‘আওয়ার হেরিটেজ, আওয়ার প্রাইড’ শীর্ষক উৎসবে সাংস্কৃতিক পরিচয়, ঐতিহ্য ও আঞ্চলিক জীবনের নানা দিক তুলে ধরা ছবিগুলিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেই মঞ্চে ‘টয় গান’-এর স্বীকৃতি মণিপুরি চলচ্চিত্রের জন্য নতুন সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে
ইম্ফল:সংঘাতের মানসিক ক্ষত কীভাবে একটি পরিবারের জীবনকে বদলে দেয়, সেই গল্পই এবার জাতীয় স্তরে স্বীকৃতি পেল মণিপুরি স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি ‘টয় গান’। পরিচালক থিংনাম পরশুরামের এই ছবি দশম চলচিত্রম ন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০২৬-এ উত্তর-পূর্ব ভারতের সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্রের পুরস্কার জিতেছে। অসমের কাহিলিপাড়ার জ্যোতি চিত্রবন ফিল্ম স্টুডিওতে রবিবার শেষ হয় দু’দিনের এই চলচ্চিত্র উৎসব।
‘আওয়ার হেরিটেজ, আওয়ার প্রাইড’ শীর্ষক উৎসবে সাংস্কৃতিক পরিচয়, ঐতিহ্য ও আঞ্চলিক জীবনের নানা দিক তুলে ধরা ছবিগুলিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেই মঞ্চে ‘টয় গান’-এর স্বীকৃতি মণিপুরি চলচ্চিত্রের জন্য নতুন সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
১৪ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের এই ছবিটি পরশুরামের পরিচালনায় প্রথম কাজ। ২০২৩ সালে তিনি সাহিত্য অকাদেমি যুব পুরস্কার পেয়েছিলেন।
ছবির কেন্দ্রে রয়েছেন এক বিধবা মা ও তাঁর ছোট ছেলে। শিশুটি যখন একটি খেলনা বন্দুক চায়, তখন মায়ের মনে ফিরে আসে বাস্তব হিংসার যন্ত্রণাদায়ক স্মৃতি। একটি শিশুর নিরীহ আবদানের মধ্য দিয়ে পরিচালক দেখিয়েছেন, সংঘাতের অভিঘাত কীভাবে পরিবারের দৈনন্দিন জীবন এবং পরবর্তী প্রজন্মের মানসিক জগতে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলে।
উৎসবের মঞ্চে একের পর এক সাফল্য
খো ওমেশ্বরীর প্রযোজনায় ফ্রিডম একন অ্যান্ড ফার্ম হাউস প্রোডাকশনের ব্যানারে তৈরি ছবিটিতে অভিনয় করেছেন লেইশাংথেম টোনথোই, থিংনাম পরিহানবা এবং ইরেংবাম প্রেমানন্দ। ছবির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন আখু চিংগাংবাম।
এর আগে ২০২৬ সালের মার্চে তৃতীয় নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সেরা নন-ফিচার ছবির পুরস্কার জেতে ‘টয় গান’। সেই উৎসবে ছবিটি সমাপনী প্রদর্শনী হিসেবেও দেখানো হয়েছিল। ২০২৫ সালের হায়দরাবাদ ইন্টারন্যাশনাল শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যালেও এটি প্রথম রানার-আপ হয়।
এ ছাড়া বেঙ্গালুরু ইন্টারন্যাশনাল শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০২৬, জাগরণ ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ এবং কেরলের ১৮তম সাইনস চলচ্চিত্র উৎসবেও ছবিটি নির্বাচিত হয়। বেঙ্গালুরু উৎসবটি অস্কার-যোগ্যতা অর্জনকারী চলচ্চিত্র উৎসব হওয়ায় সেখানে ছবিটির নির্বাচন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
আঞ্চলিক গল্পের আন্তর্জাতিক সম্ভাবনা
‘টয় গান’-এর সাফল্য দেখিয়ে দিল, স্থানীয় অভিজ্ঞতা ও সামাজিক বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে তৈরি চলচ্চিত্রও বৃহত্তর দর্শকের কাছে পৌঁছতে পারে। সংঘাতকে শুধু হিংসার দৃশ্য দিয়ে নয়, একটি মায়ের স্মৃতি ও শিশুর কৌতূহলের মধ্য দিয়ে তুলে ধরেছে ছবিটি।
মণিপুরের মতো সংঘাত-অভিজ্ঞ অঞ্চলের মানুষের জীবনে হিংসার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বোঝার ক্ষেত্রেও এই ধরনের গল্প গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় চলচ্চিত্র উৎসবে পরপর স্বীকৃতি পাওয়ায় স্বাধীন ও আঞ্চলিক চলচ্চিত্রের পরিসরে পরশুরামের প্রথম পরিচালিত ছবিটি নতুন করে নজর কাড়ল।


