নিকাশিতে বেহাল! জলমগ্ন খড়্গপুর পুরসভা

< 1 - মিনিট |

শহরের নাগরিকদের একাংশের অভিযোগ বেআইনি প্রমোটিং রাজত্ব, অবৈধ নির্মাণ এর ক্ষেত্রে পুরকর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় এই অবস্থার পেছনে দায়ী

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

শনিবার থেকে রবিবার কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টি ৷ সেই বৃষ্টির জমা জলেই জলমগ্ন খড়্গপুর পুরসভার এলাকা ৷ স্টেশন চত্বর থেকে শুরু করে পুরসভার বিভিন্ন এলাকাতেও কোমর ডোবা জল ৷ বেহাল নিকাশীকেই দায়ী করে পুরকতৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছে শহরের অধিবাসীবৃন্দ ৷ পালটা রেলওয়ের এলাকায় নিকাশী না রাখা ও অসহযোগীতার অভিযোগ করেছেন পুরপ্রধান প্রদীপ সরকার ৷

গত দু’দিন ধরে বর্ষণের কারণে খড়্গপুর পুরসভার ৩৫ টি ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ অংশসহ পাশাপাশি এলাকাগুলিও প্লাবিত। সেই জমা জল খড়গপুর শহর এলাকা থেকে বের হতে না পেরে ওয়ার্ডের বিভিন্ন জায়গাতে জমে যায়। রবিবার দুপুরের পর থেকেই খড়গপুর রেল স্টেশন থেকে শুরু করে পৌরসভা এলাকা, ইন্দা, কৌশল্যা,বুলবুলচটি,প্রেমবাজার বিস্তীর্ণ এলাকায় জল জমতে শুরু করে।

জমা জলের কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে পুরসভার সিলভার জুবলি হাই স্কুল, পাশাপাশি দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও। পুরসভার পক্ষ থেকে দেওয়া তথ্য অনুসারে-পাঁচশোর বেশি কাঁচা বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পুরএলাকাতেই। শহরের নাগরিকদের একাংশের অভিযোগ বেআইনি প্রমোটিং রাজত্ব, অবৈধ নির্মাণ এর ক্ষেত্রে পুরকর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় এই অবস্থার পেছনে দায়ী। কারণ গত কয়েক বছরে এলাকায় থাকা অনেকগুলো পুকুর ,নয়ানজুলি, জলাশয় বন্ধ করে সেখানে ছোট বড় বাড়ি, ফ্ল্যাট নয়তো কমিউনিটি হল তৈরি হয়ে গিয়েছে। ফলে নিকাশি ব্যবস্থা একেবারে রুদ্ধ। খড়গপুর স্টেশন লাগোয়া অঞ্চল জমে যাওয়ার কারণে ট্রেন ধরতেই দুর্গতির মুখে জনসাধারণ। এবিষয়ে খড়গপুর পৌরসভার পুরপ্রধান প্রদীপ সরকার বলেন-” রেলওয়ে প্রচুর পরিমাণে জল আমাদের পৌর এলাকাতে এসে জমে। একইভাবে খড়গপুর আইআইটি থেকেও জল হাজির হয়। অথচ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিকাশি ব্যবস্থা ঠিক করার ওপর গুরুত্ব দেয়নি। আমাদেরও পরিচ্ছন্ন করার অনুমতি দিচ্ছে না। তাদের অসহযোগিতার কারণে এই অবস্থা হয়েছে। আমরা দুর্গতদের যতটা সম্ভব উদ্ধার করে খাবারের ব্যবস্থা করছি। পাঁচশোর বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।এরই প্রতিবাদে মঙ্গলবার ডিএরএম অফিসে ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ৷” এ বিষয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো কিছু না বললেও বিজেপির জেলা সভাপতি সমিত দাস বলেন-” খরগপুর পৌরসভা নিজেরা নিজেদের দায় এড়াচ্ছে রেলের দিকে ঠেলে দিয়ে। অবৈধ নির্মাণ করিয়েছে পুরসভাই।”

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *