সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনেই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ঐক্য ও সংহতি সুনিশ্চিত হবে: পরিমল শুক্লবৈদ্য
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
শিলচর : সুরের মূর্ছনা আর তালের ছন্দে মুখরিত হয়ে উঠল শিলচরের গান্ধী ভবন প্রেক্ষাগৃহ। উত্তর-পূর্ব ভারতের কৃষ্টি, সংস্কৃতি এবং অখণ্ডতাকে উদযাপনের লক্ষ্যে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে গত ২২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হলো ‘বরাক উৎসব’ ও ‘এনইআইআর (NEIR) ফেস্ট’। কেআরসি ফাউন্ডেশন এবং স্থানীয় কয়েকটি শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি যেন হয়ে উঠল ভারতাত্মার এক অনন্য মিলন মেলা।

এ দিন প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং সমবেত কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। মালুগ্রাম সরস্বতী বিদ্যানিকেতনের পড়ুয়ারা উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করে গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করে।
এরপর নটরাজ ড্যান্স অ্যাকাডেমির শিল্পীদের অনবদ্য নৃত্যশৈলী এবং রূপম সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যদের প্রাণবন্ত উপস্থাপনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। এক এক করে গান, নৃত্য এবং দলীয় পরিবেশনায় শিল্পীরা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ঐতিহ্য ও গর্বের গাথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিলচরের সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য আয়োজকদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বিশ্বদীপ গুপ্ত এবং তাঁর দল এক মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। এ ধরনের প্রয়াস অত্যন্ত সম্মানজনক। সাংসদ আরও যোগ করেন, বর্তমানের ব্যস্ত ও ক্লান্তিকর জীবনে সাংস্কৃতিক উৎসব মানুষের মনে প্রশান্তি ও আনন্দ বয়ে আনে। এই ধরনের অনুষ্ঠান সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক আশীর্বাদস্বরূপ।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট চিন্তাবিদ অধ্যাপক মদন মোহন গোয়েল তাঁর বক্তব্যে গীতা-অনুপ্রাণিত ‘নিডোনোমিক্স’ (Needonomics)-এর প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নে মননশীল প্রগতি এবং নৈতিকতার মেলবন্ধন অত্যন্ত জরুরি।
অন্য এক বক্তা ডাঃ শেলি অর্জুন তাঁর অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, ‘নর্থ ইস্ট ইন্টিগ্রেশন র্যালি’ (NEIR) আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। প্রত্যেকের মনের ভেতরেই দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদ সুপ্ত থাকে, প্রয়োজন শুধু তা বহিঃপ্রকাশের উপযুক্ত ক্ষেত্র। এনইআইআর সেই সুযোগটিই করে দিয়েছে। পরে তিনি সংহতি ও মৈত্রীর বার্তা সম্বলিত সংগীত পরিবেশন করেন।
কেআরসি ফাউন্ডেশনের ম্যানেজিং ট্রাস্টি তথা সিইও বিশ্বদীপ গুপ্তের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সভায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শান্তি ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২৬ সালের সংহতি সমাবেশের যে বৃহত্তর লক্ষ্য রয়েছে, এই উৎসব তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সাংস্কৃতিক পর্বে শিলচর সংগীত বিদ্যালয়, নটরাজ গুরু বিপিন সিং মণিপুরি নর্তনাশ্রম এবং দুধপাতি নৃত্য সংগঠনের শিল্পীরা অসাধারণ দক্ষতা প্রদর্শন করেন। একক নৃত্যে নজর কাড়েন রূপসা কর্মকার। এছাড়া একক সংগীত পরিবেশন করেন তনুশ্রী বিশ্বাস, নীলাঞ্জন পাল, মঙ্গলা নাথ, পরিমল পুরকায়স্থ, মণিমিতা গোস্বামী এবং দীপশিখা দেবনাথ।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুচারুভাবে সঞ্চালনা করেন জয়শ্রী চক্রবর্তী, অভিজিৎ নাগ এবং সমাজকর্মী ভাস্কর দাস। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বজিৎ বিশ্বাস, অনাথবন্ধু নন্দী প্রমুখ। যান্ত্রিকতার এই যুগে ‘বরাক উৎসব’ কেবল বিনোদন নয়, বরং সম্প্রীতি ও সংহতির এক শক্তিশালী বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে প্রমাণ করল—বৈচিত্র্যের মধ্যেই উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রকৃত শক্তি নিহিত।
Promotional | North East Integration Rally



