প্লট দুর্নীতির তিন মামলায় হাসিনার ২১ বছরের কারাদণ্ড

2 - মিনিট |

আসামিদের মধ্যে একমাত্র খুরশীদ আলম বর্তমানে গ্রেফতার আছেন

সমীরণ রায়

ঢাকা : ঢাকার পূর্বাচলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা তিনটি পৃথক মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সাত বছর করে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন। বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করা হয়।

তিন মামলায় মোট আসামি ৪৭ জন হলেও ব্যক্তি হিসেবে আসামির সংখ্যা ২৩। শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ছাড়াও বাকি ২০ জনের মধ্যে ছিলেন সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রকের সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিঞা, সদস্য শফি উল হক, মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, নাসির উদ্দীনসহ সরকার ও রাজউকের বিভিন্ন স্তরের সাবেক কর্মকর্তারা।

আসামিদের মধ্যে একমাত্র খুরশীদ আলম বর্তমানে গ্রেফতার আছেন। তদন্ত ও আদালতে ৯১ জন সাক্ষীর জবানবন্দিতে উঠে আসে যে, ঢাকায় জমি থাকা সত্ত্বেও তা গোপন রেখে রাজউকের প্লট বরাদ্দ নেন শেখ হাসিনা এবং তার সন্তানরা। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযোগ করে, আবাসন নীতি লঙ্ঘন করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৩০ কাঠার সরকারি প্লট বরাদ্দ নেন তিনি এবং জমির জন্য দাখিল করা হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেন।

আদালত সমন, গ্রেফতারি পরোয়ানা ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলেও আসামিরা কেউই আদালতে হাজির হননি। ফলে তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচারকার্য সম্পন্ন হয়। দুদকের অভিযোগপত্রে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় নিজের ছেলে-মেয়েসহ পরিবারের সদস্যদের নামে বেআইনিভাবে জমি বরাদ্দে প্রভাব খাটিয়েছেন শেখ হাসিনা।

গত বছরের ৫ আগস্টের ঘটনার পর আওয়ামী লীগ শাসনামলের নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা নতুন করে সামনে আসতে থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় রাজউকের পূর্বাচল প্রকল্পে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে ৬০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেয়ার অভিযোগে দুদক গত জানুয়ারিতে ছয়টি মামলা দায়ের করে।

এসব মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, ভাগ্নি যুক্তরাজ্যের এমপি টিউলিপ সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী ও ভাগ্নে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিকে আসামি করা হয়। ছয়টি মামলার মধ্যে হাসিনা পরিবারের তিনটি মামলার বিচার চলছে একই সঙ্গে; রেহানা পরিবারের তিন মামলার বিচারও চলছে আলাদা আদালতে একসঙ্গে।

চলতি বছরের ৩১ জুলাই আদালত হাসিনা ও রেহানা পরিবারের সাত সদস্যসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এরপর ২৩ নভেম্বর যুক্তিতর্ক শেষে হাসিনা পরিবারের মামলার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়। রেহানা পরিবারের মামলার যুক্তিতর্ক শেষে আগামী ১ ডিসেম্বর রায়ের দিন ধার্য রয়েছে।

Promotional | North East Integration Rally

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related news