ভারতীয় নাগরিক বাঙালিদের বাংলাদেশী বলে তকমা সেটে দেওয়া একদিকে যেমন অসাংবিধানিক কাজ অপরদিকে যথেষ্ট অমানবিক
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
প্রদীপ দত্ত রায়
অসমে বনাঞ্চলের জমি বেদখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। যারা উচ্ছেদের শিকার তাদের বাংলাদেশী বলে অভিহিত করা হচ্ছে। ৫০-৬০ বছর যাবৎ বসবাসকারীদের ঘরবাড়ি উচ্ছেদ করে তাদের বাংলাদেশী বলে তোপ দেগে দেওয়া হচ্ছে। বিদ্বেষ মূলক মনোভাব নিয়ে এটা করা হচ্ছে, বিষয়টা লুকানো নেই। ঠিক তেমনি গুজরাট, ওড়িশা ,দিল্লি , মহারাষ্ট্র সহ বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাদেশি উৎখাতের নামে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্থা করা হচ্ছে।
এটা এমন একটা দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা যা দেশের ভেতরে ভাষিক দ্বন্দ্বকে প্রকট করে তুলছে। একই সঙ্গে জাতিগত বিদ্বেষের বীজ বপন হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে যে শাসক দল তাদের মূল উদ্দেশ্য কি এনে ভাবনা চিন্তা করার প্রয়োজন রয়েছে। বাংলাদেশে যেমন ২৮ কোটি বাঙালি রয়েছে ঠিক তেমনি ভারতবর্ষে রয়েছেন প্রায় 14 কোটি বাঙালি। এই জনসংখ্যার মানুষ বাংলাভাষায় কথা বলেন এটা তো এমন কোন অপরাধ নয়। ভারতে বসবাসকারী বাঙালিরা বাংলাদেশী হতে যাবেন কেন?
ভারতীয় নাগরিক বাঙালিদের বাংলাদেশী বলে তকমা সেটে দেওয়া একদিকে যেমন অসাংবিধানিক কাজ অপরদিকে যথেষ্ট অমানবিক। বাঙালিদের কোণঠাসা করে রাজনীতির ময়দান দখল করে রাখার যে গভীর ষড়যন্ত্র স্বাধীনতার পর থেকে বপন করা হয়েছিল তা এখন ধীরে ধীরে মহীরুহতে পরিণত হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের দেশের অন্যান্য রাজ্যে হেনস্তা রোধ করতে রাজ্যের মুখ্য সচিবকে পদক্ষেপ নিতে কড়া নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।
এতেই বুঝা যায় সারাদেশে বাঙালি হেনস্থা করার পিছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অবশ্য এ নিয়ে সরব হয়েছেন। কেন্দ্রে একটি শক্তিশালী সরকার থাকার পরও এ ধরনের ঘটনা ঘটায় সন্দেহের বাতাবরণ তৈরীর যথেষ্ট কারণ রয়েছে। ওড়িশা রাজ্যে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর যে ধরনের আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ করা হচ্ছে, তা নিয়ে বরিশালের কিছু মানুষ প্রতিবাদ মুখর হয়েছেন।
তারাই প্রশ্ন তুলছেন, পশ্চিমবঙ্গে যেসব ওড়িয়া পান্ডা রান্নাবান্না বা ক্যাটারিং এর কাজে যুক্ত অথবা পাইপ মিস্ত্রির কাজে যুক্ত তাদেরকে তো কোন ধরনের হেনস্থা করা হচ্ছে না। তাহলে উড়িষ্যায় পরিযায়ী বাঙালি শ্রমিকদের কেন হেনস্থা করা হবে? দিল্লি বা গুজরাটে বাঙালিদের বস্তি উচ্ছেদ করে ঢালাও করে প্রচার করা হচ্ছে এরা বাংলাদেশী। বাঙালি বিদ্বেষী এই ঘটনাবলীর পেছনে যে গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে আমি মনে করি।

Know More – Apply Here


