম পঞ্চায়েত এবং গ্রাম পঞ্চায়েতর সদস্য কে বলেও কোনও লাভ হয়নি। রাস্তাও তৈরি হয়নি।
পাশাপাশি এই নদীটি গ্রামের দিকে চলে আসছে বলে দাবি গ্রামের মানুষের। বর্ষার আগে গ্রামের মানুষেরাই মাটি ফেলে একটি রাস্তা তৈরি করেছিল কিন্তু এখন আর সেই রাস্তা নেই।ছোট্ট এই নদীর জল প্রবাহে তা ধুয়ে গিয়েছে। এদিন নিজেরাই বালির বস্তা দিয়ে রাস্তা তৈরি করতে দেখা যায়। আর এতে গ্রামের যুবকদের সাথে হাত লাগিয়েছে গ্রামের মহিলারও। গ্রামে যেমন রাস্তা নেই তেমন রাস্তাঘাটে আলোর ব্যবস্থাও নেই।পঞ্চায়েতের তরফে কিছু মেলেনা এই এলাকায়।
এব্যাপারে এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য অনুকা লামা বলেন, বর্ষার সময় কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। তার ওপর তিন মাস নদী বন্ধ আছে। তাই রাস্তা তৈরি করতে যে সামগ্রী প্রয়োজন তা মিলছে না। দিন পনোরো বাদে রাস্তার কাজে হাত লাগানো হবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *