শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় বললেন, ‘সমর্থক হিসাবে আজ বড় প্রাপ্তি হল, একদিন যাঁদের খেলা দেখতাম তাঁদের সঙ্গে এক মঞ্চে বসলাম
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
দশকের পর দশক ধরে ‘ইস্টবেঙ্গল’ আর ‘পল্টু দাস’ যেন সমার্থক শব্দ হিসাবেই চলে আসছে। ১৩ আগস্ট জন্মে ছিলেন ময়দানের পল্টুদার। বেঁচে থাকলে এ বছর তিনি পা দিতেন ৭৬ বছরে। ইস্টবেঙ্গল অন্তপ্রাণ পল্টু দাস বেশ কয়েক বছর আগে ক্লাবের জমকালো শতবর্ষ পালনের বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। বর্তমান কর্তাদেরও অভিমত, পল্টুদার পরিকল্পনা শতবর্ষ পালনে অনেকটাই পথ দেখিয়েছে। মৃত্যুর প্রায় এক যুগ পরেও লেসলি ক্লডিয়াস সরণিতে পা রাখলেই কানে আসে পল্টু দাসের নাম। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে আজও তিনি একই ভাবে প্রাসঙ্গিক। পল্টু দাসের জন্মদিনটি প্রতিবছরই ‘ক্রীড়া দিবস’ হিসাবে পালন করে ইস্টবেঙ্গল। এবার শতবর্ষ পালনের অন্যতম অঙ্গ ‘ক্রীড়া দিবস’ পালন। সেই উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) সংবর্ধনা দেওয়া হল ইস্টবেঙ্গলের সব জীবিত অধিনায়কদের। ভারতের ফুটবল ইতিহাসে এই ঘটনা বিরল। এর আগে কোনও ক্লাব এমন সংবর্ধনা দিয়েছেন কিনা তা নিয়ে তর্ক হতে পারে।

অবশ্য শুধু সংবর্ধনা দেওয়া নয়, মঙ্গলবারের ‘ক্রীড়া দিবস’-এ নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ইস্টবেঙ্গলের থিম সঙয়েরও উদ্বোধন হল। ইস্টবেঙ্গলের থিম সঙ গেয়েছেন অরিজিত সিং। নেতাজি ইন্ডোরে থিম সঙয়ের সঙ্গে নাচ করলেন লাল-হলুদ সমর্থকরাও।
জীবিত অধিনায়কদের সংবর্ধনা দেওয়ার অনুষ্ঠানে মূল আকর্যণ ছিল আশির বাদশা মজিদ বাসকার। তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়ার সময় বন্ধু জামশিদকে ডাকা হয়। জামশিদ মজিদকে লাল-হলুদ উত্তরীয় পড়িয়ে দেন। পাশাপাশি এদিন মজিদের হাতে ক্লাবের পক্ষ থেক তুলে দেওয়া হয় ১২ নম্বর জার্সি ।
এদিন জীবিত অধিনায়কদের সংবর্ধনা দেওয়ার অনুষ্ঠানে সত্যিই চাঁদের হাট বসেছিল। কে নেই মঞ্চে?
সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মখোপাধ্যায়, চিত্র পরিচালক তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়, নাট্যকার রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত , ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, মজিদ বাসকর, সুকুমার সমাজপতি, সুলে মুসা, লাল-হলুদ সভাপতি প্রণব দাশগুপ্ত প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন ইমন চক্রবর্তী ও নচিকেতা চক্রবর্তী। সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মখোপাধ্যায় বলেন, ‘সমর্থক হিসাবে আজ বড় প্রাপ্তি হল। একদিন যাঁদের খেলা দেখতাম তাঁদের সঙ্গে এক মঞ্চে বসলাম। এটা আমার বড় পাওনা।’ তবে এদিনের অনুষ্ঠানে বাইচুং ভুটিয়া আসেননি। জীবিত অধিনায়কদের সংবর্ধনা
দেওয়ার পাশাপাশি কোচেদের সংবর্ধনা দেয় লাল-হলুদ। অতীতের বিখ্যাত কোচেদের সংবর্ধিত করেন লাল-হলুদ কর্তারা। এখানেই শেষ নয়, ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের শতবর্ষের অনুষ্ঠান চলবে গোটা বছর জুড়েই।’


