চাঞ্চল্যকর এই এই হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে ধোয়ারবন্দের পালই চা-বাগানে
অজিত দাস
ধোয়ারবন্দ :দেবজিত রি নামের মাত্র এগারো বছরের এক শিশুপুত্র কে অপহরণ করে নৃশংস ভাবে খুন করে জঙ্গলে ছুড়ে ফেলে দিল দুষ্কৃতি দল। এ ধরনের জগন্য-অমানবিক হত্যাকাণ্ডের জেরে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে পশ্চিম ধলাইর ধোয়ারবন বাজার ও যোগীরবন গ্রামে। ঘটনা টি ঘটেছে রবিবার সকাল এগারো টা নাগাদ। এদিন যোগীরবন গ্রামের বাড়ির সমনা থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় গ্রামের দিলীপ রির পুত্র দেবজিত রি।
সোমবার এ সংক্রান্ত ঘটনা নিয়ে ধোয়ারবন থানায় একটি নিখোঁজ সংক্রান্ত মামলা দায়ের করেন দিবজিত রির বাবা দিলীপ রি। এদিকে এ সংক্রান্ত ঘটনা নিয়ে তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য সংগ্রহ করে পুলিশ। প্রথমে পালই চা বাগানের বাসিন্দা জয় প্রানেশ কেওট নামের এক ব্যক্তি কে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। প্রথম দিকে জয় প্রানেশ কেওট পুলিশের কাছে মুখ না খোললেও পরবর্তীতে পুলিশের হাতে কিছু তথ্য এসে যাওয়ায় মুখ খুলতে বাধ্য জয় প্রানেশ।
সোমবার গভীর রাতে জয় প্রানেশ কে সঙ্গে নিয়ে অভিযানে নামে পুলিশ। এদিন রাতে মুলিটিলার গভীর জঙ্গলে পুলিশ কে নিয়ে গিয়ে দেবজিত রির মৃতদেহ দেখিয়ে দেয় জয় প্রানেশ কেওট। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জয় প্রানেশ কেওট বলে হত্যাকাণ্ডে তার সঙ্গে জড়িত রয়েছে আরও তিন জন।
তারা হল পালই চা বাগানের অমিত কুমার, ধোয়ারবনের রঞ্জু বাউরি এবং রতন বাউরি। হত্যাকাণ্ডের জোর তদন্ত জারি রেখেছে পুলিশ। দেবজিত রির মৃতদেহের ময়নাতদন্তের জন্য মঙ্গলবার সকালে তার লাশ শিলচর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয় পুলিশ। এদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকে যোগীরবন, ধোয়ারবন সহ আশপাশের গ্রামের প্রায় হাজার খানেক লোক এসে ভীড় জমান ধোয়ারবন বাজারে।
অবস্থা বেগতিক দেখে এদিন কাকভোরে ধৃত জয় প্রানেশ কেওট কে ধোয়ারবন থানা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় অন্যত্র। এদিকে দেবজিত রির হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ মঙ্গলবার দেবজিত রির পিতা দিলীপ রি পালই চা বাগানের বাসিন্দা বিকাশ কেওটের পুত্র জয় প্রানেশ কেওট, অমিত কুমার, ধোয়ারবনের দক্ষিণটিলার বাসিন্দা গজু বাউরির স্ত্রী রঞ্জু বাউরি এবং তার পুত্র রতন বাউরি কে অভিযুক্ত করে ধোয়ারবন থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
এদিন দিলীপ রি বলেন রবিবার জয় প্রানেশ কেওট তার পুত্র দেবজিত রি কে ফুসলিয়ে নিয়ে যায় মুলিটিলার গভীর জঙ্গলে। এরপর তার শ্বাসরুদ্ধ করে তাকে খুন করে। এই হত্যাকান্ডে জয় প্রানেশ কেওট কে সহযোগিতা করে অমিত কুমার। এলাকার রঞ্জু বাউরি ও তার পুত্র রতন বাউরির চক্রান্তে জয় প্রানেশ কেওট ও অমিত কুমার তার পুত্র দেবজিত রি কে হত্যা করে বলে অভিযোগ তুলেন দিলীপ রি। তিনি বলেন জয় প্রানেশ কেওট ও অমিত কুমার পালই চা বাগানের কুখ্যাত অপরাধী। তারা অনেক অসামাজিক কার্যকলাপ সংগঠিত করেছে ইতিমধ্যে। রঞ্জু বাউরির পরিবার এই দুই অপরাধী কে তাদের বাড়িতে আশ্রয় দিয়ে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে বলে জানান দিলীপ রি।
এদিকে এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষী দের কঠোর শাস্তি প্রদানের দাবি জানিয়েছেন এসইউসিআই ( কমিউনিস্ট) দলের কর্মকর্তারা। মঙ্গলবার বিকেলে দেবজিত রির মৃতদেহ নিয়ে ধোয়ারবন বাজারে পৌছালে প্রায় হাজার খানেক এসইউসিআই ( কমিউনিস্ট) দলের নেতাকর্মীরা দেবজিত রির প্রতি তাদের শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। এদিন এসইউসিআই দলের নেতাকর্মীরা দেবজিত রির মৃতদেহ নিয়ে ধোয়ারবন বাজারে এক বিশাল প্রতিবাদী মিছিল বের করে দুষ্কৃতি দের ফাঁসির দাবি তুলেন।
এদিন এসইউসিআই দলের কাছাড় জেলা সাধারণ সম্পাদক ভবতোষ চক্রবর্তী বলেন আগামী কাল তারা কাছাড়ের জেলাশাসকের কাছে হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক দুষ্কৃতি দের ফাসির দাবি জানাবেন। জেলা কমিটির সদস্য তুষার পুরকায়স্থ বলেন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পালই চা বাগানের দুই দুষ্কৃতির অতীত অনেক অপরাধ মূলক কাজকর্মের রেকর্ড রয়েছে।
এদিন অপরাধী দের ফাঁসির দাবি জানিয়ে এসইউসিআই ( ক) দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে প্রাসঙ্গিক বক্তব্য রাখেন মাধভ ঘোষ, শ্যামদেও কূর্মি, দুলালি গাঙ্গুলি এবং পিকলু ভট্রাচার্য। এদিন রাতে প্রতিবাদী মিছিল শেষে যোগীরবনে প্রচুর শোকাহত জনগণের উপস্থিতিতে দেবজিত রির শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।

Know More – Apply Here


