বন্ধ দার্জিলিঙের টয় ট্রেন, হারাতে পারে আন্তর্জাতিক হেরিটেজ স্বীকৃতি

< 1 - মিনিট |

হেরিটেজ স্বীকৃতি হারানোর ব্যাপারে সতর্ক করে ডিএইচআর-কে চিঠি পাঠিয়েছে ইউনেস্কো

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

স্থানীয় কয়লাশ্রমিকদের ধর্মঘটের জন্য বিপাকে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের ১৪০ বছরের পুরনো হিল রেলওয়ে। আন্তর্জাতিক হেরিটেজ স্বীকৃতি হারাতে পারে দার্জিলিঙের টয় ট্রেন। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (ডিএইচআর)এ ব্যাপারে রেল কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতার অভিযোগ করেছে।

 হেরিটেজ স্বীকৃতি হারানোর ব্যাপারে সতর্ক করে ডিএইচআর-কে চিঠি পাঠিয়েছে ইউনেস্কো। গত জুলাই মাসে ডিএইচআর-এর তরফে সেই চিঠির কথা জানিয়ে বলা হয়েছে, হিল রেলওয়ে নিয়ে ইউনেস্কোর চিঠিতে চরম উদ্বেগ ধরা পড়েছে। হেরিটেজ ট্রেনের বিভিন্ন সুযোগসুবিধা নিয়ে অসন্তোষ ব্যক্ত করে, ইউনেস্কো জানিয়েছে, হেরিটেজ রেলের রক্ষণাবেক্ষণ রেল কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ।

এই রেলপথে তিনটি বাষ্পীয় ইঞ্জিন চলে। গত ১২ নভেম্বর থেকে কয়লার জোগানের জন্য নয়া ঠিকাদার সংস্থা মোতায়েন করার কথা ছিল। মজুরির হার পুনর্বিন্যাসের দাবিতে স্থানীয় কয়লাশ্রমিকরা তার আগের দিন ধর্মঘট করে। নয়া ঠিকাদার নানাভাবে শ্রমিকদের বাগে আনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। ট্রেন বন্ধ থাকায় যারা অগ্রিম টিকিট কেটেছিলেন, একদিকে তাঁদের টাকা ফেরত দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে বন্ধ রাখতে হচ্ছে নতুন বুকিং। এতে ক্ষুব্ধ স্থানীয় ভ্রমণ সংস্থাগুলিও।

 ডিএইচআর-এর এক আধিকারিক বলেন, দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে বঞ্চনার শিকার। স্থানীয় প্রশাসন এবং বাসিন্দাদের সচেতনতার অভাবও এই দূর্দশার অন্যতম কারন। ২০১৭ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত দু-বছরে হেরিটেজের রেললাইন পর্যন্ত ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি। লাইনে আবর্জনা জমে থাকছে। সতর্ক করা হয়, হিল রেলওয়ে এ ভাবে অবহেলিত থাকলে, হেরিটেজ তকমা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। 

 ডিএইচআর কর্তৃপক্ষের সাফাই, বছরজুড়ে ভূমিধসের কারণেই হেরিটেজ ট্রেনের ন্যারো গেজ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্রমাগত ধসের কারণেই ডিএইচআর ট্রেন নিয়মিত চালানো সম্ভব হচ্ছে না। পরিষেবা বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। ধসের পর রেললাইন সংস্কারে অনেকটা সময় লেগে যাচ্ছে।

 নর্থ ইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ অবশ্য এই পরিস্থিতির জন্য স্থানীয় লোকজনের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছে। এনএফআরের এক আধিকারিকের বক্তব্য, রেললাইন লাগোয়া বাসিন্দারা গাড়ি রেখে, ট্রেন চলার পথে বাধা সৃষ্টি করেছেন। বাড়ির নোংরাও রেললাইনে ফেলছেন। টয় ট্রেনের হেরিটেজ তকমা ধরে রাখতে এনএফআর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পদ্ধতি মেনেই এগোচ্ছে এনএফআর। ইউনেস্কো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত কথাও বলা হচ্ছে।  ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বরে টয় ট্রেনকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের স্বীকৃতি দিয়েছিল ইউনেস্কো।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related news