শিলচরের রাধামাধব কলেজে ‘ক্লিন এয়ার সিটিজেন ড্রাইভ ২০২৬’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

2 - মিনিট |

হাজারটি ইকো-ব্রিক্স তৈরিতে মিলবে ‘গ্রিন ক্যাম্পাস’ স্বীকৃতি: পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ

কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো

শিলচর। বায়ু ও পরিবেশ দূষণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিলচরের রাধামাধব কলেজে ‘ন্যাশনাল ক্লিন এয়ার প্রোগ্রাম’ (NCAP) বিষয়ক এক বিশেষ প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘ক্লিন এয়ার সিটিজেন ড্রাইভ ২০২৬’-এর অঙ্গ হিসেবে শিলচর মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের উদ্যোগে এবং টোয়াসো প্রাইভেট লিমিটেড ও কলেজের এনএসএস (NSS) ইউনিটের যৌথ সহযোগিতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় কলেজের অডিটোরিয়ামে প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। উদ্বোধনী অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন টোয়াসো প্রাইভেট লিমিটেডের টিম লিডার ক্ষিতিজ রাজ, লিডার ট্রেনার ও শিল্প বিশেষজ্ঞ সোনি কুমারী, অসম দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের আঞ্চলিক এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার অরবিন্দ দাস, শিলচর মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের এনসিএপি নোডাল অফিসার দীপক কুমার পৌরেল এবং রাধামাধব কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. অরুন্ধতী দত্তচৌধুরী।

স্বাগত ভাষণে ক্ষিতিজ রাজ জানান, গত ২১ জানুয়ারি থেকে সমগ্র রাজ্যজুড়ে ‘ক্লিন এয়ার সিটিজেন ড্রাইভ ২০২৬’ শুরু হয়েছে। এই অভিযানের লক্ষ্য হলো প্রতিটি নাগরিককে পরিবেশ রক্ষায় শামিল করা। তিনি উল্লেখ করেন, রাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক সচেতনতা শিবিরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং প্রথম কলেজভিত্তিক কর্মসূচি হিসেবে রাধামাধব কলেজকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের ইঞ্জিনিয়ার অরবিন্দ দাস জল ও বায়ু দূষণের ভয়াবহতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বিশেষ করে শিলচর শহরের কৃত্রিম বন্যা ও জলমগ্নতা প্রসঙ্গে আলোকপাত করে নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ছাত্রছাত্রীদের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে নিজের এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান তিনি।

কর্মশালার কারিগরি অধিবেশনে সোনি কুমারী শীতকালে ভারতের বিভিন্ন মহানগরে বায়ু দূষণের সংকটজনক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। বায়ু দূষণের কারণ ও ধূলিকণার স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি তিনি একটি ব্যবহারিক প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্য ও চিপসের মোড়ক ব্যবহার করে ‘ইকো-ব্রিক্স’ তৈরির কৌশল শেখান। এছাড়াও দ্রুত বনায়নের জন্য ‘মিয়াওয়াকি’ পদ্ধতির উপযোগিতা নিয়ে তিনি মূল্যবান বক্তব্য রাখেন।

আয়োজক সংস্থার পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয় যে, যে সকল কলেজ অন্তত এক হাজার ‘ইকো-ব্রিক্স’ তৈরি করতে সক্ষম হবে, তাদের শিলচর মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বিশেষ ‘গ্রিন ক্যাম্পাস’ শংসাপত্র প্রদান করা হবে। এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকারপত্রে স্বাক্ষর করেন। এই কার্যক্রম নিয়মিত তদারকির জন্য উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে একটি স্ক্যানার প্রদান করা হয় এবং দ্রুত যোগাযোগের সুবিধার্থে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও খোলা হয়।

সমাপনী ভাষণে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. অরুন্ধতী দত্তচৌধুরী এই সময়োপযোগী আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে ধন্যবাদ জানান। কর্মশালায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কলেজের এনএসএস ইউনিটের আহ্বায়ক ড. সি. এইচ. মণিকুমার সিংহ, প্রাক্তন অধ্যক্ষ ড. দেবাশিস রায়, দর্শন বিভাগের প্রধান ড. রুমা নাথচৌধুরী, অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ড. রাহুল শরনিয়া, শিক্ষা বিভাগের প্রধান ড. সন্তোষ বরা, ড. নবনীতা দেবনাথ, ড. পিয়া দাস, ড. আশীষতরু রায় ও অভিষেক দাস প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল লক্ষ্যণীয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related news