জন্মভূমির আকাশে বিমান উড়ানোর অনুভূতিতে শিহরিত, বলেছেন ত্রিপুরার ছেলে পাইলট আরমান

2 - মিনিট |

স্বপ্ন যখন আকাশ ছুঁয়ে দেখার, সেই স্বপ্ন নিয়েই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য রাজ্য ত্রিপুরার সন্তান বিমান চালানোর দক্ষতা অর্জন করেছেন

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

স্বপ্ন যখন আকাশ ছুঁয়ে দেখার, সেই স্বপ্ন নিয়েই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য রাজ্য ত্রিপুরার সন্তান বিমান চালানোর দক্ষতা অর্জন করেছেন। তিনি আরমান চৌধুরী। নামেই তো যেন মিশে রয়েছে স্বপ্ন। দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার বিলোনিয়ার বাসিন্দা প্রণব চৌধুরীর একমাত্র সন্তান আরমান চৌধুরী এয়ার এশিয়া বিমান সংস্থার সহ-পাইলট। রবিবার আগরতলা থেকে গুয়াহাটির উদ্দেশ্যে যে প্রথম বিমানটি উড়ে গেছে সেই বিমানের সহ-পাইলটের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। জন্মভূমি থেকে বিমান উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার অনুভূতি শিহরিত করেছে তাঁকে।

 আরমান চৌধুরী জানান, ‘ত্রিপুরার মাটিতে জন্ম আমার, এই মাটি থেকে বিমান উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার আনন্দই আলাদা’। তাঁর কথায়, ‘আজ আগরতলার মাটিতে বিমান নিয়ে নামতেই নিজেকে ধন্য এবং গর্বিত বোধ করেছি’। বিশেষ করে এয়ার এশিয়া কর্তৃপক্ষ তাঁকে এই সুযোগ দেওয়ায় তিনি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেও ভুলেননি। আরমান বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই পাইলট হওয়ার স্বপ্ন বুকে বেঁধেই বড় হয়েছি। কারণ, অসামান্য কাজের প্রতি বরাবরই ঝোঁক ছিল। তাই, আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন সত্যি করার লক্ষ্য নিয়ে চলেছি’। 

তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই বাবা ও মা সব ক্ষেত্রেই সহযোগিতা এবং অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। তাই আজ স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে পেরেছি। আরমান চৌধুরী বলেন, ১ বছর ৯ মাস পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এখন পর্যন্ত ১,২০০ ঘণ্টা এয়ারবাস ৩২০ মডেলের বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা হয়েছে। তবুও রোজ নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করছি। তাঁর কথায়, এয়ারলাইন্স জগতের ব্যাপ্তি বিশাল। এর কোনও সীমা-পরিসীমা নেই। তাই এই জগতটাকে আঁকড়ে ধরে নিজের ভবিষ্যত গড়ার চেষ্টায় রয়েছি। 

আরমান আজ কথা বলতে বারবারই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ছিলেন। কারণ, আজ তিনি প্রথমে আগরতলা থেকে গুয়াহাটি যান। সেখান বিমান নিয়ে আবার আগরতলায় আসেন। এর পর আগরতলা থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে উড়ে যান তিনি। এই মুহূর্তগুলি তাঁর গোটা ক্যারিয়ারের মধ্যে সবচেয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আগেও বিমান চালিয়েছি। কিন্তু, আজকের অনুভূতি সমস্ত কিছুকে ছাড়িয়ে গেছে। 

তিনি জানান, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আবহাওয়ার কারণে বিমান চালানো অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ। তবুও তিনি বিমানের সহ-পাইলটের দায়িত্ব পালনে ভীষণ রোমাঞ্চিত হন। তাঁর দাবি, বিমান সংস্থা সমস্ত প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। ফলে, কঠিন পরিস্থিতিতেও স্বাভাবিকভাবেই বিমান এবং যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পেরে ভীষণ গর্বিত হন। 

আজ তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে বিমান কমান্ডার হওয়ার স্বপ্ন রয়েছে তাঁর। এতে অবশ্য তাঁকে বিশেষ ধরনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে, সাথে নির্দিষ্ট সময় আকাশে ওড়ার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।  এদিকে, ছেলেকে নিয়ে ভীষণ গর্ব অনুভব করেন বাবা প্রণব চৌধুরী। তিনি জানান, বিলোনিয়া আর্য কলোনি বিদ্যালয় থেকে আরমান স্কুল জীবন সমাপ্ত করে দিল্লির পাইওনিয়ার ফ্লাইং অ্যাকাডেমিতে পড়াশুনা করেছে। সেখান থেকেই পাইলট হওয়ার ডিগ্ৰি নিয়েছে আরমান। প্রণববাবু জানান, আরমান এখন কলকাতা বেইসে কর্মরত রয়েছেন। আজ আগরতলার মাটিতে বিমানের পাইলট হিসেবে ছেলের অবতরণে তিনি দারুন আনন্দ অনুভব করছেন। একইসাথে ভীষণ গর্ব বোধও করছেন, জানান অকপটে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *