‘গ্রিন্ডার’ অ্যাপে ‘বিশেষ বন্ধুত্ব’ করতে গিয়ে বিপত্তি!
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
সমকামী সঙ্গী পাওয়ার আশায় সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং অ্যাপ ‘গ্রিন্ডারে’ অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতারণার শিকার বেসরকারি সংস্থার হিসাবরক্ষক কর্মরত বিরাটির এক বাসিন্দা| এই ঘটনায় চলতি মাসের ৭ তারিখ গড়িয়াহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করে ওই যুবক| এরপর তদন্তে নেমে বুধবার রাতে অভিযুক্ত যুবককে তিলজলার শিবতলা লেন এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ|
‘গ্রিন্ডার’ নামে ওই অ্যাপটি মূলত সমকামীদের। তদন্তে নেমে পুলিশ জানে, ওই অ্যাপের মাধ্যমে পুরুষরা নিজেদের মধ্যে ‘বিশেষ বন্ধুত্ব’ করতে পারে। সেখানেই বন্ধুর খোঁজে ক’দিন আগে সেখানে নিজের নাম রেজিস্ট্রেশন করেন প্রতারিত যুবক| বন্ধুত্ব হয় তিলজলা থানা এলাকার এক গাড়ি চালকের সঙ্গে । এরপর ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব গভীর হয়| ঘনিষ্ঠতা বাড়ে| জেরার মুখে প্রতারিত যুবক জানিয়েছে, ওই অ্যাপের মাধ্যমে তিনি বেশ কয়েক জন বন্ধুর হদিশ পেয়েছিলেন। সেখানেই পরিচয় মহম্মদ গোলাম নামে এক যুবকের সাথে| ঘটনার সূত্রপাত এখানেই|
এরপর ওই প্রতারিত যুবক জানিয়েছেন, অ্যাপ থেকে ফোন নম্বর পেয়ে গোলামের সঙ্গে বেশ কয়েক মাস ধরে ফোনে কথাও বলেন তিনি। গত ৬ আগস্ট কড়েয়া এলাকার একটি গেস্ট হাউসে তাঁরা দু’জনে দেখা করার সিদ্ধান্ত নেন। গেস্ট হাইসটি ঠিক করেছিলেন গোলাম। সুমনের অভিযোগ, ওই গেস্টহাউসের একটি ঘরে তাঁরা ঘনিষ্ঠ হওয়ার ঠিক আগে গোলাম তাঁকে নগ্ন করে দেন। তারপর মোবাইলে একের পর এক ছবি তোলেন।
যুবকের অভিযোগ, এরপর ওই নগ্ন ছবি ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে যুবকের থেকে টাকা দাবি করে অভিযুক্ত গোলাম| টাকা দিতে অস্বিকার করায় ডেবিট কার্ড কেড়ে নেয় গোলাম| এমনকি ভয় দেখিয়ে জেনে নেয় কার্ডের পিন নম্বরও| সেই কার্ড দিয়ে অ্যাকাউন্ট থেকে ৩০ হাজার টাকা তোলে ৷ ঘটনায় ৭ তারিখ গড়িয়াহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন যুবকটি ৷ পুলিশকে জানালে এই নগ্ন ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় চড়িয়ে দেওয়ার ভয়ও দেখান অভিযুক্ত|
অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নেমে গোলামের মোবাইল নম্বর খতিয়ে দেখতে গিয়ে পুলিশ দেখে, সেটি ভুয়ো নামে নথিভুক্ত। অ্যাপে দেওয়া বিভিন্ন তথ্য এবং মোবাইলের টাওয়ার লোকেশনের সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্ত গোলাম একটি অ্যাপ ক্যাব সংস্থার চালক। সেই সূত্রেই তিলজলার শিবতলা লেনে অভিযুক্তের হদিশ পায় পুলিশ। তাকে বুধবার রাতে পাকড়াও করার পরেই পুলিশ জানতে পারে, গোটা অপরাধের পিছনে রয়েছে একটি বড়সড় চক্র।
ডিসি (দক্ষিণ-পূর্ব) অজয় প্রসাদ বলেন, ‘‘ আদতে এরা কেউই সমকামী নন| এইসব সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁদ পেতে এইভাবে ব্ল্যাকমেল করে টাকা হাতানোর চেষ্টা করে|” তাঁর আরও মত, “ওই অ্যাপ ক্যাব চালক ছাড়াও চক্রে অনেকে রয়েছে। পরিকল্পনা করে মানুষকে ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেল করছে এরা। বাকিদের পাকড়াও করার চেষ্টা চলছে।”


