আইনি জটিলতা কাটিয়ে পুলিশি প্রহরার মধ্য দিয়ে পাথারকান্দিতে শুরু হল অর্ধসমাপ্ত বাইপাস সড়ক নির্মাণের কাজ
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
বহু টানপোড়েন, আইনি জটিলতা কাটিয়ে পুলিশি প্রহরার মধ্য দিয়ে পাথারকান্দিতে শুরু হল অর্ধসমাপ্ত বাইপাস সড়ক নির্মাণের কাজ। অসম-ত্রিপুরা ৮ নম্বর জাতীয় সড়কঘেঁষা পাথারকান্দির মুণ্ডমালা থেকে মৈনা পর্যন্ত বাইপাসের জমি অধিগ্রহণ নিয়ে সম্প্রতি সরকার পক্ষ রায় পেলেও স্থানীয় একটি স্বার্থান্বেষী চক্র এতে ফের বাগড়া দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। এমন-কি সরকারি কাজে কর্তব্যরত ঠিকাদারকে কাজে হাত লাগাতেও এরা বাহুবল দেখিয়ে শাসাচ্ছিল। এই কাজে হাত দিলে সরকার পক্ষকে দেখে নেওয়ার হুমকি পর্যন্ত দিয়েছিল চক্রান্তকারীরা। গোটা ঘটনার ওপর নজর রেখেছিলেন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং পাথারকান্দির বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু পাল।
অবশেষে ঘটনার সমাপ্তি ঘটাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে বিশাল সংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে নামেন সার্কল অফিসার তথা পাথারকান্দির প্রশাসনিক ম্যাজিস্ট্রেট এল খিনতে। তাঁদের নজরদারিতে দুষ্টচক্রের রক্তচক্ষকে উপেক্ষা করে মঙ্গলবার থেকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় অর্ধসমাপ্ত বাইপাসে মাটি ভরাটের কাজ শুরু হয়।
প্রশানিক জনৈক কর্তার বক্তব্য, অসম-ত্রিপুরা ৮ নম্বর জাতীয় সড়কঘেঁষা পাথারকান্দির অত্যন্ত জরুরি বাইপাস সড়কের জমি অধিগ্রহণ নিয়ে বহুদিন আগে থেকে কূটচালে মেতেছিলেন কংগ্রেসের প্রাক্তন মন্ত্রী সিদ্দেক আহমেদ। তিনি এলাকাকাসীর বৃহত্তর স্বার্থের কথা ভুলে নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করতে অন্যায়ের আশ্রয় নিয়ে নিজের দুই নাবালক পুত্র ও স্থানীয় সাতজনের নামে গত ২০১৮ সালে ডব্লিউপিসি ৯৫/২০১৮ নম্বরে গুয়াহাটি উচ্চ আদালতে এক রিট পিটিশন দাখিল করেন। পরে বাইপাসের জমি অধিগ্রহণ নিয়ে কংগ্রেসের প্রাক্তন মন্ত্রীর দুই নাবালক পুত্র ও সাত ব্যক্তির মামলাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে চলতি বছরে সরকার পক্ষ থেকে ২৩৮৩/২০১৯ নম্বরে গুয়াহাটি উচ্চ আদালতে পাল্টা মামলা দায়ের করা হয়। পরে উভয় পক্ষের আবেদনের যুক্তি প্রদর্শন করে উচ্চ আদালতের অতিরিক্ত জ্যেষ্ঠ সরকারি কৌঁসুলি তরুণচন্দ্র চুতিয়া এই বাইপাস নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার কাজ বিগত ২০১৪ সালেই সমাপ্ত হয়েছে বলে জানান। ফলে এই পরিস্থিতিতে এ নিয়ে উত্থাপিত যাবতীয় অভিযোগকে আদালত গুজব বলে ফুৎকারে উড়িয়ে দেয়। এই যুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এদিনই বাইপাস নির্মাণে পূর্ববর্তী সমস্ত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়ায় মাটি ভরাটের অসমাপ্ত কাজ যথারীতি চালিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
অসমাপ্ত কাজ শুরু হতে না-হতেই গত দুদিন থেকে প্রাক্তন মন্ত্রী সিদ্দেক আহমেদের মদতপুষ্ট একটি চক্র ফের এই কাজকে নানা ভাবে বাগড়া দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার ফন্দি আঁটে। পরে স্থানীয় বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু পালের তৎপরতায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে ফের কাজ শুরু হয়। এদিকে চলতি শীতের মরশুমে বাইপাসের মাটি ভরাটের অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন বিধায়ক। তিনি আশাবাদী, সড়কের নির্মাণকাজ ভালোয় ভালোয় সমাপ্ত হয়ে গেলে অসম-ত্রিপুরা ৮ নম্বর জাতীয় সড়কঘেঁষা পাথারকান্দির মতো ছোট শহরে জানজট সমস্যা কমে যাবে। উপকৃত হবেন বৃহত্তর এলাকার জনগণ।


