ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র মাতালো খুদে ক্যারাটে প্রশিক্ষার্থীরা

2 - মিনিট |

আয়োজক সংস্থার সভাপতি সত্রাজিৎ চৌধুরি নিজে একজন বিশ্বখ্যাত ক্যারাটেকার। সেভেন ডান ডব্লিউকেএফ, এইট ডান কেএআই ও ডব্লিউএসকেএফ বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জজয়ী সত্রাজিৎবাবু একজন আন্তর্জাতিক পর্যায়ের রেফারি ও পরীক্ষক

সৌম্য বাগচী

তিন বছরের শিশুটি প্রতিপক্ষের মাইগিরি (ক্যারাটের বিশেষ কৌশল) আঘাতে মাটিতে ধরাশায়ী। চোটটা ভালোই লেগেছে বোঝা গেল দুই চোখে জল দেখে। মুখে কিন্তু আত্মবিশ্বাসের ছাপ। জাজ লড়াই থামিয়ে দিয়েছেন। ছুটে এসেছে সতীর্থরা, অভিভাবকদের চোখেমুখে দুশ্চিন্তার ছাপ। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে উঠে দাঁড়াল খুদেটি। কোমড়ে চাোট লেগেছে। সেটা ওঠার সময়ই বোঝা গেল। জাজকে বলল লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত সে। ব্যাথা নিরোধক স্প্রে কোমরে দেওয়া হল। ফের লড়াইয়ের ময়দানে নেমেই ধরাশায়ী করে দিল প্রতিপক্ষকে। আরও অবাক হতে হল যখন দেখা গেল খুদেটির মা ছেলেকে সান্ত্বনা দেওয়ার বদলে রিংয়ে ফেরার জন্য সাহস জোগাচ্ছেন। এই ঘটনাটি রবিবারের তিলোত্তমার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের একটি খণ্ড চিত্র।  

বালুরঘাট নাটকের শহর হিসাবে বহুদিন ধরেই তার ঐতিহ্য বহন করে আসছে। বাংলার নাটককে সমৃদ্ধ করতে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া উত্তরবঙ্গের এই শহরটির গুরুত্ব অপরিসীম। তবে নাটকের পাশপাশি আরও একটি পরিচয়ে বিস্তৃতি পাওয়ার লক্ষ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে শহরটি। অদূর ভবিষ্যতেই ক্যারাটের শহর হয়ে উঠবে বালুরঘাট, এটা ভালোমতোই বোঝা গেল গত রবিবার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে। সাফল্যর তালিকায় রীতিমতো নজর কাড়ল বালুরঘাট ও সংলগ্ন গঙ্গারামপুর-বুনিয়াদপুর অঞ্চলের ছাত্র-ছাত্রীরা।

ওয়ার্ল্ড ট্র্যাডিশন সোতোকান ক্যারাটে ফেডারেশনের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ষষ্ঠ ওয়স্ট বেঙ্গল স্টেট ক্যারাটে চ্যাম্পিয়নশিপ ২০১৯ উপলক্ষে রবিবার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র মেতে উঠেছিল রাজ্যের ১৫টি জেলার ৪০০ জন প্রতিযোগীর উপস্থিতিতে। বয়স ও ওজন ভিত্তিক এই প্রতিযোগীতায় আধো আধো কথা বলা তিন-চার বছরের শিশুদেরকেও দেখা গেল রীতিমতো ক্যারাটের প্যাঁচ-পয়জর কষতে। আর রিংয়ের বাইরে দাঁড়িয়ে শিশুদের রীতিমতো উৎসাহ দিয়ে চলেছেন তাদের বাবা-মায়েরা। কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে তো বটেই, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলি থেকেও প্রচুর সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের আগমনে বিশেষ মাত্রা পেয়েছিল এদিনের অনুষ্ঠান।

আয়োজক সংস্থার সভাপতি সত্রাজিৎ চৌধুরি নিজে একজন বিশ্বখ্যাত ক্যারাটেকার। সেভেন ডান ডব্লিউকেএফ, এইট ডান কেএআই ও ডব্লিউএসকেএফ বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জজয়ী সত্রাজিৎবাবু একজন আন্তর্জাতিক পর্যায়ের রেফারি ও পরীক্ষক। বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে দু’টি সোনাজয়ী অয়ন কুণ্ডু সহ জনা ষাটেক কর্মকর্তাকে নিয়ে তিনি যে ভাবে বিপুল কর্মযজ্ঞ সুষ্ঠভাবে পালন করলেন তা যথেষ্ট প্রশংসার দাবি রাখে। সত্রাজিৎবাবু বললেন, তরুণ প্রতিভাদের কাছে এই প্রতিযোগিতা সোনার সুযোগ নিয়ে এসেছে। জাতীয় পর্যায়ে পারফর্ম করার ক্ষেত্রে এই প্রতিযোগিতা উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম।

তবে এদিনের প্রতিযোগিতায় ‘ম্যান অফ দ্য ডে’ কিন্তু বিশেষ একজন নন, সমস্ত অভিভাবকরাই। বাবা-মায়েরা তাঁদের ঘরকন্যা, অফিস-কাছারি সব ভুলে মোবাইল-ইন্টারনেটের যুগে ছেল-মেয়েদের যেভাবে সুস্থ মানসিকতা গড়ে তুলতে সাহায্য করছেন তা দেখে শিক্ষা নিতে পারেন আধুনিক বং সমাজের অভিভাবকরা, যাঁরা নিজেদের ব্যস্ততা-বিনোদন বজায় রাখতে গিয়ে নিজের শিশুকেই সময় দিতে পারছেন না। বিকল্প হিসাবে সন্তানদের হাতে তুলে দিচ্ছেন মোবাইল-কম্পিউটারের মতো আধুনিক প্রযুক্তি। যা কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আগামী প্রজন্মের বিপদই ডেকে আনছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *