শান্তি, প্রগতি ও সমৃদ্ধির বার্তা নিয়ে মাসব্যাপী অভিযাত্রা
কেআরসি টাইমস কলকাতা ব্যুরো
কলকাতা : শান্তি, প্রগতি ও সমৃদ্ধির সংকল্প নিয়ে কলকাতায় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল ‘উত্তর-পূর্ব ভারত সংহতি র্যালি’ (North East Integration Rally)। ৪ জানুয়ারি তিলোত্তমা থেকে এই মাসব্যাপী কর্মসূচির সূচনা হয়। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সংহতি সুদৃঢ় করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক মেলবন্ধন ও সৌভ্রাতৃত্ব বৃদ্ধি করাই এই মহতী উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।

উদ্বোধনী অধিবেশনে বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, জনপ্রতিনিধি ও সাংস্কৃতিক কর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন মেঘালয়ের বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী এ. এল. হেক, দমদম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান লোপামুদ্রা দত্ত চৌধুরী, ডঃ প্রফেসর সুকোমল দেব, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল শান্তি কুমার সিং, লেখক আর. কে. মহেশসেনা এবং প্রকৌশলী তাপস রায়। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পী কে. ববিন, খ. গজেন্দ্র সিং, প্রসার ভারতীর ডঃ শর্মিষ্ঠা রাহা, কলকাতা পুলিশের বিপ্লব দাসসহ আরও অনেকে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কেআরসি ফাউন্ডেশনের প্রধান বিশ্বদীপ গুপ্ত।

আলোচনাসভায় বক্তারা এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, এটি ক্ষুদ্র প্রয়াস মনে হলেও ভবিষ্যতে একতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে এক বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেবে। অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে তাঁদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত অভিজ্ঞতার কথা বিনিময় করেন এবং দুই অঞ্চলের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিল্পী কে. ববিনের পরিবেশিত র্যালির থিম সং।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই র্যালির মূল উদ্দেশ্য হলো পরিকাঠামো উন্নয়নে উৎসাহ প্রদান, অর্থনৈতিক সুযোগের প্রসার, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোর মানুষের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলা। কলকাতা থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রার পরবর্তী গন্তব্য মালদহ।
যাত্রাপথে কলকাতার পানিহাটিতেও র্যালিটিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। সেখানে ‘উদয়ের পথে’ সংস্থার সদস্যরা অংশগ্রহণ কারীদের অভিনন্দন জানান এবং এই অভিযানের উদ্দেশ্যের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের এই মূল অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে গত ২৪ ডিসেম্বর ইম্ফলের লমশাং-এ একটি প্রাক-সূচনা অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছিল। ‘শান্তি, প্রগতি ও সমৃদ্ধি’—এই মূল মন্ত্রকে সামনে রেখে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়ন, কানেক্টিভিটি এবং সামাজিক সংহতির ওপর আলোকপাত করাই এই র্যালির সার্থকতা। মাসব্যাপী এই অভিযাত্রা আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
Promotional | North East Integration Rally



