কাশ্মীর বার্তায় বিদায় প্রাক্তন বিদেশ মন্ত্রীর
কাশ্মীরে ৩৭০ ধারার বিলোপের মতো গম্ভীর ইস্যুতে তোলপাড় যখন সারা দেশ ঠিক তখন রাত ১০.৩০ টা নাগাদ দেশবাসীকে হতচকিত করে চলে গেলেন কেন্দ্রীয় প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।
হঠাৎই শোনা যায় তাঁর মৃত্যুর খবর। যদিও সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে ঘণ্টা খানেক আগেই শোনা গিয়েছিল হঠাৎ-ই বুকে কষ্ট নিয়ে দিল্লির এইমসে ভর্তি হয়েছেন ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের লৌহমানবী সুষমা। কিন্তু তারপরই যে মৃত্যুর খবর আসবে এমনটা হয়তো বিধাতা ছাড়া আর কারোরই ভাবার কথা নয়। ভাববেই বা কেন, নেত্রী সন্ধ্যা ৭.৩০ নাগাদ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কাশ্মীর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে লিখেছেন,’আমি আমার জীবৎদশায় এই দিনটি দেখার জন্যই প্রতীক্ষা করছিলাম। এই টুইটের কিছুক্ষণ পরেই সবাইকে অবাক করে স্বর্গালোকের উদ্দেশ্যে পাড়ি দেন তিনি। তাঁর এই অকস্মাৎ মৃত্যুর খবরে রাজনৈতিক মহল তো বটেই এমনকী দেশজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
অনেক বছর ধরেই তিনি ভুগছিলেন কিডনির সমস্যায়। এমনকী ২০১৬ সালে বিদেশে গিয়ে তিনি কিডনি প্রতিস্থাপনও করিয়েছেন। স্বাস্থ্যের কারণেই ২০১৯ ইলেকশনেও দেখা যায়নি তাঁর প্রতক্ষ্য অংশগ্রহণ। তবে টুইট সাইটে ছিল তাঁর অবাধ বিচরণ। প্রতক্ষ্যভাবে দলের সঙ্গে যুক্ত হতে না পারলেও দলের প্রতিটি সিদ্ধান্তে নজর ছিল তাঁর। ইদানীং স্বাস্থ্যের অবস্থা ঠিকই ছিল। আচমকা এতটা শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটবে এটার কোনও পূর্বলক্ষণ ছিল না।
তাঁর অসুস্থতার খবর পেয়েই বিভিন্ন বিজেপি সাংসদ একে একে ভিড় জমাতে শুরু করেন এইমসের চত্বরে। ঠিক তখনই শোনা যায় তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যুর কথা।
একনজরে
- সাতবারের সাংসদ এবং তিনবারের বিধায়ক
- দিল্লির প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী
- মাত্র ২৫ বছর বয়সেই ছিলেন হরিয়ানার মহিলা ক্যাবিনেট মন্ত্রী
- অসাধারণ বাগ্মী এবং দূরদর্শিতা
- ভারতের সবচেয়ে বেশি সময়ের জন্য মনোনীত মহিলা বিদেশমন্ত্রী
- পাশাপাশি তিনি সামলেছেন বিরোধী দলনেত্রীর দায়িত্বও
তাঁর ব্যক্তিগত ক্ষতি উল্লেখ করে টুইটে করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থেকে শুরু করে কংগ্রেস-সহ সকলেই তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় টুইট করেন। তাঁর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের বার্তা, ‘সুষমা স্বরাজের মৃত্যুর দুঃসংবাদ শুনে দুঃখিত। প্রিয় নেত্রীকে হারালেন দেশবাসী। দেশের জনগণের স্বার্থে কাজ করার জন্য তিনি চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।’ প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের বার্তা, ‘সুবক্তা, অসাধারণ নেত্রী। বিচক্ষণ সাংসদ সুষমা স্বরাজের প্রয়াণে স্তব্ধ। তিনি চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।’
মঙ্গলবার রাতেই শোকপ্রকাশ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘গভীর শোকাহত, সুষমা স্বরাজজির অকস্মাৎ প্রয়াণে স্তব্ধ। ১৯৯০ সাল থেকে তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয়। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হলেও, সংসদে বহু সময় একসঙ্গে কাটিয়েছি আমরা। অসাধারণ রাজনীতিক, নেত্রী, ভালো মানুষ ছিলেন তিনি। তাঁকে আমরা চিরকাল মনে রাখব।’ শোকপ্রকাশ করেছেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীও। শোকবার্তায় রাহুল জানিয়েছেন, ‘সুষমা স্বরাজের মৃত্যু সংবাদ শুনে শোকস্তব্ধ। অসাধারণ রাজনৈতিক নেত্রী ছিলেন তিনি। একজন ভালো বক্তা এবং ব্যতিক্রমী সাংসদ ছিলেন। তাঁর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা।’
সুষমা স্বরাজকে শববাহী শকেট বুধবার সকালে নয়াদিল্লির বাসভবন থেকে পণ্ডিত দীপদয়াল উপাধ্যায় মার্গে বিজেপির সদর দফতরে আনা হয়৷ দলের সদর দফতের তাঁর মরদেহ পৌঁছলে দলীয় পতাকায় দেহ মুড়ে দেওয়া হয়। দলের নেতা-নেত্রীরা তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। এদিন সকাল থেকেই সুষমার বাসভবনে ভিড় জমেছে। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থেকে সাধারণ মানুষ-প্রিয় নেত্রীকে শেষশ্রদ্ধা জানাতে সবাই হাজির হয়েছেন। এদিন সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, সাংসদ হেমামালিনী তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তাঁর বাসভবনে পৌঁছন৷ বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদবানি টুইটে লেখেন, সুষমার প্রয়াণ দেশের জন্য একটা বড় ক্ষতি ৷

বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়, রবি কিষেণ, বাবা রামদেব সহ আরও অনেকে শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা জানান উপরাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নাইডুও। প্রয়াত সুষমা স্বরাজের নয়াদিল্লির বাসভবনে গিয়ে প্রয়াত নেত্রীকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রয়াত নেত্রীকে সামনে দেখে এবার আর চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না প্রধানমন্ত্রী মোদি। দলীয় সূত্রে খবর, এদিন বিকেল তিনটেয় পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।


