এখনও আকর্ষণ বাগবাজারে ‘বাবুদের বাবু’-র স্মৃতির পুজো

< 1 - মিনিট |

দেবী মূর্তিতে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গনেশ এর অবস্থান এর বদলে জয়া এবং বিজয়া অবস্থিত

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

এ পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ‘বাবুদের বাবু’-র স্মৃতি।  আজ কে-ই বা মনে রেখেছেন সেকালের অন্যতম ‘সেলেব’ প্রাণকৃষ্ণ হালদারকে? বাগবাজারের হালদারবাড়ির দুর্গোৎসবে প্রায় ৪৫০ বছর ধরেই এক অদ্ভুত নিয়ম চলে আসছে।

কারও মৃত্যুতেও থামে না এই পরিবারের দেবীর পুজো।দেবীর নিত্য পুজোয় কোনও ঘাটতি হয় না। দেবীর মূর্তি কষ্টি পাথরে নির্মিত। দেবী মূর্তিতে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গনেশ এর অবস্থান এর বদলে জয়া এবং বিজয়া অবস্থিত। শীর্ষে মহাকাল এবং তার দুইপাশে পরী মূর্তি দেখা যায়। দেবী পদ্মের উপর দাঁড়িয়ে।

কথিত আছে যে এই বংশের একজন ওড়িশার বালাসোরে ভ্রমণে গিয়েছিলেন। তখন দেবী তাঁকে স্বপ্নাদেশ দেন। সেই স্বপ্ন অনুযায়ী একজন মুসলিম জেলের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে এসে তাঁকে যেন নিত্যপুজো করা হয় এই নির্দেশ মেলে। সেই ব্যক্তি তৎক্ষণাৎ ওই অঞ্চলে খনন করে আড়াই ফুটের এই মূর্তি উদ্ধার করেন।

সম্ভবত বঙ্গে মুসলমান আক্রমণের সময়ে কোনও ভক্ত দেবীকে মাটির তলায় সুরক্ষিত রেখেছিলেন। সেই থেকে তিনি হালদার পরিবারে পূজিতা। এই বাড়িতে দেবীর নিত্য পুজো কখনও বন্ধ হয় না,এমনকি বাড়ির কেউ মারা গেলেও মৃতদেহ বাড়ি থেকে বাইরে চলে গেলে দেবীর নিত্য পুজো হয়। এই পরিবারের আর এক পুরুষ প্রাণকৃষ্ণ হালদারের সময়ে অর্থ এবং প্রতিপত্তি দুইই রীতিমতো বৃদ্ধি পায়।

বেঙ্গল গেজেট, সমাচার দর্পণ সমেত সেই সময়ের কিছু নামী কাগজে তাঁকে ‘বাবুদের বাবু’ বলে উল্লেখ করে। ইংরেজদের সঙ্গে যথেষ্ট হৃদ্যতা থাকায় তিনি প্রতি পুজোয় তাঁদের আমন্ত্রণ করতেন। নিজের জাঁকজমক এবং ঐশ্বর্য দেখানোর জন্য দেবীর মাটির মূর্তি পুজো করতেন। সেই সঙ্গে ঠাকুরের পাশে এই মূর্তিও পূজিত হতেন। এখন এই বাড়িতে শুধুমাত্র কষ্ঠিপাথরের মূর্তিটিই পূজিত হয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related news