ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশনার ব্রুস বাকনেল বলেন, ‘এগিয়ে আসতে হবে সবাইকে। যাদের ইতিমধ্যে পাচার করা হয়ে গিয়েছে তারাও যাতে সুস্থ সমাজে ফিরে এসে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে পারে, সে বিষয়েও নজর রাখতে হবে’
মিনাখাঁর বিভিন্ন স্কুল পড়ুয়াদের নিয়ে গঠিত কিচির-মিচির নামক নাট্য সংগঠনের উপস্থাপনায় পরিবেশিত নাটকে বেশ কিছু ছাত্র-ছাত্রী বাল্যবিবাহ ও নারী পাচারের ভয়বহতা তুলে ধরার পর ভাষার দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও নিজের মুগ্ধতা প্রকাশ করতে গিয়ে রীতিমতো আবেগ বিহ্বল হয়ে পড়লেন কলকাতার ব্রিটিশ ডপুটি হাইকমিশনার ব্রুস বাকনেল। মুগ্ধতা ঝড়ে পড়ছিল অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিশু অধিকার কমিশনের সদস্য প্রসূন ভৌমিক সহ মিনাখাঁ ব্লকের বিডিও, মিনাখাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক ও উপস্থিত দর্শকবৃন্দ। আমাদের সমাজের গভীর ক্ষতের দিকটি এই পড়ুযারা যে ভাবে তুলে ধরল, তাতে মনে হত বাধ্য, সত্যিই কি আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুস্থ সমাজ ব্যবস্থা তৈরি করতে পেরেছি! পরিসংখ্যান বলছে, মানুষ পাচারের শীর্ষে অসম আর তার পরেই রয়েছে বাংলা। রামেমাহন-বিদ্যাসাগরের রাজ্যের প্রান্তিক জলাগুলিতে বাল্য বিবাহ এখনও স্বাভাবিক ঘটনা। বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ভিন রাজ্য থেকে এসে বাংলার নাবালক মেয়েদের বিয়ে করে তাদের পাচার করে দেওয়া হচ্ছে অন্যান্য রাজ্য সহ বিদেশেও। পাশাপাশি এ রাজ্যে বাড়ছে শিশু শ্রমিকের সংখ্যাও, এমনকি বাইরের রাজ্যগুলিতেও বাংলা থেকে প্রচুর সংখ্যক শিশু শ্রমিক সরবরাহ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বাড়তি উপার্জনের আশায় গরীব পরিবারের অভিভাবকরাও তাদের নাবালক সন্তানদের তুলে দিচ্ছেন আড়কাঠিদের হাতে।
তবে আশার বিষয় হলো, উদ্ধারের ক্ষেত্রেও দেশের মধ্যে শীর্ষ বাংলাই। আর এটা সম্ভব হয়েছে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও এনজিওগুলির রাচার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের গ্রামাঞ্চলে লাগাতার প্রচার। যার ফলে বৃদ্ধি পেয়েছে সাধাররণ মানুষের মধ্যে সচেতনতাও। কন্যা সন্তানদের নাবালিকা অবস্থায বিয়ে না দিয়ে শিক্ষাদানের গুরুত্ব ক্রমশ বুঝতে শুরু করেছে অপেক্ষাকৃত নিরক্ষর-দরিদ্র গ্রামীণ পরিবারগুলিও।
২০১৩ সাল থেকে ৩০ জুলাই দিনটি ‘বিশ্ব মানব পাচার বিরোধী দিবস’ হিসাবে যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে পালন করে আসছে ইউনাইটেড নেশনস। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার মিনাখাঁয় মঙ্গলবার এই বিশেষ দিনটি উপলক্ষ্যে নেওয়া হয়েছিল বেশ কিছু কর্মসূচি। ব্রিটিশ ডেপুটি হাই কমিশন, কলকাতার সহযোগিতায় এবং এনজিও আশা-র (অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যান্ড হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাকশন) উদ্যোগের এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিদ্যালয়গুলির ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতির পাশপাশি সক্রিয় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল এলাকার প্রশাসনও।


