মাতৃভূমির রক্ষায় নিয়োজিত অতন্দ্র প্রহরীদের সঙ্গে দীপাবলি উৎসব পালন রাজ্যপালের, মিষ্টি বিলি বিজিবি-র মধ্যে

2 - মিনিট |

ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী সুতারকান্দি বিএসএফ চৌকিতে জ‌ওয়ানদের সঙ্গে দীপাবলি উৎসবে শামিল হয়ে এভাবেই নিজের অভিমত ব্যক্ত করেন রাজ্যপাল অধ্যাপক জগদীশ মুখি।

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

পরিবার পরিজনকে ছেড়ে শত্রুর হাত থেকে নিজের মাতৃভূমিকে রক্ষা করতে দিনরাত অতন্দ্র প্রহরীর কর্তব্য পালন করে থাকেন দেশের সেনাবাহিনী। প্রতিক্ষণ নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশবাসীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকেন সেনাবাহিনীর জ‌ওয়ানরা। সীমান্তে সেনাবাহিনীর জ‌ওয়ানরা দেশ‌ ও দেশবাসীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে রাতভর জেগে থাকেন বলেই আমরা নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারি। আলোর উৎসব দীপাবলিতে রবিবার ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী সুতারকান্দি বিএসএফ চৌকিতে জ‌ওয়ানদের সঙ্গে দীপাবলি উৎসবে শামিল হয়ে এভাবেই নিজের অভিমত ব্যক্ত করেন রাজ্যপাল অধ্যাপক জগদীশ মুখি। 

৬২, ৭১ এবং কারগিল যুদ্ধ-সহ বিভিন্ন সময় শত্রু তথা সন্ত্রাসবাদীদের হাতে শহিদ বীর সেনানীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাজ্যপাল। সেই সঙ্গে আলোর উৎসব দীপাবলির পুণ্যলগ্নে সীমান্তরক্ষী বাহিনীদের সঙ্গে শামিল হতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করেন রাজ্যপাল অধ্যাপক জগদীশ মুখি। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আজ সন্ধ্যারাত ৬-টা ৩০ মিনিট নাগাদ রাজ্যপাল সুতারকান্দি বিএসএফ চৌকিতে জ‌ওয়ানদের সঙ্গে দীপাবলি উৎসবে শামিল হন। উৎসবে এসেছিলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (ওপারের সীমান্তরক্ষী)-এর আধিকারিক ও জওয়ান। তাঁদের হাতে দীপাবলির মিষ্টির প্যাকেট তুলে দেন রাজ্যপাল অধ্যাপক মুখি। তার পর উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী সেনাবাহিনীর সঙ্গে ফটো সেশন‌ও করেন রাজ্যপাল ও তাঁর সঙ্গে সহধর্মিনী প্রেম মুখি। 

বিএসএফ-এর অধিকারিকেদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইজি পিকে রোশন ও ডিআইজি সুব্রত সিংহা। এছাড়া ছিলেন করিমগঞ্জের জেলাশাসক আনবামুথান এমপি (আইএএস), পুলিশ সুপার মানবেন্দ্র দেবরায় প্রমুখ অনেকে।

এদিকে রাজ্যপালের আগমন উপলক্ষ্যে আয়োজিত প্রতিটি অনুষ্ঠান ছিল চরম বিশৃঙ্খলায় ভরপুর। সরকারিভাবে আমন্ত্রিত মিডিয়ার সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। এর বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন অনেকে। সুতারকান্দি ট্রেড সেন্টারে রাজ্যপালের অনুষ্ঠান চলাকালীন সময় দু-দুবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে। জেলা প্রশাসন ব্যবস্থা করেছিল লাইটিং, সাউন্ড সিস্টেম। এ-সবের পাশাপাশি অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যবস্থাও ঠিকমতো করতে পারেনি বিএসএফ কর্তৃপক্ষ। মোদ্দাকথায় রাজ্যপালের গোটা অনুষ্ঠানে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয় আজ। 

ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে বিএসএফ জ‌ওয়ানদের সঙ্গে দীপাবলি উৎসবে শামিল হতে রবিবার সকাল ৯-টা ৫০ মিনিটে গুয়াহাটির লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলৈ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিশেষ হেলিকপ্টারে শিলচরের কুম্ভিরগ্রাম বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন সস্ত্রীক রাজ্যপাল। বেলা ১১-টা নাগাদ রাজ্যপালের হেলিকপ্টার শিলচরের কুম্ভিরগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখান থেকে সড়কপথে সোজা করিমগঞ্জ চলে আসেন রাজ্যপাল জগদীশ মুখি। এখানে আবর্ত ভবনে মধ্যাহ্নভোজন করে বিশ্রাম নিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটা নাগাদ রওয়ানা হন সুতারকান্দিতে ভারত-বাংলা সীমান্তে বিএসএফ-এর বিওপি-র উদ্দেশে। আজ রাত তাঁরা করিমগঞ্জ আবর্ত ভবনে কাটাবেন। আগামীকাল সোমবার সকালে ফের গুয়াহাটির উদ্দেশে পাড়ি দেবেন সস্ত্রীক রাজ্যপাল অধ্যাপক জগদীশ মুখি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related news