বাংলাদেশে শনিবার সকাল-সন্ধ্যা আওয়ামী লীগের লকডাউন কর্মসূচি

2 - মিনিট |

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঠেকানো এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের পতন ঘটানোই দলটির মূল লক্ষ্য বলে জানা যায়

সমীরণ রায়

ঢাকা : শেখ হাসিনাসহ সব রাজনৈতিক কর্মী, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মী, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী ও শান্তিকামী নিরীহ জনগণের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব মিথ্যা ও গায়েবী মামলা প্রত্যাহার, অবৈধ আইসিটি কোর্ট বাতিল এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগ দাবিতে বাংলাদেশে শনিবার সকাল-সন্ধ্যা লকডাউন কর্মসূচি দিয়েছে ক্ষমতাচ্যূৎ আওয়ামী লীগ। এর আগে গত মে মাসে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয় ।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এক বিবৃতিতে জানাং, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপর অবৈধ নিষেধাজ্ঞা সহ সকল প্রতিবন্ধকতা প্রত্যাহার করে গণতন্ত্র কায়েমের লক্ষ্যে অবিচল দল হিসেবে নির্বিঘ্নে আওয়ামী লীগের নির্বাচনসহ সব গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ আবারও লক ডাউনের কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামাছে শনিবার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঠেকানো এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের পতন ঘটানোই দলটির মূল লক্ষ্য বলে জানা যায়। এ জন্যই নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটির নেতাকর্মীরা সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

সমর্থক এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি এ নির্বাচন। এই নির্বাচন বানচালই প্রধান টার্গেট দলটি। এরই অংশ হিসেবে আজ শুক্রবার সারা দেশে বাদ জুম্মা বিক্ষোভ মিছিল ও আগামীকাল শনিবার ঢাকাসহ সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা লকডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া দলটি।

সূত্র বলছে, ক্ষমতাচ্যূত আওয়ামী লীগ শনিবার ঢাকাসহ সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা লকডাউন কর্মসূচি সফল করতে রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট আগেভাগেই চিহ্নিত করে রেখেছে।

দলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ায় বড় ধরনের কর্মসূচি মাঠে নামলো আওয়ামী লীগ। ডিসেম্বর মাসকে তারা ‘বিজয়ের মাস’ আখ্যা দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক ভিডিওবার্তায় নতুন কর্মসূচির ইঙ্গিত দিয়েছেন। দলের অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরাও এক হওয়ার চেষ্টা করছেন।

গত ১৩ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের রায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়াকে কেন্দ্র করে অনলাইনে ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি। ওইদিন ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে। পরে গত ১৭ নভেম্বরও ‘সম্পূর্ণ শাটডাউন’ কর্মসূচির নামে একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

এ কর্মসূচিগুলোতে রাজধানীসহ কয়েকটি জেলায় সীমিত মিছিল, প্রতিবাদ এবং বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে। কিছু এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ এবং ভাঙচুরের খবর পাওয়া যায়। তবে সার্বিকভাবে কর্মসূচিতে বড় পরিসরে সাড়া পায়নি বলে জানান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। নিরাপত্তা বাহিনী জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাপ্রবাহ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নজরদারি জোরদার রয়েছে।

নিষিদ্ধ হওয়া দলটি এক বিবৃতিতে শনিবার ঢাকাসহ সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা লকডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করে। এছাড়া দলটির শীর্ষ কয়েকবজন নেতা বাইরে থেকে ভিডিওবার্তা দিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছেন এ কর্মসূচির।

ভিডিওবার্তাগুলোর বেশ কয়েকটিতে ডিসেম্বরকে ‘বিজয়ের মাস’ উল্লেখ করে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্বাচন ঘিরে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সম্ভাব্য ঝুঁকির জায়গাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত টহল নিশ্চিত করা হয়েছে।

তারা জানিয়েছেন, যেকোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ হলে সেটি বাস্তবায়নে কোনো বাধা দেওয়া হবে না। কিন্তু সহিংসতা ঘটলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Promotional | North East Integration Rally

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related news