মেহেরপুর ও পানপট্টিতে দিনভর ধরনা কর্মসূচি
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
শিলচর : প্রস্তাবিত ‘বিদ্যুৎ সংশোধনী বিল ২০২৫’ এবং ‘জাতীয় বিদ্যুৎ নীতি ২০২৬’ বাতিলের দাবিতে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন ও সংযুক্ত কিষান মোর্চার আহ্বানে উত্তাল হয়ে উঠল শিলচর। বৃহস্পতিবার ‘কো-অর্ডিনেশন কমিটি অব ইলেকট্রিসিটি এমপ্লয়িজ, ইঞ্জিনিয়ার অ্যান্ড পেনশনার্স’-এর উদ্যোগে এবং বিদ্যুৎ কর্মী ও ইঞ্জিনিয়ারদের রাষ্ট্রীয় সমন্বয় সমিতির সহযোগিতায় শিলচরে দিনভর ধর্মঘট ও ধরনা কর্মসূচি পালন করা হয়। সমগ্র দেশের সঙ্গে সংগতি রেখে অসমের বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতিটি কার্যালয়ে এদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই প্রতিবাদী কর্মসূচি চলে।
এদিন শিলচরের মেহেরপুরস্থিত কাছাড় সার্কলের ‘বিদ্যুৎ ভবন’ প্রাঙ্গণে আয়োজিত ধরনায় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার তন্ময় বরা, চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার এ.জেড. মহম্মদ সুলেমান, কৃষ্ণেন্দু নাথ, অরিজিৎ দাস প্রমুখ পদস্থ আধিকারিকরা। কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সংগঠনের নেতৃত্ব নির্মল কুমার দাস ও বিশ্বজিৎ কর কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। প্রতিবাদ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাপি দাস, যিশু নাথ, সন্তোষ রায়, দিব্যেন্দু দাস ও বিজিত ভট্টাচার্য সহ অন্যান্যরা।
অন্যদিকে, শিলচর বিদ্যুৎ বিভাগের পানপট্টি অফিস প্রাঙ্গণেও সমান্তরালভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। সেখানে আন্দোলনের সমর্থনে বক্তব্য পেশ করেন চঞ্চল ভট্টাচার্য, তাপস রঞ্জন আয়ন, রাজু ভার্মা, চিত্রভানু ভৌমিক ও গৌরাঙ্গ বণিক। এই কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন অরূপ পাল, কল্লোল দেবরায় ও মলয় ভট্টাচার্য সহ বহু সাধারণ কর্মী।
আন্দোলনের লক্ষ্য ও প্রাসঙ্গিকতা ব্যাখ্যা করে কো-অর্ডিনেশন কমিটির কাছাড় সার্কলের যুগ্ম আহ্বায়ক নির্মল কুমার দাস এক বিবৃতিতে জানান, মূলত চার দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যেই এই প্রতিবাদী আন্দোলন গড়ে তোলা হয়েছে। তিনি বলেন, “জনবিরোধী বিদ্যুৎ সংশোধনী বিল ২০২৫ এবং জাতীয় বিদ্যুৎ নীতি ২০২৬ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
এর পাশাপাশি শ্রমিক-কর্মচারীদের মৌলিক অধিকার খর্বকারী নয়া শ্রম কোড প্রত্যাহার, কৃষকদের ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP) নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ বিভাগে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বন্ধ করে সমস্ত অস্থায়ী কর্মীকে অবিলম্বে নিয়মিত করার দাবিতেই আমাদের এই আপসহীন লড়াই চলবে।”
বিদ্যুৎ কর্মীদের এই আন্দোলনে সাধারণ জনজীবনে প্রভাব পড়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ পরিষেবার ক্ষেত্রেও কর্মীরা তাঁদের ক্ষোভ উগরে দেন। সরকার এই দাবিগুলো মেনে না নিলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।



