দারিদ্র্যকে উপেক্ষা করেই অনূর্ধ্ব-১৯-এর জাতীয় পর্যায়ে অংশ নিতে চলেছেন কৃষক পরিবারের সন্তান
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
কবাডি খেলতে গিয়েই বুকে চোট, পারিবারিক দারিদ্র্য- কোনও কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি ধূপগুড়ির সঙ্গীতার জীবনে। পরিবারের তিন ভাইবোনের পড়াশোনার খরচ যোগাতে কৃষক বাবার হিমশিম অবস্থা, সেই সঙ্গে খেলার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর অভাব- সব কিছু উপেক্ষা করেই অনূর্ধ্ব-১৯-এর জাতীয় কবাডি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চলেছেন ধূপগুড়ির ডাউকিমারী চৌহদ্দির সঙ্গীতা রায়।
কৃষক পরিবারের মেয়ে সঙ্গীতা রায় অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় প্রতিযোগিতার জন্য ঘোষিত বাংলা দলে সুযোগ পেয়েছেন নিজের প্রতিভা আর ইচ্ছেশক্তিকে সম্বল করে। জাতীয় পর্যায়ে খেলার সুযোগ পেয়ে আপ্লুত সঙ্গীতা জোরকদমে ডাউকিমারি স্কুলের মাঠে অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
ডাউকিমারি ডিএন হাইস্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী সঙ্গীতার এই সাফল্যের পেছনে উৎসাহ এবং অবদান বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক তথা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় তৈরির এক মহান কারিগর সুপ্রিয়কুমার গুহ। ছোটোবেলা থেকেই কবাডির প্রতি আগ্রহ, আর সেই সূত্রই গ্রামের অন্যান্য বাচ্চাদের মতো কোর্ট কেটে খেলা শুরু। এরপর স্থানীয় কোচেদের নজরে পড়ে সঠিক প্রশিক্ষণ লাভ।
২০১১ সাল থেকে একের পর এক সাফল্য। অনূর্ধ্ব-১৪, অনূর্ধ্ব-১৭ বিভাগে রাজ্য দলে কবাডি খেলায় অংশ নিয়ে জেলা দলের ক্যাপ্টেন হিসাবে নিজের প্রতিভাকে তুলে ধরেছেন সঙ্গীতা। জাতীয় পর্যায়ে এবারই অবশ্য প্রথম নয়। অনূর্ধ্ব-১৪ বিভাগে জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ঘুরে আসা হয়ে গিয়েছে মধ্যপ্রদেশ। বর্তমানে রাজ্য দলে অনূর্ধ্ব-১৯ বিভাগে খেলছেন। একাধিক পুরষ্কারও পেয়েছেন। অনূর্ধ্ব-১৯ বিভাগে জাতীয় পর্যায়ে নামার সুযোগ পাওয়ার পর আরও ভালো ফল করার চেষ্টায় প্রশিক্ষণ শুরু করেছেন সঙ্গীতা।
পেশায় কৃষক দুলাল রায় ও গৃহবধূ মাধবী রায়ের বড় মেয়ে সঙ্গীতা রায়। ডাউকিমারি ডিএন হাইস্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শারীরশিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক সুপ্রিয়কুমার গুহর সরকারি কাজ থেকে খাতায়-কলমে ছুটি হয়ে গেলেও সঙ্গীতা রায় সহ অন্যান্য মেয়ে ও ছেলেদের প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছেন নিয়মিত ভাবেই। রায়। ডাউকিমারি ডিএন হাইস্কুলের মাঠেই চলছে
জানা গিয়েছে, বাবা দুলাল রায়ের ১০ বিঘা জমিতে চাষাবাদ করেই সংসার চালান।কিন্তু মেয়ের এই সাফল্যে যতটা না খুশি তার থেকে বেশি চিন্তা তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে।
আর্থিক দিক থেকে বেশ চাপে রয়েছে সঙ্গীতার পরিবার। নানা জায়গায় খেলতে যাওয়া বা খেলার সরঞ্জাম কিনতেও সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। সুপ্রিয়কুমার গুহ বলেন, ‘এর আগেও অনেক খেলোয়াড় দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে রাজ্য ও জাতীয় পর্যায়ে উঠেছে। এবারে সঙ্গীতার পালা। সেও ভালো স্থানে পৌঁছবে বলে আমরা আশাবাদী।’
সঙ্গীতা রায় জানান, ‘ভালো খেলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। জাতীয় কবাডি প্রতিযোগিতায় সুযোগ পেয়ে খুব ভালো লাগছে। জাতীয় দলে সুযোগ পেলে নিজেক প্রমাণ করার প্রাণপণ চেষ্টা করব।’ উল্লেখ্য, প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়ে সঙ্গীতা, যাঁর স্কুলে আসতে গেলেও চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে আসতে হয়।অনুশীলন শেষে বাড়ি ফিরতেও রাত্রি হয়ে যায়। পাশাপাশি খেলাধূলার পর্যাপ্ত উপকরনও তার কাছে নেই। তা সত্ত্বেও প্রতিকূলতাকে জয় করে জাতীয় পর্যায়ে খেলার সুযোগ পেয়েছেন।


