ললিত জৈন কমার্স কলেজে জাতীয় বাজেট নিয়ে আলোচনা সভা

2 - মিনিট |

ড. চন্দন দে বলেন, ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের বাজেট সরকারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন

কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো

শিলচর। মেহেরপুরস্থিত ললিত জৈন কমার্স কলেজের উদ্যোগে ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটকে কেন্দ্র করে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই সভায় শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও বুদ্ধিজীবী মহলের সদস্যদের সক্রিয় উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. চন্দন দে এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট অরিন্দম ভট্টাচার্য। প্রধান অতিথির ভাষণে ড. চন্দন দে বলেন, ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের বাজেট সরকারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। তিনি উল্লেখ করেন, গত বছরের তুলনায় এবছরের বাজেট প্রায় ৫ শতাংশ বেশি এবং এটি মূলত কর্পোরেট ও পরিকাঠামো উন্নয়নকে সামনে রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে।

সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ বিভিন্ন খাতে ব্যয় করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রায় ৫.৫৯ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ, সামরিক খাতে ব্যয়, শিক্ষা ও জনস্বার্থমূলক পুঁজি ব্যয়ের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠনের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সড়ক, রেল, বিমানবন্দর, চিকিৎসা পরিষেবা প্রভৃতি ক্ষেত্রে বরাদ্দ রাখা হয়েছে, এর একটা অংশ বরাক উপত্যকায় আসলে এখানের সার্বিক উন্নয়ন তরম্বিত হবে। যা বেকার সমস্যার সমাধানে সহায়ক হবে। ভারত বর্তমানে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি এবং ২০২৯ সালের মধ্যে তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে। এই লক্ষ্য পূরণে কারিগরি উন্নয়ন, স্বনির্ভরতা ও ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বাজেটকে একটি ‘ভিশনারি ও উন্নয়নমুখী বাজেট’ হিসেবে অভিহিত করেন।

স্বাস্থ্য খাতে আয়ুর্বেদ ও বায়ো-ফার্মার উপর জোর দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে ড. দে জানান, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন দেশে তিনটি ‘অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব আয়ুর্বেদ’ গঠনের ঘোষণা করেছেন, যা ভারতীয় প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতিকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবে। এছাড়াও সারা দেশে ১৬ হাজার নতুন সেকেন্ডারি স্কুল নির্মাণ এবং প্রতি জেলায় একটি করে মহিলাদের হোস্টেল তৈরির পরিকল্পনা ছাত্রী ও মহিলাদের শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ সহায়ক হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

আলোচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রভাব সম্পর্কেও আলোকপাত করা হয়। ড. চন্দন দে জানান, এআই ও আধুনিক প্রযুক্তি চাকরির বাজারে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে তা মূল্যায়নের জন্য একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষত পর্যটন ক্ষেত্রের উন্নয়নে সরকারের বিশেষ দৃষ্টি ভবিষ্যতে বহু কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে বিশেষ অতিথি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট অরিন্দম ভট্টাচার্য বাজেটের কর কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি জানান, এবারের বাজেটে কর ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও জনবান্ধব করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা মধ্যবিত্ত ও ব্যবসায়ী মহলের জন্য সুবিধাজনক হবে।

সব মিলিয়ে আলোচকরা মত প্রকাশ করেন, ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের প্রস্তাবিত বাজেট শিক্ষা, বাণিজ্য, শিল্প ও সাধারণ মানুষের স্বার্থকে সামনে রেখে প্রণীত একটি উন্নয়নমুখী ও ‘বিকশিত ভারত’ অভিমুখী বাজেট।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ললিত জৈন কমার্স কলেজের অধ্যক্ষ ড. নবেন্দু বণিক। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন অধ্যক্ষ অমর নাথ সিংহ, মৌসুমী ভট্টাচার্য, বহ্নিশিখা রায়, কৌশিক দে, ঝুমা নাগ, শ্রেয়া বণিক, শম্পা আচার্য প্রমুখ।

Promotional | North East Integration Rally

Stay connected with the biggest action oriented movement of North East India – connecting, uniting, working for Peace, Progress and Prosperity of North East India. Know More – Connect with Us

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related news