তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ভারতীয় ঐতিহ্য প্রসারে বিশেষ উদ্যোগ
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
শিলচর। কাছাড় কলেজ হেরিটেজ ক্লাব এবং ‘সোসাইটি ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্ডিয়ান ক্লাসিক্যাল মিউজিক অ্যান্ড কালচার অ্যামংস্ট ইয়ুথ’ (স্পিক ম্যাকে)-এর যৌথ উদ্যোগে সোমবার কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ধ্রুপদী সংগীতের এক মনোজ্ঞ আসর। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের চিরন্তন ধারা ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এদিনের আসরে মুখ্য শিল্পী হিসেবে বিশ্ববিখ্যাত সরোদবাদক পদ্মশ্রী তেজেন্দ্রনারায়ণ মজুমদারের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও, আকস্মিক মাতৃবিয়োগের কারণে তিনি আসতে পারেননি। তাঁর পরিবর্তে আসর অলঙ্কৃত করেন প্রখ্যাত হিন্দুস্তানি কণ্ঠশিল্পী ওস্তাদ আরশাদ আলি খান। আবদুল ওয়াহিদ খান ও আবদুল করিম খানের ঐতিহ্যবাহী সংগীত ঘরানার সুযোগ্য উত্তরসূরি আরশাদ আলি খান দীর্ঘকাল কলকাতার আইটিসি সংগীত গবেষণা একাডেমির সঙ্গে যুক্ত।

সংগীত নাটক একাডেমি প্রদত্ত ‘ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খান যুব পুরস্কার’ সহ বহু সম্মানে ভূষিত এই শিল্পীর শাস্ত্রীয় পরিবেশনায় মুগ্ধ হন উপস্থিত শ্রোতারা। তবলায় তাঁকে যোগ্য সঙ্গত করেন স্বনামধন্য শিল্পী সন্দীপ ঘোষ এবং হারমোনিয়ামে ছিলেন বরাক উপত্যকার বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী পঙ্কজ শীল। শিল্পীদের সুদক্ষ আলাপ, তান ও লয়ের জাদুতে এদিন মুখরিত হয়ে ওঠে কলেজ চত্বর।
উল্লেখ্য, ১৯৭৭ সালে পদ্মশ্রী কিরণ শেঠের হাত ধরে ‘স্পিক ম্যাকে’ আন্দোলনের পথচলা শুরু হয়েছিল। দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে ভারতীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে ছাত্রছাত্রীদের সচেতন করে তোলাই এই সংস্থার মূল লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে শ্রোতা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরাক উপত্যকার বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও সংগীত অনুরাগী। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন প্রখ্যাত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী বিশ্বজিৎ রায়চৌধুরী, দীপক বক্সি, সুতপা বক্সি, বাসুদেব ভট্টাচার্য, নীলাক্ষ চৌধুরী, তবলাবাদক নিলয় দত্ত ও সঞ্জয় প্রকাশ দাস। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন নিবন্ধক ড. সঞ্জীব ভট্টাচার্য, স্পিক ম্যাকের প্রতিনিধি সুজিত কুমার খাণ্ডেলওয়াল ও সঞ্জীব রায় প্রমুখ।
এদিন প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। শুরুতেই সুমনা দেবরায় ও অপূর্বা দাসের কণ্ঠে পরিবেশিত হয় দীপমন্ত্র। এরপর শাস্ত্রীয় নৃত্যে মুগ্ধতা ছড়ান কলেজের ছাত্রী ঋতিকা দেবনাথ। আমন্ত্রিত শিল্পীদের কলেজের পক্ষ থেকে উত্তরীয় ও স্মারক দিয়ে যথাযথ সম্মাননা জানানো হয়।
কলেজের অধ্যক্ষ ড. অপ্রতিম নাগের অনুপ্রেরণায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি সফল করতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন উপাধ্যক্ষ মহম্মদ সামসুদ্দিন এবং আহ্বায়িকা ড. পারমিতা দাস। সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপিকা নবরূপা ধর। এছাড়াও ড. পদ্মশ্রী চক্রবর্তী, ড. সুচরিতা চৌধুরী, ড. পার্থজিৎ ভাওয়াল সহ শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীদের সক্রিয় সহযোগিতা অনুষ্ঠানটিকে পূর্ণতা দান করে। পরিশেষে সমবেত কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে এই সুরের আসরের সমাপ্তি ঘটে।



